১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মক্কায় ক্রেন দুর্ঘটনা নিহতদের তালিকায় চট্টগ্রামের আবুল কাশেম সুফী শনাক্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদুল হারামে শুক্রবার ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আবুল কাশেম নামে এক বাংলাদেশী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ হজ মিশন। নিহত হজযাত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে। এর বাইরে আরও কেউ মারা গেছে কি না সেটা খতিয়ে দেখছে হজ মিশন। তবে এ ঘটনায় আব্দুর রব নামের এক বাংলাদেশী হজযাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করছেন মক্কায় অবস্থানরত কয়েক বাংলাদেশী হজযাত্রী। রবিবার সৌদি আরব সময় দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এক বাংলাদেশী নিহত ও একজন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করে বাংলাদেশ দূতাবাসও।

এ বিষয় জানতে চাইলে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল (হজ) আসাদুজ্জামান বলেন, শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স নিহত ১০৭ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে আবুল কাশেমকে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আর কোন বাংলাদেশী নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ দিকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আল আরাবিয়া এক খবরে জানায়, শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৫ বাংলাদেশী রয়েছেন। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১০৭ নিহতের মধ্যে ২৫ বাংলাদেশী, ২৩ মিসরীয়, ১০ ভারতীয়, ২৫ ইরানী, ৬ মালয়েশীয়, একজন আলজিরিয়ার ও একজন আফগান।

তবে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের কনস্যুলার জহিরুল ইসলাম। রবিবার রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করে বলেন, এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুই নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) আলতাফ হোসেন জানান, আমরা কনস্যুলেটের হটলাইনে দুই বাংলাদেশী নিখোঁজের খবর পেয়েছি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আবুল কাশেম সুফীকে পরবর্তীতে শনাক্ত করা হয়। আবুলে কাশেমের মরদেহ বর্তমানে মক্কার আল নূর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ অপর ব্যক্তি হলেন খুলনার তেরখাদা উপজেলার সরদার আব্দুর রব (৫৯)। তাঁর হজ আইডি নং ০৭৮০০৬৯।

নিখোঁজ হজযাত্রী আব্দুর রবের সহযাত্রী শফিউদ্দিন জানান, ঘটনার সময় উনি আহত হলে একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে অনুসন্ধানে তার খবর পাইনি। শনিবার সৌদি সরকার নিহতদের যে তালিকা এবং ছবি প্রকাশ করেছে সেখানেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানান শফিউদ্দিন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ঝড়োহাওয়ায় মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ প্রকল্পের একটি ক্রেন ধসে পড়ে। এতে ১০৭ নিহত ও ২৮ বাংলাদেশীসহ ২৩৮ জন আহত হন।