২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের প্রত্যাশা তামিমের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইংল্যান্ডের কাছে এ্যাশেজ হারের পরও টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ২ নম্বর স্থানটিতেই আছে অস্ট্রেলিয়া। এই দলটির বিপক্ষেই অক্টোবরে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আর সেই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল। যে কাজটি এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশ করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি। এমনকি কোন টেস্টে ড্র’ও করতে পারেনি।

ফ্রেস প্রতিষ্ঠানের এ্যাম্বাসেডর হয়েছেন তামিম ইকবাল। চুক্তি অনুষ্ঠানেই তামিম এ নিয়ে জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তাদের (অস্ট্রেলিয়াকে) হারাতে আমরা সেরা ক্রিকেটটাই খেলব।’

বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখে। সেই থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ টেস্ট খেলার সুযোগ পায়। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়াতে দুটি (দুই ম্যাচের সিরিজ) আর সর্বশেষ ২০০৬ সালে বাংলাদেশে দুটি। এ চার টেস্টের সবকটিতে বাংলাদেশ হারে। ২০০৬ সালে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেও ৩ উইকেটের হার হয়। এছাড়া সব টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। সাড়ে ৯ বছর পর আবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলা হবে। যে অস্ট্রেলিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেই পারত না বাংলাদেশ, সেই দলটিকেই এখন হারানোর স্বপ্নও দেখা হচ্ছে।

এর কারণ আর কিছুই নয়, বাংলাদেশের সাফল্য। ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলতে থাকা দলটি টেস্টেও ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। সর্বশেষ ৮ টেস্টের মধ্যে মাত্র ১ টেস্টে হেরেছে বাংলাদেশ! জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টানা ৩ টেস্ট জিতে নিয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের একটিতে হারলেও একটি টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করেছেন তামিম, ইমরুলরা। আর ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি ড্র করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বৃষ্টিতে দুটি টেস্টই ড্র করেছে মুশফিকুর রহীমের দল। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুটি টেস্টেই অবশ্য বাংলাদেশ ভাল খেলাও প্রদর্শন করেছে। কিন্তু বৃষ্টিতে শেষপর্যন্ত পুরো খেলা হয়নি।

বছরের শেষ টেস্ট সিরিজটি বাংলাদেশ খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই। সেই সিরিজে সফরকারীদের হারানোর দিকেই মনোযোগী বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। এর পেছনে কারণও আছে। দলটি একেবারে তরুণ দল হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ্যাশেজে হারের পর অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, ক্রিস রজার্স, শেন ওয়াটসন, ব্র্যাড হ্যাডিন অবসর নিয়ে ফেলেছেন। এর আগে রায়ান হ্যারিসও সেই পথেই হেঁটেছেন। ইনজুরির জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ডেভিড ওয়ার্নার। বিশ্রামে থাকবেন পেসার মিচেল জনসন। জস হ্যাজলউডকেও বিশ্রামে রাখা হতে পারে। এত অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ছাড়া বাংলাদেশে খেলতে আসবে অস্ট্রেলিয়া। তাতে অসিদের বিপাকে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই তামিম ভাবছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্টই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন টেস্টে র‌্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। আমাদের লক্ষ্যই থাকবে সেরাটা দেয়ার। অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নেই তাদের। তরুণ দলই আসবে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, তারা পেশাদার দল। আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর জন্য সেরাটাই খেলব।’ তামিমের স্বপ্ন এখন পূরণ হয় গেলেই হয়। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারানো যাবে।