১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গৃহকর্মীকে নির্যাতন ক্রিকেটে নিষিদ্ধ শাহাদাত

গৃহকর্মীকে নির্যাতন ক্রিকেটে নিষিদ্ধ শাহাদাত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিবের জীবনে এমন এক কলঙ্ক যুক্ত হয়ে গেছে, শুধু ধিক্কারই মিলছে। মাত্র ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে তিনি নির্যাতন করেছেন। এমন ঘটনায় শাহাদাতের কপালে মামলাও জুটেছে। এখন পালিয়েও বেড়াচ্ছেন শাহাদাত। সবাই যখন ধিক্কার দিচ্ছেন, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কী আর তা না করে পারে? শাহাদাতকে তাই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।

যতদিন পর্যন্ত শাহাদাতের এ বিষয়টি কোন সুরাহা হবে না, ততদিন পর্যন্ত না কোন ঘরোয়া ক্রিকেট, না কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, না কোন ক্রিকেট সম্পর্কিত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন শাহাদাত। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এমনটিই জানিয়েছেন রবিবার।

বলেছেন, ‘আপনারা জানেন যে, জাতীয় দলের একজন (শাহাদাত হোসেন রাজিব) ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ এসেছে শিশু নির্যাতনের। বিষয়টা আইনী প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ আছে। তারা বিষয়টা দেখছেন। এক্ষেত্রে বোর্ডের একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টা সমাধান না হয়, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন রিপোর্ট না পাই, ততদিন পর্যন্ত জাতীয় দলের এই পেসারের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোন কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ স্থগিত রাখব। তাকে অংশগ্রহণ করতে দেব না। বিসিবির কোন কার্যক্রম যেমনÑ কোন ট্রেনিং, প্র্যাকটিস ক্যাম্প, কোন ধরনের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখছি।’

শনিবার বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে যেটা দেখেছি, এই ব্যাপারে আমি কেন, বিসিবি কেন, কোন মানুষেরই তো ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ দেখি না। তাই আমরা কোনভাবেই এটা মেনে নিতে পারি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল, আমি দেখা করিনি। এখানে আমার কিছুই করণীয় নাই। এটা সম্পূর্ণ আইনের বিষয়। এই কাজ যদি সে করে থাকে, এটা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। এখানে কেউ ছাড় দেবে না। বিসিবি তো প্রশ্নই ওঠে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না হচ্ছে, আমরা বিসিবি ওর সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে চাই না। আমরা এখন চুপ আছি, চুপ থাকব।’ শাহাদাতের ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বিসিবিপ্রধান বলেছিলেন, ‘এটা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, সম্ভাবনা খুব বেশি। যতক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হচ্ছে। ক্রিকেট থেকে সে আলাদাই থাকবে।’ রবিবারই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, শাহাদাতকে ক্রিকেটের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তই নেয়া হয়েছে।

ফেরারি আসামি এখন শাহাদাত। গত ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার মিরপুর থানায় শাহাদাত একটি জিডি করেন; যাতে তিনি বলেন, তারা বাসার গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর একইদিন রাত ৮টার দিকে মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে হ্যাপিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হ্যাপি অভিযোগ করে, শাহাদাতের বাসায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। পুলিশ হ্যাপিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে। একই সঙ্গে খন্দকার মোজাম্মেল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশু নির্যাতনের দায়ে শাহাদাতের নামে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই স্ত্রীসহ পলাতক শাহাদাত। পুলিশ এখনও তাকে খুঁজছে।

ঘটনার সাতদিন অতিক্রম না হতেই বিসিবিও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। শাহাদাতকে আপাতত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। যতদিন এ ঘটনার মামলার কোন সুরাহা না হবে, ততদিন পর্যন্ত কোন ধরনের ক্রিকেট কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না ৩৮ টেস্ট ও ৫১ ওয়ানডে খেলা পেসার শাহাদাত।

নির্বাচিত সংবাদ