২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আর মাত্র ১৫ দিন আছে। এরপরই ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পা রাখবে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলা। ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম ও ১৭ অক্টোবর মিরপুরে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি শুরু হবে। এ টেস্ট সিরিজ নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

অসি কোচ ড্যারেন লেহম্যান বলেই দিয়েছেন, ‘নতুন করে শুরু করা খুব চ্যালেঞ্জিং হবে।’ এই নতুনের চিন্তা আসছে একটি কারণেই, দলে যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নেই। রায়ান হ্যারিস অবসর নিয়েছেন। এরপর এ্যাশেজে ভরাডুবির পর মাইকেল ক্লার্ক, ক্রিস রজার্সও অবসরে গেছেন। শেন ওয়াটসনও অবসর নিয়ে ফেলেছেন। শেষে ব্র্যাড হ্যাডিনও একই পথের পথিক হয়েছেন। ৫ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যখন অবসর নিয়ে নেন, তখন বড় সঙ্কটের মধ্যেই যে কোন দলেরই পড়ার কথা। অস্ট্রেলিয়া সেই সঙ্কটেই পড়ে গেছে। যখন বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া, এর আগে ডেভিড ওয়ার্নারও ইনজুরির জন্য খেলতে পারবেন না; তা নিশ্চিত হয়ে যায়। তার মানে, বাংলাদেশ সফরের আগে ৬ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকছেন না। এরসঙ্গে আবার পেসার জনসনকে বিশ্রাম দেয়ার কথা বলে দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তাতে ৭ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বাংলাদেশ সফরে না থাকা নিশ্চিত হয়ে গেল। বোঝাই যাচ্ছে, এই ৭ জনের বদলি হিসেবে তরুণদেরই সুযোগ করে দিতে হবে। আর তাতেই বাংলাদেশ সফর নিয়ে যত ভয় অস্ট্রেলিয়ার। এত অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের একসঙ্গে দলে না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ ড্যারেন লেহম্যান। তিনি বলেন, ‘এটা অনুমিতই ছিল, আমরা যে দলটা নিয়ে ইংল্যান্ড এসেছিলাম (এ্যাশেজ খেলতে), আপনি যদি ওদের বয়স দেখেন এবং ওরা কী অবস্থায় ছিল সেটা বিবেচনা করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, বেশির ভাগেরই এখানে শেষ হওয়ার কথা ছিল। হয়তো ফলটা একটু ভাল হতে পারত। কিন্তু অনেকেই যে চলে যাবে, এটা প্রত্যাশিতই ছিল।’ এরপর যোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটা অভিজ্ঞ দল নিয়ে খেলেছি। এখন আর সেটা নেই। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য দেশের বাইরে (বাংলাদেশে) পারফর্ম করা, দল হিসেবে নতুন করে শুরু করা খুব চ্যালেঞ্জিং হবে।’

সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসর আর অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ইনজুরি ভাবিয়ে তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টকেও। যত দিন যাচ্ছে অজি ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকদের কপালে চিন্তার কালো মেঘ জমছে। আবার বিভিন্ন অনলাইন সাইডের বরাতে জানা যাচ্ছে, জশ হ্যাজেলউডকেও বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। তাহলে তো পুরোদমে বিপাকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে অস্ট্রেলিয়ার।

আবার এ্যাঙ্কেল ইনজুরিতে রয়েছেন পেসার মিচেল স্টার্ক। তাকে দ্রুত সারিয়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে অজিদের মেডিক্যাল স্টাফরা। এ জন্য ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ওয়ানডেতেও বিশ্রামে ছিলেন স্টার্ক। যদি শেষপর্যন্ত সেরে না ওঠেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়া বিপাকেই পড়ে যাবে। এ নিয়ে লেহম্যান বলেন, ‘আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে স্টার্ককে বিশ্রামে রেখেছিলাম। তবে, শীঘ্রই তাকে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামানোর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। নয় তো আসন্ন সিরিজে তাকে মাঠে পাব না আমরা।’

ওয়ার্নার ইনজুরিতে, সেই সঙ্গে ওপেনার ক্রিস রজার্স না থাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে অজিদের হয়ে নতুন ওপেনিং জুটি দেখা যাবে। নতুন জুটি এখন কতটা কী করতে পারে সেটিই দেখা যাবে। অস্ট্রেলিয়ার এমন অবস্থায় বাংলাদেশ কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহেও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাইতো বলেছেন, বাংলাদেশ আপসেট ঘটাতে পারে। জানিয়েছেন, ‘দলে যেই আসুক বা না আসুক, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি সত্যিই আশাবাদী। কারণ এই কন্ডিশন ওদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। আমরাও দল হিসেবে উন্নতি করছি। আমি আশাবাদী যে এমন কিছু আমরা করতে পারব ওদের বিপক্ষে, আগে যা কখনও করতে পারিনি। তবে এটাও বলতে হবে, অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে দেখার কিছু নেই। ক্রিকেটার বের করার সেরা সিস্টেমটা ওদের আছে। ওদের ‘এ’ দল সম্প্রতি ভারতে দারুণ খেলেছে। কাজেই এই সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবেই।’ বাংলাদেশ যেভাবে উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে তাতে অস্ট্রেলিয়া তরুণ দল নিয়ে খেলতে এসে বিপাকে পড়ে যেতে পারে। আর এ জন্যই বাংলাদেশ সফর নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।