১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ অফিসে দালালচক্র বেপরোয়া

  • সাংবাদিক লাঞ্ছিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ১২ সেপ্টেম্বর ॥ লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। কার্যালয়ের মোটর পরিদর্শক নাজমুল হাসান ও সহকারী পরিচালক আইনুল হুদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাসোয়ারার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দালালচক্রকে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কার্যালয়ে টেবিল পেতে কর্মচারী সেজে কাজ করার সময় কামাল উদ্দিন নামে চিহ্নিত দালালের ছবি তুলতে গেলে মোটর পরিদর্শকের নেতৃত্বে সাংবাদিককে শারীরিক লাঞ্ছিত করা হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয় সাংবাদিকের ক্যামেরা। আহত সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, গত কয়েক বছর থেকে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল সিন্ডিকেট নানাভাবে গ্রাহকদের হয়রানি করে আসছে। ২০১৩ সালে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েক দালালকে কারাদ- দেয়। এতে গ্রাহকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি আসে। পরে এ বছরের শুরুতে ওই কার্যালয়ে মোটর পরিদর্শক হিসেবে নাজমুল হাসান দায়িত্ব নেয়ার পর আবারও দালালদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছে।

মাসোয়ারা আদায় করতে তিনি নিজেই দালাল নিয়োগ করেন। অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় পরিদর্শক নাজমুল তার দুই কর্মচারী ও সাঙ্গোপাঙ্গ দালালদের হাতে একাধিক গ্রাহক লাঞ্ছিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোটর পরিদর্শক নাজমুল প্রতিটি ট্রাক ও পিকআপ ফিটনেস ফাইলে স্বাক্ষর দিতে দালালদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা, প্রতিটি সিএনজি অটোরিক্সার ফিটনেস ফাইলে স্বাক্ষর করতে ৩০০ টাকা, মোটর সাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে ৩০০ টাকা, ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করতে ৫০০ টাকা নিয়ে থাকেন। এছাড়া মোটা অংকের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবৈধকাজের বৈধতা দিয়ে থাকেন। আর এসব কাজে নির্ধারিত সরকারী ফি ছাড়াও দালালরা গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন থেকে ছয় হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কার্যালয়ে কামাল উদ্দিন নামে চিহ্নিত দালাল টেবিল পেতে কর্মচারী সেজে সরকারী নিয়মবহির্ভূত কাজ করার ছবি ক্যামেরায় ধারণ করে স্থানীয় সাংবাদিক। এ সময় মোটরযান পরিদর্শক নাজমুল হাসান তার কক্ষ থেকে তেড়ে এসে সংবাদকর্র্মীকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে একটি জাতীয় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। হামলায় ওই কার্যালয়ের কর্মচারী আবদুস সামাদ, দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েক দালাল অংশ নেয়। পরে কয়েক গ্রাহক তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মোটর পরিদর্শক নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সহকারী পরিচালক আইনুল হুদা চৌধুরী জানান, দালালদের কাছ থেকে মাসিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তবে মোটর পরিদর্শক নাজমুল হাসানের বিষয়টি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলা ও গ্রাহকদের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী জানান, লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের কর্মচারীদের শেল্টারে দালাল চক্রের গ্রাহক হয়রানির একাধিক অভিযোগ তিনি শুনেছেন। সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।