১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরবানির গরুর যোগান

রাজধানীতে কোরবানির হাট বসতে আর খুব বেশি বাকি নেই। তবে ঢাকার বাইরে অনেক জেলায় এরই মধ্যে গ্রাম পর্যায়ের সাপ্তাহিক হাটে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে। ঈদ-উল-আযহার সপ্তাহখানেক আগে দেশজুড়ে যেসব বড় হাট বসবে সেসব হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরুর যোগান নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মনে এখনও কিছুটা উৎকণ্ঠা হয়ত রয়েছে। কোরবানির হাটগুলোয় চাহিদা অনুযায়ী গরুর যোগানে ঘাটতি থাকলে এই সঙ্কটকে কাজে লাগিয়ে মুনাফালোভীরা গরুর দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিতে পারেনÑ এমন আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে অনেকের মনে। তবে শনিবার জনকণ্ঠে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দেশের বেনাপোল এবং কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার গরু আসছে ভারত থেকে। এটা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোয় কোরবানির গরুর সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকখানি দূর হয়ে যাবে। তারপরও ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা তাকিয়ে আছেন সরকারের দিকে। সরকারও আগাম সতর্কতা হিসেবে ভারতের বাইরে একাধিক দেশে গরুর বাজারের সন্ধান করে সফল হয়েছে। নেপাল, ভুটান, মিয়ানমারসহ সেসব দেশ থেকে অচিরেই গরু আমদানি শুরু হবেÑ এমনটাই প্রত্যাশা। ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখান থেকে বাংলাদেশে গরু আসা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ভারত সরকারের কঠোর নীতির কারণে এমনটা ঘটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোরবানির সময় গরুর যোগান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

ঈদ-উল-আযহায় মোট কত সংখ্যক পশু কোরবানি হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও গত কোরবানি ঈদের পর চামড়া গণনায় দেখা যায় ৩৬ লাখ গরু কোরবানি হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে দেশে প্রতিবছর কোরবানির গরুর চাহিদা তৈরি হয় সর্বোচ্চ ৪০ লাখের মতো। অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা প্রায় ৯০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদন থেকে আসছে। তবে কোরবানির সময় এটি মোট চাহিদার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘাটতি থাকে। আমরা আশা করব, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে আমাদের পার্শ্ববর্তী একাধিক দেশ থেকে যথাসময়ে গরু আমদানি নিশ্চিত করা হবে। কোরবানির ঈদ পর্যন্ত ভারত থেকে গরু আসার প্রক্রিয়া যেন ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে অহেতুক উত্তেজনা যাতে না বাড়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা চাই। কোরবানির গরু নিয়ে সামান্যতম সঙ্কট কারোরই প্রত্যাশিত নয়। ছাগলের চাহিদা মেটানোর জন্য দেশীয় উৎপাদনের সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। অথচ গরুর ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা বহু বছরের। ভবিষ্যতে দেশে গরুর চাহিদা মেটানোর জন্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। এছাড়া দেশীয় গরুর উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারেও নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

স্বস্তিকর বিষয় হলো, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গরুতেও দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খামারিদের গরু লালন-পালনে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিলও গঠন করেছে। পাশাপাশি আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। চট্টগ্রামের লাল গরু ও মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিমের গরুর মাংসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। তাই এর জাত সংরক্ষণ ও উন্নত করা এবং তা লালন-পালনে দেশব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণ করা অতীব জরুরী। নিবিড় তদারকি ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই দুটি জাতের গরুর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে দেশে গরুর চাহিদা পূরণে তা নিশ্চিতরূপে সহায়ক হবে।

নির্বাচিত সংবাদ