২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগদার দরপতন

  • তিন মাস আগে দাম ছিল ১৩শ’, এখন আট শ’ টাকা

বাবুল সরদার, বাগেরহাট ॥ জেলার ‘হোয়াইট গোল্ড’ খ্যাত বাগদা চিংড়ির দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় চিংড়ি চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম কেজিতে চার থেকে পাঁচ শ’ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আবার বাগদা চিংড়ির দাম কমে যাওয়ায় ডিপো মালিকরা নগদ অর্থে চিংড়ি কিনতে চাচ্ছেন না। দ্রুত পচনশীল হওয়ায় চাষীরা বাকিতে চিংড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন উভয় সঙ্কটে চিংড়ি চাষীরা হাপিত্যেশ করছে। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ চিংড়ি শিল্পে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একাধিক ডিপো মালিক চাষীদের কাছ থেকে বাকিতে চিংড়ি কেনার কথা স্বীকার করেছেন। ফলে এ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার চাষী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কবেনাগাদ চিংড়ির বাজার স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

গত তিন মাস ধরে বাগদা চিংড়ির এ অবস্থা চলছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন চিংড়ির দাম ওঠানামার বিষয়টি তদারকিসহ চিংড়ি শিল্পের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন চিংড়ি চাষীরা। বাগেরহাটের চিংড়ি বেচাকেনার অন্যতম বারাকপুর বাজারের মৎস্য আড়তের ডিপো মালিক ও চাষীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি মৌসুমে বাগদা চিংড়ির বাজার দর বর্তমানে ১৫ গ্রেড ৮০০ টাকা যা তিন মাস আগে ছিল ১৩০০ টাকা, ২০ গ্রেড ৭০০ টাকা যা আগে ছিল ১১০০ টাকা, ৩০ গ্রেড ৬০০ টাকা যা আগে ছিল ৮৫০ টাকা, ৪৪ গ্রেড ৪০০ টাকা যা আগে ছিল ৬০০ টাকা এবং ৬৬ গ্রেড ২০০ টাকা যা আগে ছিল ৪৫০ টাকা।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম বলেন, চিংড়ি উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা বাগেরহাট। এই জেলার শতকরা সত্তর ভাগ মানুষ এই পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এ বছর মৌসুমের শুরুতে চিংড়ি ঘেরে সংক্রমিত ভাইরাস রোগ হয়। ঘের মালিকরা এ ভাইরাসের প্রকোপ কাটিয়ে উঠে ঘেরে চিংড়ির উৎপাদন ভাল পায়। ঘেরে উৎপাদিত চিংড়ি মৌসুমের প্রথমদিকে বাজারে দামও ছিল মোটামুটি ভাল। কিন্তু তিন মাস আগে হঠাৎ করে বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম অস্বাভাবিকহারে কমে যায়। তিন মাস আগে চাষীরা যে চিংড়ি ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে, তা এখন ৬ থেকে সাত শ’ টাকায় বিক্রি করছে। কেজিপ্রতি চার থেকে পাঁচ শ’ টাকা কম। একদিকে চিংড়ির দাম কম, অন্যদিকে তা আবার ডিপো মালিকদের কাছে বাকিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ জেলার চিংড়ি চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার নিরসন করা না গেলে চাষীরা চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারাবে। তাই চিংড়ি চাষী ও ব্যবসায়ীরা সরকারকে বাইরের নতুন নতুন চিংড়ির বাজার সৃষ্টি করার দাবি জানিয়েছেন।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য বিভাগের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র ম-ল বাগদা চিংড়ির দাম কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হিসাব অনুযায়ী এ বছর জেলার নয়টি উপজেলায় মোট সত্তর হাজার হেক্টর জমিতে বাগদা ও গলদা চিংড়ির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ৩৯ হাজার ঘেরে বাগদা চিংড়ির চাষ করা হয়েছে। জেলায় বাগদা চিংড়ির বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ২৭১ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা সমস্যা ছিল। এ বছর বাগদা উৎপাদন ভাল। বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা বাগেরহাট। প্রথমদিকে চাষীরা মাছের দামও ভাল পেয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে চিংড়ির বাজার দর পড়ে যাওয়ায় চাষীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।