১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজউক-ওয়াসাকে একীভূত করার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে ফুটপাত থেকে শুরু করে খাল-নদী সব দখল হয়ে যাচ্ছে। নাগরিক সমস্যা রোধের প্রধান অন্তরায় অধিদফরগুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করে সমন্বিত উদ্যোহ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা পানি ও পয়:নিষ্কাশন কতৃপক্ষ (ওয়াসা)-কে একীভূত করা যেতে পারে।

রবিবার রাজধানীর রাজউক ভবনের অডিটরিয়ামে খসড়া ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান এর উপর জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরীর দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তিতে ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরি হচ্ছে। যার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেই খসড়া প্ল্যানের ওপর সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাস্তবমুখী ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যান তৈরি করেত সবার সহযোগিতা কাম্য। সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে খসড়া প্ল্যানের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে আগামী এক বছরের মধ্যে তা চুড়ান্ত করা সম্ভব হবে। নাগরিক সমস্যা লাঘবে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। সচেতনা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ২ ঘন্টার বর্ষণে পুরো ঢাকা প্লাবিত হয়ে যায়, এর মূল কারণ অসচেতনতা।

তিনি বলেন, রাজউক কতৃক বহুতলভবনে পার্কিং করা সত্ত্বেও সেখানে কউি গাড়ি রাখে না। প্রতিটি ভবন ফুটপাত থেকে ৫ ফুট দূরে থাকার কথা, কিন্তু তাও মানে নি কেউ। অন্যদিকে রাজউকের কর্মকর্তারও সঠিকভাবে কাজ করে না। তাদের গাফিলতিও রয়েছে। পুলিশের সামনেই ভূমিদস্যুরা খাল-নদী দখল করছে। রজউক অভিযান চালানো শেষে আবারও বেদখল হচ্ছে। যে কোন মূল্যে আগামী ৩ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবো। শীতলক্ষ্যা নদীর পাশের খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে ওয়াক ওয়ে ও গাছ রোপন করা হবে। এসব করতে সচেতনতা ও সবার সহযোগিতা কাম্য।

বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে সমস্ত নদী উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, বেদখল হয়ে যাওয়া সমস্ত নদী উদ্ধার করতে প্রয়োজনে স্পেশাল ট্রইব্যুনাল গঠনের আহ্বান করছি। নাগরিক সমস্যা রোধে রাজউক ও ওয়াসাকে নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে দুটি প্রতিষ্ঠানকে একিভূত করতে হবে। শহরে বর্জ্য ফেলার কোন স্থান নেই, ভালো প্ল্যানিং করতে হলে সরিষা ক্ষেতের ভূত দূর করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, অল্প অভিজ্ঞতায় দেখেছি সরকারী ৫৬ টি দফতরের মধ্যে একটির সাথে আরেকটির সর্ম্পক নেই। জলজটের বিষয় ওয়াসার, কিন্তু তা নিরসনে নাগরিকদের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। সমন্বয়হীনতাই মূলত জটিল সমস্যা। তাই স্থানীয় প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ঢাকার প্ল্যান করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, বছরের পর বছর আমরা প্ল্যান করে যাচ্ছি, কিন্তু কোন প্ল্যানই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনকে হাত পা বেঁধে ক্ষমতা দিলে কাজ করার কোন সুযোগ থাকে না। শীতলক্ষ্যার পাড়ে এখনও অনেক খাস জমি পরে রয়েছে, সিমেন্ট কোম্পানীগুলো তা দখল করে নিচ্ছে। প্রস্তাবিত প্ল্যান ঢাকায় বসে করা হয়েছে। নারায়নগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে একটি রাস্তা প্রস্তাব করায় অবস্থা পূর্বের ন্যায় থাকবে। ফলে সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। স্থানীয় সরকারের অধিকার খর্ব না করে শক্তিশালী করতে হবে, যেন তারা ওখানে বসেই প্লান তৈরি করতে পারে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন বলেন, প্ল্যানে রিং রোডে স্পষ্টভাবে তেমন কোন ব্যাখ্য নেই। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হয়েছে। যানজট নিরসন ও ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে আরও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত ছিল। বিদ্যমান অবকাঠামো ঠিক রেখে ড্যাপ বাস্তবায়নের দাবী জানাচ্ছি।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজউক এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি. এম. জয়নাল আবেদিন ভূইয়া। সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন আবদুল্লাহ।

## এমদাদুল হক তুহিন

নির্বাচিত সংবাদ