১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ডিভাইডার নির্মাণ শেষ

  • উদ্বোধন ১৭ সেপ্টেম্বর

বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥ বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের ১৭ কিলোমিটার রাস্তার দুর্ঘটনা প্রবণ পৃথক চারটি স্থানে নিউজার্সি রোড ডিভাইডার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য শুরু হয়েছে ঘষা মাজার কাজ। পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় নির্বিঘেœ ও নিরাপদে যানবাহন এবং যাত্রী চলাচলে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুঘর্টনা প্রবণ পৃথক চারটি স্থান হচ্ছে - সয়দাবাদ, মুলিবাড়ি,কোনাবাড়ি এবং নলকা। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের কড্ডায় এবং পাচিলায় পৃথক দুটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠেছে অনেক আগে। এ দুটি স্থানও দুর্ঘটনা প্রবণ এবং পথচারী পারাপারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২১ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপারের ১৭ কিমি সড়ক মৃত্যু ফাঁদ? কেন এত দুর্ঘটনা ঘটছে’ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের পরদিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আকস্মিক বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ স্থান পরিদর্শন করে নিউজার্সি রোড ডিভাইডার নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেছিলেন, পবিত্র ঈদ- উল-আযহার আগেই নিউ জার্সি রোড ডিভাইডার নির্মাণ কাজ শেষ হবে। হয়েছেও। এটি সরকারের দেয়া একটি প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের উদাহরণ।

ঈদ উৎসবসহ যে কোন বড় ধরনের উৎসবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম সংযোগ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় এবং বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ সড়ক দিয়ে শুধু উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা নয়, দক্ষিনাঞ্চলের কয়েকটি জেলাসহ ২১টি জেলার যানবাহন এ সড়কপথে চলাচল করে। এ কারণে চাপও বাড়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে ২০০১ সালে পাবনা থেকে নির্বাচিত জনপ্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুলসহ এক সঙ্গে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নবদম্পতিসহ অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু দুর্ঘটনার মূল কারণ খুঁজে বের করে কোন সুরাহা করা হয়নি। গত ১৯ জুলাই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের মুলিবাড়িতে দুটি বাসের মুখোমুখী সংঘর্ঘে এক সঙ্গে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আগে ও পরের তিন দিনে একই সড়কে মোট ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আর এর আগে ১১ মাসে ৭০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০২ শিশু নারী-পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাসের ছাদে যাত্রী ওঠানো, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, নেশাগ্রস্ত এবং ক্লান্ত শরীরে গাড়ি চালানো, অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক, ওভারটেকিং, অতিরিক্ত মাল ও যাত্রীবহন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন মেনে না চলা, রোড ডিভাইডার না থাকা, চলাচলকারী যানবাহনের তুলনায় সড়ক প্রশস্থ না হওয়া এবং মহাসড়কে অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচলের কারণেই মূলত বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটেছে।