২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছেন রাফি হাসান

  • অস্ত্রোপচারের পর মাঠে ফেরার প্রহর গুনছে জাতীয় অনুর্ধ ১৯ দলের এই ফুটবলার

রুমেল খান ॥ প্রতিভা থাকলে তা বিকশিত হবেই। কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারে না। তাকে শুধু সুযোগ করে দিতে হয়। কিন্তু অপার সম্ভাবনাময় সেই প্রতিভা বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে অঙ্কুরেই। সেটা ‘ইনজুরি’ নামক এক সর্বনাশা অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায়। এমনই অবস্থা হয়েছে রাফি হাসানের। দরিদ্র অথচ মেধাবী ও তুখোড় এক ফুটবলার। খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ ১৯ দলে। সতীর্থরা যখন মাঠ দাপিয়ে ফুটবল খেলছে, তখন সে অসহায় দৃষ্টি নিয়ে তাদের খেলা দেখেছে টিভি পর্দায়! মারাত্মক চোট পাওয়ায় সে খেলতে পারেনি ক’দিন আগে নেপালে অনুষ্ঠেয় সাফ অনুর্ধ ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে।

যার স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলা, সে এখন চলছে ক্রাচে ভর দিয়ে! অমিত সম্ভাবনা থাকলেও এখন অসহায়ের মতো দিন পার করছে হাসান রাফি! ভাগ্য ভাল থাকলে সে অনুর্ধ ১৯ দলের হয়ে মাঠ মাতাতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য যার সঙ্গী, তার তো আর কপালে সুখ সয় না। তাই সতীর্থরা যখন রীতিমতো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঠিক তখনই তাকে যেতে হয়েছে সার্জনের ছুরির নিচে। কিভাবে হলো এসব? রাফির ভাষ্য, ‘৩ আগস্টের ঘটনা। বাফুফে আর্টিফিসিয়াল টার্ফে আমাদের অনুশীলন। এক পর্যায়ে কোচ সাইফুল বারী টিটু আমাদের একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলান। এক দলে খেলোয়াড় ছয় জন। খেলার এক পর্যায়ে আমি প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ট্যাকল করতে গিয়ে ডান পায়ে প্রচ- ব্যথা অনুভব করি। সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ ছাড়ি। ক্যাম্পে ফিরি। টিম ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেন, তেমন গুরুতর কিছু নয়। ভাল হয়ে যাবে। এরপর থেরাপি দেয়া হয় আমার পায়ে। কিন্তু তাতে কোন উন্নতি হয়নি, বরং ক’দিন পর পা ফুলে যায়। এরপর বিকেএসপির ড. দেবাশীষের কাছে যাই। তিনিই পরীক্ষা করে সর্বপ্রথম ধরতে পারেন, আমার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে!’ ভয়াবহ এই ইনজুরির কারণে নেপালগামী স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে সে। তাকে ছাড়াই দল নেপাল চলে যায় ১৮ আগস্ট। লিগামেন্ট ছেঁড়ার কথা শুনে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে রাফির মাথায়। লিগামেন্ট ছেঁড়ার কথা নয়, পায়ের অপারেশনের খরচের কথা শুনে। সেটা প্রায় দুই লাখ টাকা! এত টাকা কোথায় পাবে সে? কেননা, তার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল! বাবা মোস্তফা কামাল ছিলেন শিক্ষক। মারা গেছেন দশ বছর আগে। তার পাঁচ ছেলেমেয়ে। রাফি সবার ছোট। ভাই-বোনের কারুরই উপার্জন আহামরি নয়। তাহলে উপায়?

উপায় হলো। ‘দেবদূত’ হিসেবে আবির্ভূত হলেন একজন। তিনি একসময় তিনি খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে। এখন খেলছেন পেশাদার লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একটি ক্লাবে। এ প্রসঙ্গে রাফি বলে, ‘উনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। আমার অপারেশনের খরচের বড় একটা অংশ তিনিই দিয়েছেন। বাকি টাকাটা দিয়েছে আমার বড় বোন।’

রাফি আরও জানায়, রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইতোমধ্যেই (গত মঙ্গলবার) তার পায়ের সফল অপারেশন করেছেন ড. নন্দন কুমার। হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়েছে গত বৃহস্পতিবার। সোমবার আবার হাসপাতালে গিয়ে দেখিয়ে আসতে হবে সোমবার। ডাক্তার বলেছেন, এখনও ঠিক বলা যাচ্ছে না রাফি কবে নাগাদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও ফুটবল খেলতে পারবে।

চাঁদপুরের ছেলে রাফি খেলে স্টপার পজিশনে। এর আগে সে খেলেছে চাঁদপুর বিশনদী ক্লাব, ইয়ংমেন্স ফকিরাপুল, শেখ রাসেল (অনুর্ধ ১৬) ক্রীড়া চক্র, লিটিল ফ্রেন্ডস (দ্বিতীয় বিভাগের দল)। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলত সে। তবে বুট পরে সিরিয়াসলি খেলা শুরু করে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়। যিনি তাকে প্রথম বুটজোড়া কিনে দিয়েছিলেন, যার বদৌলতে রাফি বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়েছে, সব সময় পরামর্শ পেয়েছে নিজের এলাকারই সেই স্বনামধন্য ফুটবলার রেজাউল রেজার অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে রাফি, ‘অনেক কষ্ট করে ফুটবল জগতে এসেছি। রেজা ভাই না থাকলে সেটা সম্ভব হতো না। রাফির আদর্শ ফুটবলার দুজন। বিদেশে আর্জেন্টিনার জাভিয়ের মাশ্চেরানো। আর দেশে? রেজাউল রেজা। যিনি রাফির আদর্শ, সেই রেজা কি বলেন রাফি সম্পর্কে? ‘রাফি খুব ভাল, মেধাবী ফুটবলার। গরিব পরিবারের ছেলে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে ইনজুরিতে পড়েছে। অপারেশন হয়েছে, আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে সে। অপারেশনের অর্থ তাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট করে সংগ্রহ করতে হয়েছে। অপারেশনের পরও ওষুধপত্র বাবদ আরও খরচ আছে তার। দুর্ভাগ্য, বাফুফে এ ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আশা করব, এরপর তারা যেন রাফিকে এ ব্যাপারে সাহায্য করে।’