১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘পলাতক’ ক্রিকেটার শাহাদাত নিষিদ্ধ

‘পলাতক’ ক্রিকেটার শাহাদাত নিষিদ্ধ
  • নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলার সুরাহা হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। শাহাদাত এখন ঘরছাড়া। ফেরারী আসামি। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) শাহাদাতকে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। দেশের ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কিংবা ক্রিকেটের কোন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না শাহাদাত। যতদিন পর্যন্ত মামলার কোন সুরাহা হবে না, ততদিন পর্যন্ত শাহাদাত ক্রিকেটে যুক্ত হতে পারবেন না। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এমনটিই জানিয়েছেন রবিবার।

বলেছেন, ‘আপনারা জানেন যে, জাতীয় দলের একজন (শাহাদাত হোসেন রাজিব) ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ এসেছে শিশু নির্যাতনের। বিষয়টা আইনী প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ আছে। তারা বিষয়টা দেখছেন। এক্ষেত্রে বোর্ডের একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টা সমাধান না হয়, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন রিপোর্ট না পাই, ততদিন পর্যন্ত জাতীয় দলের এই পেসারের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোন কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ স্থগিত রাখব। তাকে অংশগ্রহণ করতে দেব না। বিসিবির কোন কার্যক্রম যেমনÑ কোন ট্রেনিং, প্র্যাকটিস ক্যাম্প, কোন ধরনের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখছি।’ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব তার নিজ বাসায় মাহফুজা আক্তার হ্যাপী নামে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করেছেন। সিইও জানান, ‘শাহাদাতের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলার তদন্ত চলছে।’ এর আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় শাহাদাতকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।’ বিসিবি সভাপতি আরও বলেছিলেন, ‘শাহাদাত হোসেনের ব্যাপারে বিসিবির ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমার সঙ্গে সে দেখা করতে এসেছিল, আমি দেখা করিনি। আমার বা বিসিবির কিছুই করার নেই, এটা সম্পূর্ণ আইনের বিষয়।’ তবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারবেন কিনা শাহাদাত এ বিষয়টা বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলিয়ে রেখেছিলেন বিসিবি সভাপতি। অবশেষে বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানিয়ে দিলেন, ‘১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লীগেই (এনসিএল) শুধু নয়, কোন ক্রিকেটই আর খেলতে পারছেন না শাহাদাত।’

গত ৬ সেপ্টেম্বর এ অপকর্মের পর শাহাদাত পালিয়ে যাওয়ার পর গত বুধবার থেকে শাহাদাতের বিষয়ে তৎপর হয়ে উঠেছিল তার পরিবার। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও শাহাদাতের বাবা, মা দুইজনই বিসিবিতে এসেছিলেন। বিসিবি সভাপতির বাড়িতে গিয়েও দেখা করতে পারেননি। শাহাদাতের জঘন্য কর্মের কারণে নারায়ণগঞ্জের ভুইগড় থেকে প্রায় প্রতিদিনই মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে শাহাদাতের বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ ও মা মনোয়ারা বেগমকে। বৃহস্পতিবার বিসিবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গেও তারা কথা বলেছেন। তাদের দাবি, শাহাদাত নির্দোষ ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান শেখ সোহেল শাহাদাতের জন্য আশার বাণীই শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘এখানে বিসিবির কিছু করার নেই। বিসিবি তো এই বিষয়টার সঙ্গে জড়িত নয়। এটা সিভিলিয়ান একটা ব্যাপার। আইন আছে, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমার মনে হয় অবশ্যই শাহাদাত খেলতে পারবে (জাতীয় ক্রিকেট লীগ)। কারণ তার তো ক্রিকেট বা খেলার ক্ষেত্রে এমন কোন আচরণ হয়নি। এটা আলাদা এবং তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটার সঙ্গে ক্রিকেটের কোন সংযুক্ত নেই।’

যদি খেলার সময় মাঠে পুলিশ শাহাদাতকে ধরতে আসে? এ বিষয়ে এটাও জানিয়ে রেখেছিলেন সোহেল, ‘এখনও তো তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হয়নি। ওয়ারেন্ট হওয়ার পর তখন একটা কিছু দেখা যাবে। ওয়ারেন্ট হোক, আইন কী বলে। যদি ওয়ারেন্ট হয় তখন বোর্ড আছে, ডিসিপ্লিন আছে কিছু একটা করা যাবে।’ কিন্তু শেষপর্যন্ত আশা হতাশাতেই পরিণত হয়ে গেল। বিসিবির সিইও জানিয়ে দিলেন, শাহাদাতকে ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ