২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সব ম্যাচ জিততে চান মুমিনুল

  • বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ভারত সফর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ও একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সঙ্গে রঞ্জি ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কর্ণাটকের বিপক্ষেও একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবে। এজন্য আজ ভারত সফরে যাচ্ছে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সফরের প্রতিটি ম্যাচ জিততে চান বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক। রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা সবাই চাচ্ছি সব ম্যাচ জিততে।’

এতদিন ‘এলিট প্লেয়ারস কন্ডিশনিং ক্যাম্পে’ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা। অবশ্য ‘এ’ দলে জাতীয় দলে খেলা ১৪ ক্রিকেটারই আছেন। রবিবারই প্রথমদিনের মতো নিজেরা একসঙ্গে অনুশীলন করলেন।

মুমিনুল শুরুতেই অধিনায়কত্ব ও নিজের ব্যাটিং নিয়ে জানালেন, ‘না এই কয়েকদিন এগুলো নিয়ে আসলে ভাবা হয়নি। ব্যাটিংটা যেভাবে উপভোগ করি অধিনায়কত্বও সেভাবে উপভোগ করব। নতুন করে অধিনায়কত্ব করব। তাই কিছু জিনিস শিখতে হবে। অনেক কিছুতেই কমতি থাকতে পারে। ওইগুলো রিকোভার করতে হবে। আমি মনে করি ভাল হবে। কারণ, আমার দলের সবাই পরিপক্ব ক্রিকেটার। অধিকাংশ ক্রিকেটার জাতীয় দলের। টিম হিসেবেও খুব ভাল। সব মিলিয়ে ভাল খেলতে পারব।’

সিরিজ শুরু হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। এদিন ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম একদিনের ম্যাচ হওয়ার পর ১৮ ও ২০ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় একদিনের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। একদিনের ম্যাচের সিরিজের জন্য এরই মধ্যে দলও ঘোষণা করেছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। উন্মুক্ত চাঁদের নেতৃত্বাধীন দলটিতে ভারতের জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য সুরেশ রায়না আছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে যে একমাত্র তিন দিনের ম্যাচটি শুরু হবে সেই দলের নেতৃত্বে থাকছেন শিখর ধাওয়ান নিজে। সঙ্গে আছেন রবীন্দ্র জাদেজাও। ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় সব ম্যাচ ব্যাঙ্গালুরুতে হবে। একদিনের সিরিজ শেষে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কর্ণাটকের বিপক্ষেও তিন দিনের একটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। যে দলটিতে ভারত জাতীয় দলে খেলা মানিশ পান্ডে, লোকেশ রাহুল, রবীন উথাপ্পা, স্টুয়ার্ট বিন্নি, বিনয় কুমার, অমান্নু মিঠুনরা আছেন।

সিরিজ কঠিন চ্যালেঞ্জের ও চাপ হয়ে যাবে? মুমিনুল জানালেন, ‘না এটা চাপ কাজ করছে না। এই লেভেলের ক্রিকেটে এই চাপ অবশ্যই থাকবে। আর যদি এই চাপ নেয়ার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে ক্রিকেট না খেলাই ভাল। এটা কোন গলির খেলা নয়। জাতীয় দলের খেলা ও ‘এ’ দলের খেলা। সামান্য চাপ থাকবেই।’ সঙ্গে জাতীয় দলের জয়ের ধারাবাহিকতার বিষয়টি টেনে বললেন, ‘আমাদের যেই জয়ের অভ্যাস তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। আর আমরা এই জিনিসটা হারাতেও চাইব না। আমরা এই চিন্তা মাথায় করে নিয়ে যাব।’

ভারত ‘এ’ দল ও কর্ণাটক দলটি যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে বাংলাদেশ ‘এ’ দলটিও কম শক্তিশালী নয়। শুধু সাকলায়েন সজিব ছাড়া বাকি ১৪ ক্রিকেটারই জাতীয় দলে খেলেছেন। মুমিনুল হক, নাসির হোসেন, এনামুল হক বিজয়, রনি তালুকদার, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান রুম্মন, সৌম্য সরকার, আরাফাত সানি, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভগত হোম চৌধুরী, জুবায়ের হোসেন জাতীয় দলে খেলেছেন।

কোন কিছু নিয়েই ভাবতে চান না মুমিনুল। খেলা উপভোগ করতে চান। বলেছেন, ‘এখন খেলা উপভোগ করব, খেলাটা ভাল করে খেলার চেষ্টা করব, পারফর্ম করব, এতটুকুই। আমরা সবাই চাচ্ছি সব ম্যাচ জিততে। কোচও চাচ্ছে, আমিও চাচ্ছি, সবাই চাচ্ছি। এর আগে আমরা জাতীয় দল চারটি সিরিজ জিতেছি। এখনও আমাদের সেই প্রত্যাশা আছে। আমরা ওখানেও সিরিজ জিতব ও ভাল ক্রিকেট খেলব। আমরা যদি ভাল ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে আমাদের পক্ষেও সিরিজ জয় সম্ভব। আর ওরাও জানে আমরা (বাংলাদেশ ‘এ’) ভাল দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন ভাল ক্রিকেট খেলছে। সবাই খুব ভাল পজিশনে আছে। এখানে আমরা, দশটি টেস্ট খেলোয়াড় আছে। আমরাও ভাল ক্রিকেট খেলব।’

ভারতে ২০১৬ সালে হবে টি২০ বিশ্বকাপ। এ সিরিজটি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য কাজে দেবে বলেই মনে করছেন মুমিনুল, ‘দুই-তিনমাস পর টি২০ বিশ্বকাপ। আমাদের ‘এ’ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই হয়ত খেলবে। ওই হিসেবে আমাদের খেলোয়াড়রা অবশ্যই ধারণা পাবে। আমার মনে হয় ওই দেশে (ভারতে) খেলতে পারবে, অবশ্যই ভাল হয়। ব্যাটিংয়ের জন্য ওদের উইকেট বেশ ভাল। আমার মনে হয় ধারণা পাবে।’

নির্বাচিত সংবাদ