১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামের সব ট্যানারি বন্ধ চামড়া নিয়ে সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রামে গত ৭ দশক ধরে গড়ে ওঠা ২১টি ট্যানারির সব কটিই এখন বন্ধ। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা করছেন সেখানকার চামড়া ব্যবসায়ীরা। আর ট্যানারিগুলো বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবকে দায়ী করছেন এ ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িতরা।

চট্টগ্রামে চামড়া শিল্পের শুরু ১৯৪৮ সালে। লাভজনক থাকায় ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে এখানে গড়ে ওঠে ১৬টি ট্যানারি। স্বাধীনতার পর গড়ে ওঠে আরও ৫টি। কিন্তু পরিবেশ আইন না মানা, অব্যবস্থাপনা, গ্যাস ও বিদ্যুত সঙ্কট আর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ক্রমাগত বন্ধ হতে থাকে এসব ট্যানারি। সর্বশেষ চালু মদিনা ও রিফ রেদার ট্যানারি দুটিও সম্প্রতি পরিবেশ আইন না মানার অভিযোগে বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদফতর। ফলে বন্দরনগরী এখন ট্যানারিশূন্য। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়। এছাড়া কোরবানির সময় বিক্রি হয় ৬ লাখ চামড়া। সংগ্রহের পর এসব চামড়ার বাজার মূল্য ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে চামড়া শিল্পের প্রচুর কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ট্যানারি শিল্প না থাকায় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের ওপর নির্ভর করতে হয় এদের।

চট্টগ্রামে গত বছর কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা ৬ লাখ চামড়ার মধ্যে ৪ লাখ চামড়া চলে যায় ঢাকার ট্যানারিগুলোতে। এছাড়া ঢাকার ট্যানারি মালিকদের শর্ত মেনে অধিকাংশই চামড়ায় বাকিতে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারিগুলো থেকে গত বছরের চামড়া বিক্রির টাকা এখনও না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম চামড়া সমিতির সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের সমিতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা থেকে ১২ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ করে। যার অর্ধেকের বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদে।’

তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের সংগৃহীত চামড়ার প্রায় ৭০ শতাংশ চামড়া এখানকার ট্যানারিগুলো ক্রয় করত। কিন্তু চট্টগ্রামের সব ট্যানারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের বাধ্য হয়েই ঢাকামুখী লেনদেন করতে হচ্ছে।’ এই শিল্প রক্ষায় চট্টগ্রামে আলাদা ট্যানারি জোন করে বন্ধ হওয়া ট্যানারিগুলো চালু করার পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও ব্যাংক ঋণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।