২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যারাগন লেদারের মামলায় ৫ আসামিকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ার সার্টিফিকেট প্রতারণা মামলায় পাঁচ আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার প্যারাগন লেদার এ্যান্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজের মামলার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবীর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিরা হলেন - প্যারাগণ লেদারের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ সালাম, কর্পোরেট এ্যাডভাইজার আব্দুস সালাম, এ্যাকাউন্ট অফিসার মো. জালাল উদ্দিন, শেয়ার অফিসার এসএম জুনায়েদ বাগদাদী ও কম্পিউটার অপারেটর হেমন্ত বাইন ভূঞা। এ মামলার মোট আসামি ২০ জন হলেও সোমবার ট্রাইব্যুনালে এই ৫ আসামি আত্মসমর্পণ করেন।

আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। এ ছাড়া সাক্ষীদের জেরা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান তিনি। আবেদনে সৈয়দ রেজাউর রহমান আদালতকে জানান, তার মক্কেলগণ মিসগাইড হওয়ায় এর আগে হাজিরা দেননি। হাইকোর্টে মামলা পেন্ডিং থাকায় তাদের হাজিরা দিতে হবে না বলে মিসগাইড করেছিল তাদের পূর্ববর্তী আইনজীবী।

এ দিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আইনজীবী মাসুদ রানা খান জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, আসামিরা মামলাটি সম্পর্কে অবগত ছিল। এ ছাড়া প্যারাগণ লেদারের মামলাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। তারপরও আসামিরা আদালতে হাজিরা দেয়নি।

শুনানি শেষে বিচারপতি হূমায়ুন কবির আসামিদের জামিন মঞ্জুর না করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তবে সাক্ষীদের জেরা করার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় আসামিদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে।

বিএসইসির আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, সোমবারে পাঁচ আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন ও সাক্ষীদের জেরা করার আবেদন করে। আদালত সবকিছু বিবেচনা করে জামিন নামঞ্জুর ও সাক্ষীদের জেরা করার আবেদন মঞ্জুর করেছে।

এদিকে সোমবার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবেক কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ও বিভাস সাহার এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য পূর্বনির্ধারিত তারিখ ছিল। তবে সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্যারাগন লেদার এ্যান্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার সার্টিফিকেট নিয়ে প্রতারণা মামলায় সাক্ষ্য দেন পূবালী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সুশীল চন্দ্র শিকদার। ১৩ আগস্ট সন্ধানী ক্রেডিট এ্যান্ড কো-অপারেটিভের ম্যানেজার মিজানুর রহমান ও চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটির ডিএমডি সিরাজুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া বাদী হিসেবে কমিশনের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান।

প্যারাগন লেদারের শেয়ার জালিয়াতি নিয়ে কোম্পানিসহ ২০ জনকে আসামি করে ২০০১ সালে মামলা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। এই মামলার আসামিরা হলেন : এমএ সালাম, আবুল কালাম আজাদ, নূর মোহাম্মদ, আব্দুস সালাম, এস এস জুনায়েদ বাগদাদী, মো. কুতুবউদ্দিন, মো. আরব মিয়া, আলী আহম্মেদ, মো. নূরুল আফসার, মো. কলিমউদ্দিন, মো. জালাল উদ্দিন, হেমন্ত বাইন, এবিএম মোরশেদুল হক, মো. সাইফুল্লা মিজান, শামসুল হাদী, মো. বশির আলম, মাহবুবুর, মাহবুবুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্যারাগন লেদার এ্যান্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

মামলা সূত্রে জানা যায়,প্যারাগন লেদারের শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসইসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে ওই কমিটি ২০০১ সালের ৩১ মে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিগণ কোম্পানির শেয়ার জাল করার ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরে এই জাল শেয়ার সার্টিফিকেট কিছু ব্যক্তি ও কোম্পানিটির কিছু কর্মকর্তা ঋণের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়। আর ওইসব জাল শেয়ার সার্টিফিকেট ব্যাংকের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসে। শেষ পর্যন্ত ওই সব শেয়ার বাজারে এসে মারাত্মক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করে এবং নির্দোষ বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাল শেয়ার গ্রহণ করা ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা আসামিগণের প্রত্যেকের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা করে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। এ ছাড়া আসামিদের দু’জন জাল শেয়ার সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সন্ধানী ক্রেডিট এ্যান্ড কো-অপারেটিভ ও চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে ঋণ গ্রহণ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটি ওই সময় তিন ধরনের শেয়ার ইস্যু করে, যা ইস্যু করার মতো আইনগত কোনো ভিত্তি ছিল না। আর ফুজি বাংলা নামের কোরিয়ান কোম্পানি থেকে বিল্লিনামের একজনকে প্যারাগন লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করার সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। কিন্তু এটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হওয়া সত্ত্বেও গোপন করে কোম্পানিটি। আর এই তথ্য গোপন রেখে আসামিরা কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয় করে স্বার্থ হাসিলের জন্য।