২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাসযোগ্য ঢাকা নগরী গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

  • খসড়া স্ট্রাকচার প্ল্যানের ওপর জাতীয় সেমিনার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকাকে বাসযোগ্য, কার্যকর ও দুর্যোগ প্রতিরোধক্ষম নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে ফুটপাথ থেকে শুরু করে খাল-নদী সব দখল হয়ে যাচ্ছে। নাগরিক সমস্যা রোধের প্রধান অন্তরায় অধিদফতরগুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষকে (ওয়াসা) একীভূত করা যেতে পারে। রবিবার রাজধানীর রাজউক ভবনের অডিটরিয়ামে খসড়া ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যানের ওপর জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরীর দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তিতে ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরি হচ্ছে। যার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেই খসড়া প্ল্যানের ওপর এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যমান স্ট্রাকচার প্ল্যানের মেয়াদ এবং ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হবে। সে লক্ষ্যে ২০১৫ সালের আগেই যেন ২০ বছরমেয়াদী ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) প্রণয়ন সম্পন্ন হয় এবং তার ভিত্তিতে পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশগত টেকসই উন্নতি এবং সুষম অঞ্চলিক উন্নয়ন সাধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালেই রাজউক কর্তৃক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় প্রাপ্ত মতামত ও পরামর্শ গ্রহণপূর্বক খসড়া ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) প্রস্তুত করা হয়েছে। সেমিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাস্তবমুখী ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যান তৈরি করতে সবার সহযোগিতা কাম্য। সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে খসড়া প্ল্যানের ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করে আগামী এক বছরের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। নাগরিক সমস্যা লাঘবে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ২ ঘণ্টার বর্ষণে পুরো ঢাকা প্লাবিত হয়ে যায়, এর মূল কারণ অসচেতনতা। মন্ত্রী বলেন, আগে (২০১০ সালে) যে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) হয়েছিল তা নিয়ে অনেক হৈচৈই হয়েছে। এটি রিভিউ করা হচ্ছে। যারা ড্যাপ প্রণয়ন করেছেন, তারা বাস্তবে স্থান পরিদর্শন না করেই করেছেন। গুগল ম্যাপ দেখে শুধু লাইন টেনে পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু পরিকল্পনা শুধু লাইন টেনে করলেই হবে না, বাস্তবসম্মত করতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহর রিক্সার নগরীতে পরিণত হয়েছে। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার উপায় নেই, ছোট ছোট দোকানে দখল হয়ে গেছে। আবার ওয়াসা খাল উদ্ধার করছে, আর নগরবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করছে। এভাবে খাল দখল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। ঢাকাকে পরিকল্পিত নগরী করতে হলে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাজউক কর্তৃক বহুতল ভবনে পার্কিং করা সত্ত্বেও সেখানে কেউ গাড়ি রাখে না। গুলশানে আবাসিকের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।