১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তরুণদের আশা-আকাক্সক্ষা বুঝতে হবে ॥ করবিন

  • ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু

ব্রিটেনের লেবার পার্টির রাশ এবার বামপন্থীর হাতে। রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েই পুরনো ধারার কট্টরপন্থী সমাজতন্ত্রী জেরেমি করবিনকে নতুন নেতা নির্বাচিত করেছে লেবার পার্টি। প্রথম দফা ভোটেই অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন তিনি। এমনকি ১৯৯৪ সালে দলের নেতা নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার যে ভোট পেয়েছিলেন তার চেয়েও অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। খবর গার্ডিয়ান ও বিবিসির।

উত্তর লন্ডনের ইজলিংটনের আট বারের এমপি করবিন দলীয় নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ততোটা আলোচনায় ছিলেন না। তবে অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতাবিরোধী অবস্থান এবং ব্রিটেনের পরমাণু অস্ত্র কমানো ও রেলসহ প্রধান সেবাখাতগুলোকে পুনরায় জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি। নির্বাচনে লেবার দলের মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৬৬৪ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

এর মধ্যে করবিন পেয়েছেন ২ লাখ ৫১ হাজার ৪১৭ ভোট বা ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। অপর তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এ্যান্ডি বার্নহাম ১৯ শতাংশ, ইভেট কুপার ১৭ শতাংশ এবং ব্লেয়ার সমর্থিত প্রার্থী লিজ কেন্ডাল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। জয়ী হওয়ার কিছুক্ষণ পর করবিন ভাষণে বলেন, ব্রিটেনের অবিচার ও বৈষম্য নিয়ে মানুষ এখন বিরক্ত। গণমাধ্যম ও আমাদের মধ্যে অনেকেই আমাদের দেশের তরুণ সমাজের আশা-আকাক্সক্ষা ও বক্তব্য বুঝতে পারে না। আমাদের অবশ্যই এসব পরিবর্তন করতে হবে। করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি তার গত প্রায় দুই দশকের মধ্যপন্থী নীতি থেকে অনেক বেশি বামপন্থার দিকে ঝুঁকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এর ফলে লেবার পার্টিতে দ্বন্দ্ব ও অনৈক্য দেখা দিতে পারে। দলের নেতা নির্বাচনের ইতিহাসে উত্তর লন্ডনের এই এমপির জয় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় করবিন দলের সদস্য ও সমর্থকদের বোঝাতে সমর্থ হন যে, ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের নিউ লেবার যুগের অবসানের প্রয়োজন দলের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার ও ব্রাউনসহ দলের মধ্যপন্থী প্রভাবশালী নেতারা করবিনের বিরোধিতায় সরব ছিলেন। এই দুই নেতাই মনে করেন, করবিনের হাতে পড়লে ২০২০ সালের মধ্যে লেবার পার্টির আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।

করবিন এখন ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি তিনি হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তার প্রথম বিতর্কের জন্যও প্রস্তুত হচ্ছেন। তার ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন এটাই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে জন ম্যাকডোনেল, এ্যাঞ্জেলা ইগল, সাদিক খান, কেন লিভিংস্টোন ও নেতা নির্বাচনে করবিনের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নহামের মতো এমপিরা মন্ত্রিসভায় কি ভূমিকা পালন করবেন। তবে করবিনের জয়ের দুই ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যায় যে র‌্যাচেল রিভস, এমা রেনল্ডস, ট্রিসট্রাম হান্ট, ক্রিস লেসলি, লিজ কেন্ডাল এবং কুপার তার নেতৃত্বে কাজ করবেন না। ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্যায়মি রিড ইতোমধ্যেই টুইটারে তার পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেছেন।