২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাহাড়তলীতে কোচ মেরামত ব্যাহত

  • সুইং হেঙ্গার সঙ্কট

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হতে বাকি হাতেগোনা ৮দিন। কিন্তু রেলের সৈয়দপুর কারখানার যন্ত্রাংশ উৎপাদন চলছে ঢিমেতালে। ফলে পাহাড়তলী কারখানা থেকে এবার টার্গেটের চেয়ে বেশি কোচ ঈদ যাত্রায় সরবরাহ করতে পারছে না। কোচ ও ওয়াগন মেরামতে বগির জন্য চাহিদানুপাতে সুইং হেঙ্গার সৈয়দপুর কারখানা থেকে সরবরাহ না থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উৎপাদনমুখী পাহাড়তলী কারখানায়। ফলে পুরাতন কোচ বা ওয়াগন থেকে সুইং হেঙ্গার কালেকশনে নেমেছে এই কারখানার কর্মচারীরা। এসব প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ কারখানা থেকে ৪৪টি আন্তঃনগর কোচসহ ৭৫টি কোচ মেরামতের চেষ্টা চলছে। গত বুধবার পর্যন্ত ৪৪টি কোচ সরবরাহ করা হয়েছে পরিচালন বিভাগকে। পাহাড়তলীস্থ রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানের ঈদ যাত্রায় আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেসের ট্রেনের জন্য ৭৫টি কোচ মেরামতের মাধ্যমে সংযোগের কাজ চলছে। এর মধ্যে পাহাড়তলী টাইপ কোচ ৫৪টি, চায়না ১৮টি ও ইরানী ৩টি কোচসহ ৭৫টি। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেনের কোচ বাকি ৩১টি মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ। রেলের পূর্বাঞ্চলকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জন্য চায়না টাইপ কোচ ১৬টি, পাহাড়তলী টাইপ ৩টি এবং মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৮টি কোচ মেরামত শেষে সংযোজন করা হবে। এদিকে, ঢাকার জন্য চায়না টাইপ ১টি, ইরানী ৪টি, পাহাড়তলী টাইপ ২১টি এবং মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য ১৩টি কোচ।

এদিকে, পাহাড়তলী কারখানায় স্বল্প কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে উৎপাদনে হিমশিম খাচ্ছে কর্ণধাররা। এ কারখানায় ১৪ কর্মকর্তা ও ৭৩২ কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা যাচ্ছে না বলে জানালেন এক কর্মকর্তা। এছাড়াও এ কারখানার দক্ষ জনবলের গড় বয়স ৫৩ বছরে পরিণত হওয়ায় কর্মদক্ষতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতায় ধীরগতি নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে পাহাড়তলীস্থ রেল কারখানার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, এবার ঈদযাত্রায় আমাদের কারখানা থেকে ৭৫টি কোচ সরবরাহ করা হচ্ছে যাত্রীদের সুবিধার্থে। তবে সুয়িং হেঙ্গার ঘাটতির কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পুরনো কোচ বা ওয়াগত থেকে সুয়িং হেঙ্গার কালেকশন করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সুইং হেঙ্গার সরবরাহের ক্ষেত্রে সৈয়দপুর কারখানার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।