২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দ্রুত বিচার শেষ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

  • বখতিয়ার হত্যাকাণ্ড

গাফফার খান চৌধুরী ॥ ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইংরেজী মাধ্যমের মেধাবী ছাত্র বখতিয়ার মোহাম্মদ লতিফের (১৯) চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়া এক আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছে। কারাবন্দী আরেক আসামির পক্ষের লোকজন জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। অপর আসামিদের লোকজনও জামিনের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বখতিয়ারের পরিবার এক আসামি জামিন পাওয়ায় রীতিমতো হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি মামলাটির দ্রুত বিচার কার্য শেষ করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর ৯৬ নম্বর বাড়িতে ডাকাতরা বাধা পেয়ে বখতিয়ারকে হত্যা করে। বখতিয়ারের পিতা জাহিদ আল লতিফ ঢাকায় চলাচলকারী যাত্রাবাড়ী ট্রান্সসিলভা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাড়ির কাছে বখতিয়ারদের একটি ফিলিং স্টেশন আছে।

বখতিয়ারের মা শারমীন নাহার ফেরদৌসীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে তিনি বাসায় বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। পাশে স্বামী ঘুমিয়েছিল। ঘরে এয়ার কন্ডিশন চালু থাকায় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ ছিল। তবে ফ্ল্যাটের মূল দরজায় ছিটকিনি দেয়া ছিল না। বখতিয়ার বিছানায় মশারি টাঙ্গিয়ে বসে ল্যাপটপ চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে কয়েকজন ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ঢুকেই মশারি টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে।

বখতিয়ার লাফ দিয়ে খাট থেকে নেমে ঢুকে পড়াদের আটকানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একজন বখতিয়ারের বাম বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে দেয়। চিৎকার দিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে বখতিয়ার। সে পানি পানি বলে চিৎকার করতে থাকে। ইতোমধ্যেই ডাকাতরা তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা বখতিয়ারের মুখে একফোঁটা পানিও দেয়নি। এমনকি পরিবারের কাউকেই বখতিয়ারের মুখে পানি দিতে দেয়নি। ডাকাতরা বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়। বখতিয়ার রাজধানীর ধানম-ির একাডেমীয়া নামের একটি ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র ছিল। তাদের একমাত্র সন্তান ছিল সে। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ৭ ডাকাতকে আসামি করে চার্জশীট দাখিল করে। আসামিদের মধ্যে হাবিব, মতি, জালাল ও আকতার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। অপর ৩ আসামি হচ্ছেÑ রুস্তম আলী হাওলাদার, খলিল ও সবুজ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটায় খলিল। বখতিয়ার তাকে জাপটে ধরায় বাধ্য হয়ে গুলি চালায় বলে খলিল পুলিশের কাছে দাবি করেছে। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়নি। খলিলের বাড়ি বরগুনায়। সে ২০০২ সালে নিজের শ্বশুরকে হত্যা করে। ওই মামলার সে পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বখতিয়ার হত্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়া মতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেছে। এছাড়া এ মামলার কারাবন্দী ৬ আসামির মধ্যে সবুজ নামের আরেক আসামির পক্ষের লোকজন জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। যদিও সবুজ খুবই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির ডাকাত। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা আছে। ২০১০ সালে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি করে। ডাকাতরা স্বর্ণালঙ্কার, টাকা পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটিও লুটে নেয়। সেই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই বখতিয়ারকে হত্যা করে। পরবর্তীতে বখতিয়ার হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি খলিলের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যালাস্টিক পরীক্ষা নিরীক্ষায়, সেই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই বখতিয়ারকে গুলি চালিয়ে হত্যা করার প্রমাণ মিলে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি ইউনূচ আলী জনকণ্ঠকে বলেন, ডাকাতিতে বাধা পেয়ে বখতিয়ারকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে বলে দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন।

এদিকে নিহত বখতিয়ারের পিতা জাহিদ আল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়া আসামি মতি জামিনে ছাড়া পেয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এতে অন্য আসামিরা উদ্বুদ্ধ হবে। সবুজ নামে আরেক আসামির লোকজন জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এক আসামির জামিনে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আমার একমাত্র সন্তান হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।