১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিত্রা পারের নতুন সুন্দরবনের গাছ কেটে উজাড়

  • ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ প্রকৃতি

বাবুল সরদার, বাগেরহাট ॥ চিতলমারীর চিত্রা নদীর দু’পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রকৃতির আশীর্বাদ ‘নতুন সুন্দরবনে’র গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে। সুন্দরী, গোলপাতা, কেওড়া, গেওয়া, ওড়াসহ নানা প্রজাতির গাছ নিয়ে গড়ে ওঠা এ ‘নতুন সুন্দরবন’ রক্ষায় বন বিভাগ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় পর এক শ্রেণীর অসাধু লোকজন গাছ কেটে সাবাড় করছে।

ফলে পরিবেশবান্ধব নতুন এ বন হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনের মূল ভূ-খ- থেকে প্রায় শত কিলোমিটার উত্তরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা চিত্রা নদীর বিস্তৃত চর ও আশপাশে নদীর দু’পাড়ে ১৫-২০টি গ্রাম জুড়ে গড়ে উঠেছে এই বন। উপজেলার রায়গ্রাম, শুরিগাতী, খিলিগাতী, করাতদিয়া, ডুমুরিয়া, আড়ুলিয়া, খড়িয়াসহ গ্রায় ১৫-২০টি গ্রাম মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন বনাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এখানকার অধিকাংশ বাড়ির আঙিনাসহ আশপাশে আবাদি-অনাবাদি জমিতেও এখন গোলপাতা, কেওড়া, ওড়া, সুন্দরীসহ নানা প্রজাতির গাছ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠছে। এছাড়া নদীর দু’কূল জুড়ে বিস্তীর্ণ চর এলাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গাছের সংখ্যা।

বাঘ-হরিণের দেখা না মিললে ও সুন্দর বনের নানা ধরনের বন্য প্রাণীর দেখা মিলেছে এখানে। এছাড়া এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে অরণ্য। ঠিক যেন সুন্দরবনেরই একটা অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। মেছো বাঘ, বাঘডাসা, খাটাশ, বিষধর সাপ, তক্ষক, বনবিড়াল, শিয়াল, গুঁইসাপসহ বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এছাড়া মৌমাছিরা মধু আহরণ করে এসব গাছপালায় মৌচাক তৈরি করছে। এতে একসময় প্রয়োজনীয় মধুর চাহিদা মোটানো সম্ভব। মাছরাঙা, ঘুঘু, শালিক, টিয়া, পানকৌড়ি, বক, দোয়েল, ঘড়িয়াল, টুনটুনিসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলেছে এখানে। এসব পাখিদের কলকাকলিতে বন এখন মুখরিত। এছাড়া সুন্দরী, গোলপাতা, কেওড়া, গেওয়া, ওড়াসহ নানা প্রজাতির গাছ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসংখ্য প্রকার সুন্দরবনের উদ্ভিদ জন্মেছে এখানে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে যেমন আশার আলো দেখা দিয়েছে তেমনি পরিবেশের জন্য এ বন এখন আশীর্বাদস্বরূপ। সম্প্রতি বন বিভাগের কর্মকর্তারা এখানে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তাঁরা নতুন এ বন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান।

এ ঘোষণার পর এক শ্রেণীর অসাধু লোকজন এখানকার গাছপালা কেটে নিতে শুরু করেছে। ফলে শুরুতেই এ বনটি হুমকির মুখে পড়েছে। চিত্রা পাড়ের বাসিন্দা ও ডুুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটর সভাপতি অব্দুল জলিল ফকির, সাবেক ছাত্র নেতা সুভাষ ম-লসহ অনেকে জানান, এ বনটি রক্ষা করা খুবই জরুরী। চিতলমারী উপজেলা বন কর্মকর্তা চিন্ময় মধু জানান, বিয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। কেউ বনের গাছ কাটার আর কোন প্রকার সুুযোগ না পায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।