১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ফিরোজা বেগম স্মরণ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ফিরোজা বেগম স্মরণ

গৌতম পান্ডে ॥ শুধু প্রাণের টানে ছুটে এসেছেন সবাই। এদের বেশিরভাগ মধ্যবয়সী ও পৌঢ়। মঞ্চের পেছনে গুচ্ছ ফুলের পাশে সুরের মানবী প্রয়াত ফিরোজা বেগমের ছবি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তন জুড়ে একেবারেই সাদামাটা এক পরিবেশ বিরাজ করছিল। শিল্পীর প্রথম প্রয়াণ দিবসকে ঘিরে শনিবার বিকেলে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে ফিরোজা বেগম ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ফিরোজা বেগমের স্মৃতিচারণই করেন। কেননা, এরা সবাই তাঁর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। এদের কারও সঙ্গে রয়েছে প্রয়াত এই শিল্পীর রক্তের সম্পর্ক আবার কারও সঙ্গে রয়েছে তাঁর গানের সম্পর্ক। পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার অভিপ্রায়ে কিছু দাবিও উত্থাপন করা হয়।

শুরুতে বক্তব্য রাখেন ফিরোজা বেগমের সহোদর এম আসাফ উদ দৌলা। তিনি বলেন, তিনি কোন এক সময়ে অনেক আর্থিক কষ্টে জীবন কাটিয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে যখন তিনি তিন সন্তানসহ স্বামী কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে কলকাতা থেকে এ দেশে আসেন, তখন যশোরে আমি তাঁকে আনতে গিয়েছিলাম। এ দেশের সিটিজেনশিপ আমার চেষ্টাতেই হয়। এ কারণে আমার চাকরিও বিপন্ন হয়েছিল। তিনি শিল্পকলা একাডেমিতে ফিরোজা বেগমের নামে একটি মিলনায়তন এবং ফরিদপুরে তাঁর নামে একটি রাস্তা তৈরির দাবি জানান বর্তমান সরকারের কাছে।

ফিরোজা বেগমের আরেক ভাই এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা বলেন, ফিরোজা বেগমের স্মৃতি রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। সেই লক্ষ্য নিয়ে আসাফ উদ দৌলাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হোক। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফিরোজা বেগম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, এই কমিটিকে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে বলে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

এ সময় শিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী তাঁর লেখা ‘পড়িব একাকী’ উপন্যাসের একং অংশ পাঠ করেন। যেখানে মূর্ত হয়ে ওঠে কাজী নজরুল ইসলাম ও কমল দাশের সঙ্গে ফিরোজার প্রথম দেখার মুহুর্ত।

এরপর বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার। তিনি বলেন, আমি ফিরোজা বেগমকে একটি সুরম-ল দিয়েছিলাম। তাঁর সঙ্গে শিল্পকলায় আমার যখন শেষ দেখা হয়, তিনি বলেছিলেন, তোমার সুরম-লটা এখনও আছে। অসম্ভব স্মরণশক্তি ছিল তাঁর। তিনি আরও বলেন, বড় শিল্পীর জীবনে বড় পাওয়া হলো ‘কষ্ট’।

পরে পর্দায় ফিরোজা বেগমের জীবন ও কর্ম সাধনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন হয়। এর মধ্যে ফুটে ওঠে তাঁর কৈশোর থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সঙ্গীত সাধনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনা। এছাড়া মাত্র ৯ বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্য।

ফিরোজা বেগমের আরেক ভাই মসিহ্ উদ দৌলা বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী শিষ্যা ফিরোজা বেগম। আজীবন নজরুল ইসলামের গান চর্চার পাশাপাশি তিনি অন্য গানের সুরও করতে পারতেন। তিনি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের লেখা ‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা’ শিরোনামের একটি গানের সুর করেছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ফিরোজা বেগমের স্মৃতিচারণ করেন মেনকা হাসান, শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক ও খালিদ হোসেন। সব মিলে অন্যরকম এক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। যেখানে ফিরোজা বেগমের অবদান এবং গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন করে আবিস্কার করেন তারা।

নির্বাচিত সংবাদ