২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লোপেজের আসল পরীক্ষা সাফ ফুটবলে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। ডাচ্ম্যান লোডভিক ডি ক্রুইফ যুগের সমাপ্তি ঘটেছে। এবার ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের অধীনে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা নতুনভাবে শুরু করবেন। জর্দানের বিপক্ষে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের হোম ম্যাচে ৪-০ গোলে হারার পরই ক্রুইফের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। দেশের ফুটবলের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন কোচ হিসেবে লোপেজকে দায়িত্ব দেয় বাফুফে। এবার নতুন করে ভিন্ন কৌশল রপ্ত করার পালা ফুটবলারদের। তবে অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম আশা করছেন নতুন কোচের অধীনে আরও ভাল করবে বাংলাদেশ দল। তার আশা নতুন কোচের কৌশল দ্রুত রপ্ত করে তা মাঠে প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন দলের সবাই। আর কোচ লোপেজ এখনও মাঠের কার্যকর কোন কর্মযজ্ঞ শুরু করেননি। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও জর্দানের বিপক্ষে মাঠে বসে ম্যাচ দেখে বাংলাদেশকে ভাল দল মনে হয়েছে তার। জানিয়েছেন মূল লক্ষ্য আগের চেয়ে দলকে উন্নত করা এবং সাফ চ্যাম্পিয়ন করা।

মাত্র চার মাস সময় পাবেন লোপেজ। এর মধ্যেই নিজের কর্মদক্ষতা দেখানোর সুযোগ। এ সময়ের মধ্যে মূলত ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলে এশিয়া অঞ্চলের বাছাই পর্বের ফিরতি পর্বের খেলা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপ বিবেচিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আসর। আর ওই আসর শেষেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে লোপেজের সঙ্গে। এর মধ্যে দলকে ভাল কিছু উপহার দিতে পারলে কিংবা উন্নতির ছাপ দেখাতে পারলে হয়তো চুক্তির মেয়াদ বর্ধিত হতে পারে। এ বিষয়ে লোপেজ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ দল নিয়ে আশাবাদী। ইতোমধ্যেই তাদের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও জর্দানের বিপক্ষে আমি মাঠে বসে দেখেছি। খেলা দেখার পর মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল বেশ ভাল। কয়েকজন ভালমানের খেলোয়াড় আছে। আমার মূল লক্ষ্য আগামী বছর সাফ ফুটবল। এ আসরে আমি বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে চাই। আমি চাই বাংলাদেশ দলকে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী করতে।’ ৪ মাসের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে বাফুফের সঙ্গে, তাই চ্যালেঞ্জটা লোপেজেরও। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাফুফের সঙ্গে এর মধ্যে যে কথা হয়েছে সেখানে প্রাথমিকভাবে ৪ মাসের চুক্তি আমার সঙ্গে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার। দলকে যেমন দেখেছি, অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় পেলে হয়তো আমরা এখানে চ্যাম্পিয়ন করতে পারব। তবে আমি যাদুকর নই। আশা করব ছেলেরা আমার শেখানো কৌশল রপ্ত করে মাঠে প্রয়োগ করতে পারবে। খেলার দায়িত্ব তাদের আর শেখানোর দায়িত্ব আমার।’

সবমিলিয়ে ক্রুইফ অধ্যায় প্রায় আড়াই বছর ছিল বাংলাদেশ ফুটবলের সঙ্গে। তার কাজে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল। কিন্তু বাফুফের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার কারণে এ ডাচ্ কোচকে চলে যেতেই হলো। তবে নতুন কোচ নিয়ে আশাবাদী মামুনুল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন কোচ আশা করি ভাল হবে। তবে সব কোচদেরই সময় দেয়া উচিত। ক্রুইফ আড়াই বছর ধরে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ দলকে ফাইটিং ‘টিম বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। মাঠে আমরা যে ফলাফলই করি না কেন, তিনি একটা মজবুত জাতীয় দল গড়তে পেরেছেন। হয়তো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বনিবনা হয়নি এবং বাফুফে চায়নি আর চায়নি কোন কারণে। তবে আমাদের সেসব দেখার কোন কারণ নেই। দলের কোচ কে হবেন সেটা দেখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বাফুফের। যে কোচই আসবেন তার অধীনেই খেলতে প্রস্তুত আমরা।’ কৌশলে নতুনত্ব আসবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ বিভিন্ন কোচের চিন্তা-ভাবনা আলাদা। স্বকীয়তা নিয়েই কাজ করেন সবাই। এখন দেখার বিষয় লোপেজ কি নতুনত্ব আনেন। এ বিষয়টি নিয়ে মামুনুল বলেন, ‘নতুন কোচের কাছে ভাল কিছু আশা করছি। হয় তো তিনি নতুন করে সাজাবেন সবকিছু। একেক জন কোচের একেক রকম কৌশল থাকে। প্রতি টিমেই সে কারণে বিভিন্ন সময়ে নতুনত্ব আসে। এখন দেখার বিষয় তিনি কি নতুনত্ব আনেন। তিনি কি চাইছেন সেটা আমরা যত দ্রুত আয়ত্ত করতে পারব তত ভাল। সেটা আমাদের বুঝে উঠতেও কিছু সময় লাগবে। তবে আশা করছি কাজ শুরু করার পর আমরা দ্রুতই সেটা বুঝতে পারব।’ বাংলাদেশ দলকে অধিকাংশ সময় ৪-৪-২ কিংবা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলিয়েছেন ক্রুইফ। তবে প্রয়োজন অনুসারে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশলও প্রয়োগ করেছেন তিনি। এবার লোপেজ কোন কৌশলে আগুয়ান হবেন সেটা সময়ই বলে দেবে। মাঠে কিছুদিন কাজ করলেই অনেকখানি উন্মোচিত হবে লোপেজের স্বরূপ!