১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেই কোন কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা ॥ রাজধানীর জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে

  • ১৯৭৮ সালের ৬০ ভাগ এখন মাত্র ২১ ভাগে নেমে এসেছে;###;প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজন ২৫ ভাগ জলাশয়

শাহীন রহমান ॥ দখল ভরাটের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জলাশয়গুলো। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা নিম্নভূমি তথা প্লাবনভূমিগুলোর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়াই কঠিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নের নামে ঢাকা ও এর আশপাশে বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল ভরাট ও দখল করা হয়েছে। অথচ একটি শহরের প্রাকৃতি ভারসাম্য রক্ষায় ২৫ ভাগের বেশি জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর এ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএসএস) প্রধান নির্বাহী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে জলাভূমিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। গুলশানসহ ঢাকা শহরের ভেতরে বড় বড় জলাধার ছিল। এখন সবই দখল হয়ে গেছে। আগে অনেক পুকুর থাকলেও এখন তার অস্তিত্ব নেই। একমাত্র হাতিরঝিল ছাড়া আর কোন জলাধার রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে সরকার চেষ্টা করলে এখনও পরিকল্পনা মাধ্যমে অনেক জলাধার ও নিম্নাঞ্চল রক্ষা করতে পারে। তিনি জানান, অবশ্যই ঢাকা শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে ২৫ ভাগের বেশি জলাশয় থাকা প্রয়োজন।

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) সমীক্ষায় এক সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে গত সাড়ে তিন দশকে হারিয়ে গেছে ঢাকার ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জলাভূমি, খাল ও নিম্নাঞ্চল। জলাশয় ভরাটের এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ ঢাকায় জলাশয় ও নিম্নভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ১০ শতাংশের নিচে নেমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে ১৯৭৮ সালে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৫২ হেক্টর ও নিম্নভূমি ১৩ হাজার ৫২৮ হেক্টর। একই সময়ে খাল ও নদী ছিল ২ হাজার ৯শ’ হেক্টর। রাজধানীর বৃষ্টির পানি এসব খাল দিয়েই পড়েছে নদীতে। ২০১৪ সালে ঢাকা ও আশপাশে জলাভূমি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৫ হেক্টর, নিম্নভূমি ৬ হাজার ১৯৮ হেক্টর এবং নদী-খাল ১ হাজার ২ হেক্টর। অর্থাৎ ৩৫ বছরে জলাশয় কমেছে ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ সময়ের ব্যবধানে নিম্নভূমি কমেছে ৫৪ দশমিক ১৮ ও নদী-খাল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

ওই সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৮ সালে ঢাকার মোট আয়তনের প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের জলাশয় ও নিম্নভূমি। বর্তমানে ঢাকার আয়তনের মাত্র ২১ শতাংশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল। আইডব্লিউএমের তথ্যমতে, ১৯৮৮ সালের পর দুদশকে বেশির ভাগ জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। ১৯৮৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ঢাকার প্রায় অর্ধেক নিম্নভূমি বিলীন হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর এ্যাডভান্সড স্টাডিজের (বিসিএসএস) গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে রাজধানী ঢাকা শহর ও চারপাশে কৃষিজমি হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে তৈরি করা হচ্ছে আবাসন প্রকল্প। জলাভূমিগুলোও এই দখল থেকে বাদ যাচ্ছে না। শহরের আশপাশ থেকে কৃষিজমি ও জলাভূমি ক্রমশ ধ্বংস হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে। ফলে খাদ্যশস্য ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন কমছে।

বিবিএসএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে জলাভূমি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এবং ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তোলার কারণে জলাভূমি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাসপাচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করার কারণে শহর থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। পানি নিষ্কাশন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাড্ডা, সাঁতারকুল, খিলক্ষেত, রামপুরা, দক্ষিণ ও উত্তরখানের বেশিরভাগ এলাকা একসময় জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল ছিল। গত এক যুগে এই জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চলের ৯০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাইরে কিছু বনভূমি বনানী, কৃষিজমি ও জলাশয় থাকলেও তা ধ্বংস হচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। এক যুগ আগেও সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ছিল সবুজে ঢাকা। ছিল নদী ও জলাশয়। ঢাকা মহানগরের ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মাত্র ৩৫ বর্গকিলোমিটার। আর জলাভূমির পরিমাণ ৭০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে আবার রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সংসদ ভবন লেক, ধানম-ি, উত্তরা, বনানী, গুলশান লেকসহ মোট ১০টি পার্ক ও লেক মিলিয়ে ২০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। অথচ এক যুগ আগেও ঢাকায় সবুজ এলাকা ছিল প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার। আর জলাভূমি ছিল ১০০ কিলোমিটারের বেশি। ২০০৫ সালে বাড্ডায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৮৬ বর্গকিলোমিটার। ২০১০ সালে তা কমে হয় ৩ দশমিক ৯৫ বর্গ কিলোমিটারে।

পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিবেশ সংগঠন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, উন্নয়নের নামেই সরকারী বেসরকারী সংগঠন এসব জলাধার ও নিম্নাঞ্চল দখল করছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন হাউসিং কোম্পানি নিম্নাঞ্চল ভরাট করছে। জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল ভরাট ও দখলের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নগরবাসী প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত হবে যেসব জলাধার রয়েছে তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা মহানগরীর ভেতরে এক সময় বেশিরভাগ এলাকায় নিম্নভূমি ও জলাশয় থাকলেও এখন তার চিহ্নও নেই। কিন্তু মহানগর এলাকার বাইরে এখনও জলাভূমি কিছুটা টিকে আছে। যার বেশির ভাগই এখন দখল ও দূষণের শিকার। তাদের মতে জলাশয়গুলো দখল ও ভরাট করা করার কারণে মানুষ এখন সারফেস ওয়াটারের পরিবর্তে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বেশি নির্ভর করছে। এ কারণে ভূগর্ভের পানির স্তরও দিন দিন কমে আসছে। রাজধানীর বাসিন্দাদের ৮৬ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চারদিকের জলাশয় কমে আসায় ঢাকা শহরের পানির স্তর এখন সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ১৭০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর ফলে সাগরের লোনা পানি দক্ষিণাঞ্চল পার হয়ে এখন ঢাকা মহানগরীসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের দিকে আসছে। অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে ঢাকার পানিতে লবণাক্ততা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার এক গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাটির দেশ নদীর দেশ বাংলাদেশ। আক্ষরিক অর্থেই খাল বিল নালা হাওড় বাঁওড়ের জলাভূমির দেশ। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের লীলাভূমি এ দেশে নানা জায়গাতেই রয়েছে হাওড় বিল ও জলাভূমি। রাজধানী ঢাকাতেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। আবহমান কাল থেকে মানুষের জীবনের সঙ্গে এসব জলাভূমির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। জীববৈচিত্র্যের আবাস এসব জলাধার। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষিজমি যেমন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে পতিত ও অনাবশ্যক জমি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে জলাভূমি। ফলে দিন দিন তা দখল ও ভরাট করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। দখলদার হাত থেকে যেমন রক্ষা পাচ্ছে না দেশের নদ নদী ও জলাভূমি। তাদের মতে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক জলাধারগুলোকে চিহ্নিত করে এর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের এখই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

তারা বলছেন, সরকার জলাধার রক্ষায় ২০০০ সালে আলাদা আইন করলেও এর কোন সুফল নেই। অথচ এ আইনে কোন অবস্থায় খাল বিল নদী নালা পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের স্বাভাবিক গতি ও প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। এমনকি সড়ক মহাসড়ক ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণকালেও প্রাকৃতিক জলাশয় জলাধার খাল নদী ইত্যাদির স্বাভাবিকতা নষ্ট করা যাবে না। আইনে বলা হয়েছে জনস্বার্থে ও একান্ত প্রয়োজন হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু জলাধার আইনের তোয়াক্কা না করে জলাশয়গুলো দ্রুত দখল ও ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তুলছে। নির্বিচারে জলাধার ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে না, কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ বলছেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জলাভূমি সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদনশীলতার হিসাবে পৃথিবীর মোট উৎপাদনের শতকরা ২৪ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে জলাভূমি। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও পৃথিবীর প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষের (যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেক) প্রধান খাদ্য ধানের বেশিরভাগই উৎপাদিত হয় জলাভূমিতে। পৃথিবীর শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে প্রচ- শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য যেসব পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতর দেশগুলোতে আসে, তাদের প্রধান আশ্রয়স্থল এ জলাভূমিগুলো।

পানির রাসায়নিক উপাদান নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান শোষণ করে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধিতে সহায়তার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দূষিত পানি বিশুদ্ধকরণেও ভূমিকা রাখে জলাভূমি। এছাড়াও বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতি সংরক্ষণেও সংরক্ষিত জলাভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে জলাভূমি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জল-জঙ্গল-জমি এই তিনটি বিষয়ই যে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তা পরিবেশবিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রমাণিত। এ কারণেই জলাভূমির অপর নাম প্রাকৃতিক সম্পদভা-ার। জলাভূমির মাধ্যমে জল চুঁইয়ে ভূগর্ভস্থ পানীয় জলভা-ার তৈরি হয়। জলাভূমিতে তৈরি হওয়া এমন অনেক উদ্ভিদ আছে, যারা অন্যান্য অনেক গাছের থেকে বেশি কার্বন শোষণ করে এবং অনেক অক্সিজেন তৈরি করে। বহু ধরনের প্রাণের সঞ্চার হয় জলাভূমিতে। এই উৎপাদিত প্রাণের অনেকগুলো যেমন মানুষের খাদ্য। আবার অনেকগুলো অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য। জলাভূমি পরিবেশের উষ্ণায়ন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দেশে মৌসুমি বায়ু আসার আগে মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে যে বৃষ্টিপাত হয় তার উৎস হচ্ছে স্থানীয় নদী ও জলাশয় থেকে সৃষ্ট জলীয়বাষ্প থেকে। কিন্তু দিন দিন জলাভূমি, কমে যাওয়ার কারণে এই তিন মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যেমন কমেছে তেমনি গড় তাপমাত্রাও বাড়ছে। প্রতিবছর এই তিন মাসে দশমিক শূন্য ৬৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ছে।

আবহমানকাল থেকেই দেশে জলাভূমির ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও ক্রমেই তা কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থর থেকে অধিক মাত্রায় পানি তোলা ও ভারতের এরকতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকার বাইরের জলাভূমিও এখন আর টিকে থাকছে না। অথচ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের লীলাভূমি এ দেশে নানা জায়গাতেই রয়েছে হাওড় বিল ও জলাভূমি। মানুষের জীবনের সঙ্গে জলাভূমির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। জীববৈচিত্র্যের আবাস এসব জলাধার। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষিজমি যেমন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে পতিত ও অনাবশ্যক জমি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে জলাভূমি। ফলে দিন দিন তা দখল ও ভরাট করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা।

অথচ তাদের মতে, জলাভূমির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যার ঝুঁঁকিযুক্ত অঞ্চলগুলোর সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ প্রতিবেশ ঠিক রাখতে জলাভূমি রক্ষা করতে হবে। জলাভূমি বাঁচলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। মাছ, পশু-পাখি, উদ্ভিদ সকল প্রাণির জীবন সচল রাখতে পানি অপরিহার্য। জলাভূমি রক্ষা করতে পারলে তবেই আমাদের পারিবেশ ভাল থাকবে। জলাধার বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। এছাড়া জলাভূমি রক্ষায় জলাভূমির সঠিক ব্যবস্থাপনা করা, ঝুঁঁকিপূর্ণ জলাভূমি চিহ্নিত করা, জলজ প্রাণীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, সচেতনেতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা উচিত।