১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়ায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এহসান সোসাইটি

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ ইসলামী শরিয়াহ্ অনুযায়ী পরিচালনা ও সঞ্চয়ের কথা বলে এহসান সোসাইটি নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতারিত এসব মানুষের বেশিরভাগই দরিদ্র। ভবিষ্যত ও মুনাফার কথা চিন্তা করে সঞ্চিত টাকা তারা তুলে দিয়েছিলেন। সদস্য ও টাকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম মুয়াজ্জিন, মুহতামিম, মুহাদ্দিছ ও খাদেমদের। অভিযোগ করা হয়েছে এহসান সোসাইটি ও এহসান রিয়েল এস্টেটে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে ওই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগকারী পথে বসেছেন। বগুড়ার প্রধান কার্যালয়ে তালা দিয়ে এর কর্মকর্তারা উধাও হয়েছে। এতে সোসাইটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তিলতিল করে জমানো সঞ্চয় খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আর এর সঙ্গে জড়িত মাঠকর্মীদেরও হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মীদের পক্ষে তাজুল ইসলাম নামে এক মাঠকর্মী ও প্রতারিত সঞ্চয়কারী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০৪ সালে বগুড়ায় এহসান সোসাইটি কার্যক্রম শুরু করে। এটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানির তালিকাভুক্ত। এর বেশিরভাগ মাঠকর্মী মসজিদ-মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সাধারণ মানুষদের সঙ্গে এসব মাঠকর্মী (এফও) এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম মোয়াজ্জিনরা এই সোসাইটির পক্ষে উৎসাহ দেয়ায় সাধারণ মানুষ দ্রুত উদ্বুদ্ধ হতে থাকে। প্রথমে এহ্সান সোসাইটির নামের সদস্য ও সঞ্চয় করা হলেও পরে ২০১১ সালে রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। বগুড়ার কলোনি এলাকায় আঞ্চলিক কার্যালয় ছাড়াও গাবতলী, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় অফিস খুলে সদস্য ও টাকা সংগ্রহ করা হয়। এহ্সান রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খাতে সদস্যদের কাছে থেকে ৫০ হাজার থেকে ৯/১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। আর সোসাইটির সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে মাসিক ও সপ্তাহে ৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়। এ সদস্যদের বেশিরভাগই দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের। এ ব্যাপারে এহসান সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে এমডি থেকে জিএম এবং বগুড়া শাখার প্রধান সমন্বয়কারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক দাউদ হায়দারকে। তিনি দাবি করেন, আমানতের পরিমাণ ৫ কোটি নয়, দেড় কোটির মতো হবে। টাকা প্রতারণার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে জানান, ব্যবসায় পদ্ধতিগত কিছু ভুল থাকায় সমস্যা ও কিছু ঘাটতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। ঈদের আগেই কিছু টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বগুড়া শাখা তালাবদ্ধ ও প্রধান সমন্বয়কারীসহ অন্য কর্মকর্তাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও কেন কার্যালয় বন্ধ করা হয়েছে সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। বিস্তারিত জানতে তিনি জনকণ্ঠ প্রতিবেদককে ২টি ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।