১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমতা ফেরাল ইংলিশরা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা দুই জয়ে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে ২-২-এ সমতা আনল ইংলিশরা। চতুর্থ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইয়ন মরগানের দল। প্রথম দুটিতে জিতেছিল সফরকারী অসিরা। আজকের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি তাই সিরিজ নির্ধারণী। লিডসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে কোন সেঞ্চুরি না এলেও ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪৮.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৯২ রান করে ম্যাচসেরা হন অধিনায়ক ইয়ন মরগান। আর কেউ হাফসেঞ্চুরিও করতে পারেননি! এর থেকেই বোঝা যায় স্বাগতিকদের সাফল্যময় ইনিংসটি ছিল মূলত দলীয় সমন্বয়ের ফসল। আউট হওয়ার আগে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু রান করে দিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সমান ৪১ রান করে করেন জেমস টেইলর ও বেন স্টোকস। শেষদিকে জনি বেয়ারস্টো ২৭ বলে ৩১, লিয়াম প্লাঙ্কেট ১০ বলে ১৭ এবং অলরাউন্ডার মঈন আলি ২৩ বলে অপরাজিত ২১ রনা করে দারুণ এক জয় এনে দেন। নইলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়াতে হতো টেস্টে এ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করা ইংলিশদের। অসিদের হয়ে দুই পেসার প্যাট কুমিন্স ৪ ও মিচেল মার্শ নেন ২টি করে উইকেট। ১ শিকার স্পিনার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের।

তবে বড় রান চেজ করে জয়ের বড় কৃতিত্ব অবশ্যই মরগানের। ৯২ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৯২ রান করে আউট হন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব পাওয়ার পর ২৬ ওয়ানডেতে মরগানের এটি ১৩তম হাফসেঞ্চুরি। সর্বোপরি ওয়ানডের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড এটি। যেটি আগে ছিল পূর্বসূরি এ্যালিস্টার কুকের দখলে। অধিনায়ক জীবনের প্রথম ২৬ ম্যাচে ১২ হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন বর্তমান টেস্ট ক্যাপ্টেন। ১১ করে হাফসেঞ্চুরিতে এ তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস ও ক্রিস গেইল। এদিন ইনিংসে ২ ছক্কা হাঁকান মরগান। ১২৭ ওয়ানডেতে তার মোট ছক্কা এখন ৯৪, ইংল্যান্ডের হয়ে যা নতুন রেকর্ড। ৯২ ও ৭৬ ছক্কা নিয়ে তার পেছনে এ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ও কেভিন পিটারসেন। টস জিতে ব্যাটিং নেয়া অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শুরুটা দেখে মনে হয়নি ফাইট দেয়ার মতো স্কোর পাবেন স্টিভেন স্মিথরা। ৬.২ ওভারে দলীয় ৩০ রানের মধ্যে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় অতিথিরা। ওপেনার জো বার্নস ২ ও এ্যারন ফিঞ্চ ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ব্যক্তিগত ৫ রানে প্যাভিলিয়নমুখী হন বড় ভরসা অধিনায়ক স্মিথ। এরপরই হাল ধরেন জর্জ বেইলি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সাবেক অধিনায়ক বেইলি ১১০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৭৫ রান। তবে ম্যাক্স ছিলেন আক্রমণাত্মক। স্পিনার মঈন আলির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬৪ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন কিছুদিন দলে বাইরে থাকা এই মারকাটারি ব্যাটসম্যান। এক পর্যায়ে ৩০ ওভারে ১৬৭ রান করা অস্ট্রেলিয়াকে এরপর বড় স্কোর পেতে সাহায্য করেন টেলএন্ডাররা। সমান ৩টি করে চার ও ছক্কায় ২৬ বলে ৫০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড, জন হ্যাস্টিংস ২৬ বলে ৩৪। অতিরিক্ত থেকে আসে ১২ রান। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ঠিক ৩০০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

স্কোর ॥ অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ২৯৯/৭ (৫০ ওভার; ম্যাক্সওয়েল ৮৫, বেইলি ৭৫, ওয়েড ৫০*, হেস্টিংস ৩৪*, মিচেল মার্শ ১৭, ফিঞ্চ ১৫, স্মিথ ৫, স্টয়নিস ৪, বার্নস ২; উইলি ৩/৫১, মঈন ২/৪০, প্ল্যাঙ্কেট ২/৪৭)

ইংল্যান্ড ইনিংস ৩০৪/৭ (৪৮.২ ওভার; মরগান ৯২, টেইলর ৪১, স্টোকস ৪১, রয় ৩৬, বেয়ারস্টো ৩১, মঈন ২১*, প্ল্যাঙ্কেট ১৭, উইলি ১২*, হেলেস ০; কুমিন্স ৪/৪৯, মার্শ ২/৫২, ম্যাক্সওয়েল ১/৫৪)। ফল ॥ ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা ॥ মরগান (ইংল্যান্ড)। সিরিজ ॥ পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ ২-২এ চলমান