১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে দু’বছরে ৩০ রোগীর মৃত্যু

  • অজ্ঞতা, অবহেলা, ভুল ও অপচিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ চিকিৎসকদের ভুল কিংবা অপচিকিৎসা, অর্থ উপার্জনের নেশায় মত্ত থেকে রোগীর প্রতি উদাসীনতায় নগরীসহ বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত গত দু’বছরে নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৩০ রোগী মারা গেছেন।

সূত্রমতে, রোগীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে ৩০ জনের তথ্য পাওয়া গেলেও বাস্তবে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। চিকিৎসকদের অজ্ঞতা, অবহেলা, ভুল ও অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাঁপের মুখে স্বজনরা এসব মৃত্যুকে মেনে নিতে বাধ্য হওয়ার অনেক খবর চাপা পড়ারও অসংখ্য নজির রয়েছে। যেসব স্বজন এ মৃত্যুকে মেনে না নিয়ে প্রতিবাদ করে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কেউ শাস্তির মুখোমুখি করতে পেরেছেন এমন নজিরও নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অপ বা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়েরের পর বিচারের জন্য মৃত ব্যক্তির লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অগ্রাধিকার পায়। ময়নাতদন্ত করেন আরেক চিকিৎসক। স্বাভাবিকভাবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রোগীর মৃত্যু চিকিৎসকদের অপ বা ভুলে হওয়ার কথা উল্লেখ থাকে না। তাই বিচারও শেষ পর্যন্ত আর হয় না। সর্বশেষ তথ্যমতে, শনিবার ভোরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে চিকিৎসকের ভুলে শরীরে পচন ধরা নগরীতে ভ্যানে করে সবজি বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান। দারিদ্র্যের কশাঘাতে সদ্য কৈশোর পেরিয়ে পরিবারের হাল ধরা সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। ছোট দুই ভাই-বোনের আহাজারিতে সদর উপজেলার কাগাশুরা গ্রামের পুরো এলাকার আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মঈন সরদার লাদেন জানান, ওই গ্রামের জাকির হাওলাদারের পুত্র সিদ্দিকুর রহমান (১৮) জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ আগস্ট প্রথম দফায় ও ২০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের আজাদ মেডিক্যাল হল (আজাদ অপটিক্স)-এর চিকিৎসক ক্যাপ্টেন (অব) ডাঃ এম সিরাজুল ইসলামের শরণাপন্ন হয়। ওই চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে সিদ্দিকুরের শরীরে গোটা সৃষ্টি হয়ে চুলকানি দেখা দেয়। এতে তার মুখম-লে পানি জমা ফোসকা পড়ে। ৩১ আগস্ট সিদ্দিকুরকে শেবাচিম হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীরে পচন ধরা ছাড়াও চামড়া খসে পড়া শুরু করে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মারা যায় সিদ্দিকুর রহমান। একই দিন (শনিবার) সকালে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় আয়া ও নার্সরা নগরীর বিসিক এলাকার বাসিন্দা মিঠু হাওলাদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছে।

এতে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় ওই নবজাতকের। এ ছাড়াও অতিসম্প্রতি নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার চিকিৎসক হারুনের ভুল অপারেশনে ভোলার এক গৃহবধূ মারা গেছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, শুধু চিকিৎসকদের একার ভুলে নয়, রোগীর স্বজনরাও মৃত্যুর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, স্বজনরা শেষ পর্যায়ে তাদের রোগীকে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে আসায় অনেক সময়ই আর তাদের বাঁচানো সম্ভব হয় না। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ নিজামউদ্দিন ফারুক বলেন, চিকিৎসা সেবার যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক রোগ নির্ণয় করা যায় না। তাই এখানে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হতে পারে।