১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরীয়তপুরে রাসেল স্মৃতি ক্লাবঘরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর ॥ নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারে অবস্থিত রাসেল স্মৃতি সংসদের ক্লাবঘরে টাঙানো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ আসবাবপত্র রবিবার সকালে ভাংচুর করে ঘরটি দখল করার চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ এর জন্য একে অন্যকে দায়ী করেছে।

একটি গ্রুপ দাবি, ঘরটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। অপর গ্রুপ বলছে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় এটি। উভয় গ্রুপই দোষীদের শাস্তি চেয়েছে। খবর পেয়ে নড়িয়া থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। ভোজেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি নূরুল হক বেপারি কতিপয় স্থানীয় লোকজন নিয়ে ছবি ও সাইনবোর্ড ভাঙ্গার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে ভোজেশ্বর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে । ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহম্মদ সিকদার বলেন, ‘ঘরটি আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সীমনের। রবিবার আমি ও আমার ছেলেরা শরীয়তপুরে একটি মামলায় কোর্টে হাজিরা দিতে যাই। এ ফাঁকে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ভাই নূরুল হক বেপারি ও তার লোকজন ঘরটি দখলের জন্য ঘরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ আসবাব পত্র ভাংচুর করে পরিকল্পিতভাবে দখলের পাঁয়তারা করেছে। আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলা করে আমাকে হয়রানি করার ফাঁদ পেতেছে। আমি এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেব।

নূরুল হক বেপারি বলেন, এ ঘরটি ২০ বছর যাবত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ঘরটি কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী। সীমন বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ঘরটি আওয়ামী লীগের অফিসের নামে লিখে দেননি। রবিবারের ঘটনার জন্য তিনি আলী আহম্মদ সিকদার ও তার লোকজনকে দায়ী করেন। তারা ব্যবসার জন্য ঘরটি দখলের চেষ্টা করছে।

নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঃ জলিল সরদার ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল সরদার এই প্রতিবেদকে বলেন, ‘আমরা ঘরটিকে আওয়ামী লীগের অফিস হিসেবে দেখতে চাই।’ সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, ‘ভোজেশ্বর বাজারের দক্ষিণ মাথায় যে ঘরটিতে ছবি ভাংচুর করা হয়েছে সেটি আমার ক্রয়কৃত ঘর। ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে আমি সেটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। ঘরটি দখলের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল হক ও তার লোকজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে দখলের চেষ্টা করেছে। আমি এর নিন্দা জানাই।’