১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গোল্ডেন লায়ন পেল ভেনিজুয়েলার চলচ্চিত্র ‘ফ্রম এফার’

গোল্ডেন লায়ন পেল ভেনিজুয়েলার চলচ্চিত্র ‘ফ্রম এফার’
  • ৭২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের পর্দা নামলো

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় আয়োজন ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ৭২তম আসরের পর্দা নামলো শনিবার। বিশ্বের সকল সিনেমা ক্রিটিকদের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘গোল্ডেন লায়ন’ ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের প্রাচীন ও জৌলুসময় চলচ্চিত্র উৎসব ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ১১ দিনের আয়োজনের সমাপনী হলো। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এ আসরের সবচেয়ে গৌরবান্বিত ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কার পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার ‘ফ্রম এফার’। চলচ্চিত্রটির পরিচালক লরেঞ্জু ভিগাস। এর মাধ্যমে ‘গোল্ডেন লায়ন’ নিয়ে সারা বিশ্বে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। সবার ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মত ‘গোল্ডেন লায়ন’ গেল ভেনিজুয়েলায়।

গোল্ডেন লায়নের জন্য মূল পর্বে অংশ নিয়েছিল বিশ্বের নামিদামি নির্মাতার মোট ৫৫টি চলচ্চিত্র। যার মধ্যে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা লুরেঞ্জু ভিগাসের ওপর ভর করে প্রথমবার নিজেদের হাতবন্দি করলো ‘গোল্ডেন লায়ন’। যদিও ফিল্ম ক্রিটিকদের মতে ‘গোল্ডেন লায়ন’ জেতার দৌড়ে ৫৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে এগিয়ে রেখেছিলেন ‘রবিন: দ্য লাস্ট ডে’, ইতালিয়ান নির্মাতা মার্কো বেলুচ্চিওর ‘ব্লাড অব মাই ব্লাড’ এবং চার্লি কাউফম্যানের এ্যানিমেশন মুভি ‘এ্যানোমালিসা’। এছাড়াও ‘ডেনিশ গার্ল’ এবং ব্ল্যাকমমেসের সম্ভাবনাও দেখছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু সব প্রেডিকশন মিথ্যে প্রমাণ করে ‘গোল্ডেন লায়ন’ জিতে নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নির্মাতা লরেঞ্জু।

জানা গেছে, বিশ্বের বাছাই করা মূল পর্বের মোট ২১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে ভেনিজুয়েলার চলচ্চিত্র ‘ডেসডে এলা’র (ফ্রম এফার) জন্য প্রাচীন ফিল্ম ফেস্টিভাল ভেনিসের সর্বোচ্চ পুরস্কারটি জিতে নেন নির্মাতা লরেঞ্জু ভিগাস। ৭২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের জুরি বোর্ডের সদস্যরা ‘ফ্রম এফার’-এর জন্য তাকেই এবারের উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করেন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এবার জুরি বোর্ডে আলফনসো ক্যারনের নেতৃত্বে আরও ছিলেন লেন রামসি, পাওয়েল পলিকস্কি, হু সিয়াও সিয়েন এবং নুরি বিলগে সেলনের মত বিশ্ব খ্যাত নির্মাতারা।

প্রতিবছরের মত এবারও ইতালির ভেনিস নগরে ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ‘ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব’ এর ৭২তম আসর। উৎসবে প্রধান পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন যথারীতি আলবার্তো বারবেরা। ‘গোল্ডেন লায়ন’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এক বছরের জন্য পর্দা নামল গুরুত্বপূর্ণ এই ফেস্টিভালের।

মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় এই আসরটি শুরু হয়েছিল ১৯৩২ সালে। বিশ্বের নানা দেশের প্রায় ৫৫টি চলচ্চিত্র নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় ৭২তম ‘ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’। বরাবরের মতো এবারের আসরেও লালগালিচার শোভা বর্ধন করেন বিশ্বসেরা সব অভিনয়শিল্পী, মডেল ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। ১১ দিনব্যাপী ইতালিজুড়ে চলে উৎসবের আমেজ। ৭২তম আসরের উদ্বোধন করেন হলিউড অভিনেতা জনি ডেপ। তার সঙ্গে ছিল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এলিসা সিউনাউই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবার স্মরণ করা হয় অভিনেতা অরসন ওয়েলসকে। ১৯১৫ সালে আমেরিকায় জন্ম নেয়া এই অভিনেতার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ এবং ‘ওথেলো’র বিশেষ প্রদর্শনী করা হয়। বাংলাদেশ থেকে এবার অংশগ্রহণ করে মুরাদ পারভেজ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বৃহন্নলা’। সরকারী অনুদানে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস, সোহানা সাবা, ইন্তেখাব দিনার প্রমুখ।

এক নজরে ভেনিস ফেস্টিভালের

পুরস্কার বিজয়ীরা

গোল্ডেন লায়ন : ফ্রম এফার, নির্মাতা: লরেঞ্জু ভিগাস

সিলভার লায়ন : দ্য ক্লেন, নির্মাতা: পাবলো ত্রাপেরো,

গ্রেন্ড জুরি প্রাইজ : এ্যানোমালিসা, নির্মাতা- চার্লি কউফম্যান, ডুকে জনসন ভল্পি কাপ,

সেরা অভিনেতা : ফেব্রিস লুসিনি, চলচ্চিত্র এল’হারমাইন ভল্পি কাপ,

সেরা অভিনেত্রী : ভ্যালেরিয়া গোলিনো, চলচ্চিত্র- পার আমোর ভস্ত্র,

মার্সেলো এ্যাওয়ার্ড, নবীন অভিনেতা : আব্রাহাম আতাহ, চলচ্চিত্র: বিস্ট অব নো নেশন,

সেরা চিত্রনাট্য :ক্রিস্টিয়ান ভিনসেন্ট, চলচ্চিত্র এল’হারমাইন,

বিশেষ জুরি প্রাইজ : ফ্রেঞ্জে, নির্মাতা- এমিন এলপার,

ভেনিস হরাইজনস : সেরা চলচ্চিত্র-ফ্রি ইন ডিপ, নির্মাতা- জ্যাক মহাফি,

সেরা নির্মাতা : ব্রেডি করবেট, দ্য চাইল্ডহুড অব এ লিডার,

বিশেষ জুরি প্রাইজ : নিওন বাল, নির্মাতা: গ্যাব্রিয়েল ম্যাসকারো,

সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীর বিশেষ প্রাইজ : ডমিনিক লেবর্ন, টেমপেতে,

সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : বেলাদোনা, নির্মাতা: ডুব্রাবকা তুরিক,

লায়ন অব দ্য ফিউচার- ভেনিস এ্যাওয়ার্ড, ডেব্যু ফিল্ম: দ্য চাইল্ডহুড অব এ লিডার, নির্মাতা: ব্রেডি করবেট,

ভেনিস ক্ল্যাসিক: চলচ্চিত্রের ওপর সেরা ডকু : দ্য থাউজেন্ড অব আইস ড.মাদিন, নির্মাতা : ইয়াবেস মন্তমায়ার বেস্ট রেস্টুরেশন: স্যালু, অর দ্য ওয়ানহান্ড্রেড ডেউস অব সোডম, নির্মাতা পায়ের পাওলো পাসোলিনি।