১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থী স্রোতে বদলে যাচ্ছে জার্মান শহর এরফুর্ত

  • এনেছে সহমর্মিতার পাশাপাশি উৎকণ্ঠাও

জার্মানির ছোট শহর এরফুর্ত। সাবেক পূর্ব জার্মানির প্রান্তে অবস্থিত শহরটির একটি স্কুল জিমনেসিয়ামে সমবেতদের মেজাজ মর্জি ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাচ্ছে। নগর কর্মকর্তারা নিকটবর্তী উঁচু ভবনাদির বাসিন্দাদের একথা ব্যাখ্যা করার জন্য ডেকেছেন যে, একদল অভিবাসপ্রাত্যাশীকে যাদের অধিকাংশই সিরীয়, তাদের জন্য আগের রাতে কাছাকাছি এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন বয়স্ক মহিলা মাইক্রোফোনের দিকে এগিয়ে আসলেন।

তিনি প্রশ্ন করলেন : ‘আপনারা কি আগামীতে একটি মসজিদ তৈরি করতে যাচ্ছেন? তারা কি ভোর ৫টায় তাদের নামাজের সময় আমাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেবেন?’ একজন স্কুলশিক্ষকের প্রশ্ন : ‘আমরা আমাদের শিশুদের কিভাবে রক্ষা করব?’ একজন তরুণ কোন প্রশ্ন উত্থাপনেরই প্রয়োজন বোধ করল না। মৃদু হর্ষধ্বনির মধ্যে সে ঘোষণা করল, এটা বন্ধ করতে হবে। এটি এ শহরে প্রধানত মুসলিম অভিবাসীদের এক নজিরবিহীন স্রোত। যে শহর এই সেদিন পর্যন্তও এত শ্বেতাঙ্গপ্রধান ছিল যে, স্থানীয় গ্রীন পার্টির একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ ‘এরফুর্তের আফ্রিকান’ বলে পরিচিতি পেয়েছিল। শহরটির জনসংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার। ষোড়শ শতাব্দীর জার্মান ধর্মীয় নেতা মার্টিন লুথার একসময় এখানে থাকতেন। বহু গির্জা থাকার জন্য কখনও কখনও শরটিকে রোম অব থুরিঙ্গিয়াও বলা হয়। স্থানীয় বিশেষ ধরনের পর্ক সসেজের জন্যও এর খ্যাতি আছে। মেয়র হিসাব করে দেখেছেন, সাম্প্রতিকাল পর্যন্ত এর মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৫ শ’। তবে আগামী বড়দিন নাগাদ ৪ হাজারের মতো অভিবাসী, যাদের অনেকেই মুসলিম দেশের, এখানে বসতি স্থাপন করতে পারে। মেয়র আঁদ্রিয়াস বাউসেউইন বললেন, ‘এরফুর্ত বদলিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাড়ির পাশেই অভিবাসীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। তাঁর ছোট মেয়ের ক্লাশে এখন একটি আফগান মেয়ে ভর্তি হয়েছে। চলাফেরার জন্য সে একটি হুইলচেয়ার ব্যবহার করে। বাউসেউইন বলেন, ‘বোমার শিকার’। গত সপ্তাহান্তে তিনি তার কর্মচারীদের বলছেন, অভিবাসী সঙ্কট জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের পর বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ। এখন তিনি বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ। এ বছরের শেষ নাগাদ জার্মানিতে প্রায় ৮ লাখ শরণার্থীর আগমন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতে দেশটি একট জীবন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে পতিত হবে, যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনেকের মতে কমিউনিজমের পতনের চেয়ে বেশি রূপান্তর ঘটাবে।

যুদ্ধ এবং সংঘাতবিদীর্ণ সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও অন্য স্থান থেকে আগমনকারী হাজার হাজার মানুষের প্রতি চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেলের দুহাত বাড়িয়ে স্বাগত জানানোর পর এরফুর্তের মতো সাধারণ শহর হঠাৎ করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। জুন মাস থেকে যেখানে প্রতিমাসে ১শ’ করে অভিবাসী আসত এখন ১ সপ্তাহে অভিবাসীদের সংখ্যা ৩শ’তে উন্নীত হয়েছে। এখানে, অন্যান্য রাজ্য, নগর ও শহরে তাদের আগমনজনিত প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পর্যায় থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় কার্যকর হবে কিংবা হবে না। কার্যকর করতে হলে শয়নকক্ষ ও স্নানের স্থান, অনুবাদক ও শিক্ষক, সমাজকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তা, বসতঘর ও শ্রেণীকক্ষ, চাকরি ও অর্থের জোগান থাকতে হবে। সেখানে অবশ্যই গড়পড়তা জার্মানদের সহযোগিতা থাকতে হবে। তাদের অনেকেই উদারভাবে জার্মানদের স্বাগত জানিয়েছে। Ñইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।