২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুখিকচুর বাম্পার ফলন, তবুও...

  • রাজীব হাসান কচি

ইলিশ মাছ দিয়ে মুখিকচু। আহা, এ স্বাদ যেন ভোলার নয়। তা হয় যদি চুয়াডাঙ্গার মুখিকচু, তবে তো কথাই নেই। চুয়াডাঙ্গার মুখিকচুর স্বাদ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কচু থেকে ভিন্ন। আর এ কারণেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চুয়াডাঙ্গার মুখিকচুর চাহিদা ব্যাপক। চুয়াডাঙ্গার অর্থনীতিতে এ কচু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কৃষকের মুখেও হাসি ফোটাতে ভূমিকা রাখছে এ কচু। এবারের মৌসুমে মুখিকচুর বাম্পার ফলন হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। বাজারে কচুর দাম বেশি থাকায় অন্য যে কোন বছরের থেকে কৃষকের লাভ বেশি হচ্ছে। শুধু চুয়াডাঙ্গায় এবার প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন কচু উৎপাদন করে প্রায় ১৮ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অফিস সূত্রানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৪৫ হেক্টর জমিতে মুখিকচুর আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫০০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা ১৫০ হেক্টর, দামুড়হুদায় ১২০ হেক্টর ও জীবননগরে ৭৫ হেক্টর জমিতে মুখিকচু চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মেট্রিক টন। চুয়াডাঙ্গা সদরে ১০ হাজার মেট্রিক টন, আলমডাঙ্গায় ৩ হাজার মেট্রিক টন, দামুড়হুদায় ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ও জীবননগরে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

এ হিসাবে জেলায় মোট উৎপাদন হবে ১৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন মুখিকচু। বালিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, জুনের শেষদিকে এসব কচু ক্ষেত থেকে তুলে বাজারজাত শুরু করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে উত্তোলন শেষ হবে। তাই মাঠে মাঠে এখন কচু তোলার ভরা মৌসুম চলছে। বাজারে সবজির দাম বেশি থাকায় চাহিদার থেকে কচুর দাম এবার বেশি পাচ্ছেন তারা। গত বছর ৩৫০-৪০০ টাকা মণ পেলেও এবার কচু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১২০ টাকা মণ দরে। এ বিষয়ে গাইদঘাট গ্রামের কচু চাষি রমজান আলি বলেনÑ ১ বিঘা কচু আবাদে ১৪-১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু জমির কচু ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আশা করছি বাকিটুকু আরও ৪৫-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। দিগড়ী গ্রামের চাষি জব্বারুল হোসেন বলেন, প্রতি বিঘায় কচু উৎপাদন হয় ৮০-১০০ মণ। খরচ বাদে এ বছর লাভ থাকছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা। চাষে অধিক মনযোগী হলে আরও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।

তবে কৃষক সাগর ভিন্ন কিন্তু বেদনাদায়ক একটি বিষয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা লাভ পাই না। ফরিয়ারা জমি থেকে ১৫-১৭ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যায়। খুচরা বাজারে তা ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি করে। ফরিয়াদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন বলে তার ধারণা। তারপরেও মুখিকচুর বাম্পার ফলনে সার্বিকভাবে হাসি ফুটেছে চুয়াডাঙ্গার কচু চাষিদের মুখে।