২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোহলিদের সামনে চ্যালেঞ্জ দেখছেন সৌরভ

  • ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ ২২ বছর পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতে আকাশে উড়ছেন বিরাট কোহলিরা। অধিনায়ক হিসেবে ইন্ডিয়ান ‘ক্রেজি হিরোর’ সেটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিশন হওয়ায় উচ্ছ্বাসটা আরও বেশি। এবার ঘরের মাটিতে প্রতিপক্ষ দুর্ধর্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজ অঙ্গনে হলেও লড়াইটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে কোহলিদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন কলকাতার ‘দাদাবাবু’। বর্তমান বোর্ড (বিসিসিআই) উপদেষ্টার মতে, তিন স্পিনারকে নিয়ে দল ঘোষণা করলেও, মাঠে অতিথিদের একাদশে পেসারদেরই আধিক্য থাকবে। ঠিক একই ধারণা সাবেক প্রোটিয়া তারকা গ্রায়েম স্মিথেরও।

সৌরভ বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ অনেক বেশি টাফ হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ‘এক নম্বর’ দল এবং ওরা ২০০৬ সালের পর দেশের বাইরেও কোন সিরিজ হারেনি। এই দক্ষিণ আফ্রিকা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই ভয়ঙ্কর সুতরাং ঘরের মাটিতে হলেও কোহলিদের জন্য সিরিজটা চ্যালেঞ্জিং হবে। লঙ্কা সফরের সাফল্যে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। সবাইকে সিরিয়াস হতে হবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা দল ঘোষণার পর স্পিন আক্রমণ নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এমনিতে দেশটি বোলিং পেসনির্ভর। রয়েছে ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডারের মতো তুখোড় সব গতি তারকা। কিন্তু ভারতীয় কন্ডিশনে পেসারদের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এবার তিন-তিনজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে সফর করবে প্রোটিয়ারা!

প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন তরুণ রহস্য স্পিনার ডেন পিয়েড। যিনি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে অসাধারণ বোলিং করে নির্বাচকদের নজর কাড়েন। দুটি চার দিনের ম্যাচে ১১টি উইকেট তুলে নেন তিনি। ভারতীয়দের ভরসা রবিচন্দ্রন আশ্বিনের মতো ক্যারম দিতে পারেন। রয়েছে দুসরা এবং টপ-স্পিন ডেলিভারির ক্ষমতা। গত বছর আগস্টে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে অভিষেকে (এখন পর্যন্ত একমাত্র টেস্ট) ৮ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ২৫ বছরের কেপটাউন প্রতিভা। পরীক্ষিত ইমরান তাহিরের সঙ্গে আছেন আরেক নবীন সিমন হারমার। উপমহাদেশে জেপি ডুমিনির কার্যকারিতও প্রমাণিত। স্পিনারে একাকার প্রোটিয়া শিবির। তবে আলোচনায় কেবলই পিয়েড। তরুণ প্রোটিয়া স্পিনারকে অবশ্য পাত্তা দিচ্ছেন না সৌরভ।

তিনি বলেন, ‘আগে ও খেলুক তারপর না হয় বলা যাবে। তাছাড়া আমার এমনিতেও মনে হয় না শক্তির মূল জায়গা পেস কমিয়ে ওরা দু’জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে নামবে। জ্যাক ক্যালিস যদি থাকত, তাহলে হয়ত সম্ভব ছিল। এখন মনে হয় না আমলারা এমন ঝুঁকি নেবে। ওদের তো ডুমিনিও আছে, যে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে কাজটা ভালমতোই করে দিতে পারে। তবে, ভারতীয় কন্ডিশনে তাহিরই হবে কোহলিদের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।’ সৌরভ যেমন কোহলিদের, তেমনি স্মিথ আমলাদের চ্যালেঞ্জ দেখছেন! দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিহাসের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কিছুটা শঙ্কিত। এটা আমাদের জন্য কঠিন সফর হতে যাচ্ছে। ভারতে চার টেস্টের সিরিজটা সহজ হবে না, বিশেষ করে সেখানে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হবে, স্বাগতিকদের সমর্থনে অনেক দর্শক থাকবে এবং পিচ হবে স্পিন-সহায়ক।’

২০০৬ ও ২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে ড্র করা সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন স্মিথ। তিনি আরও যোগ করেন, ‘সব কিছু যাতে ভালোভাবে এগোয় আমি সেটিই আশা করব।’ এ মাসের শেষে দীর্ঘ ৭২ দিনের সফরে ভারতের সঙ্গে তিন টি২০, পাঁচ ওয়ানডে, চার টেস্টের সিরিজ ছাড়া কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২ অক্টোবর ধর্মশালায় প্রথম টি২০ দিলে শুরু হবে ময়দানি লড়াই।