১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার যানজট ও জলাবদ্ধতা

  • কাজী সেলিম

আইনগত প্রশ্ন করা যায় যে, ওই সকল তথাকথিত প্রভাবশালী সমাজবিরোধীরা কি সরকার ও ওয়াসার চেয়েও শক্তিধর? গতকালের পর আজ পড়ুন শেষ কিস্তি...

ঢাকা শহরের পুরনো কতগুলো ন্যাচারাল আউটলেট বা বৃষ্টির পানি নির্গমনের জন্য আগের নালীপথগুলো আশির দশকে বিশেষ করে এরশাদ সরকারের আমলে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য কোন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা যাচাই-বাছাই ও স্থানীয়দের মতামত গ্রহণ না করেই ঢাকা শহরের দক্ষিণে ‘নর্থসাউথ’ সড়ক নির্মাণ করে আগের সকল বৃষ্টি ও পয়ঃপ্রণালীর প্রাকৃতিক পথগুলো বন্ধ হওয়ায় এখন দশ মিনিটের ভারি বর্ষণেই ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটগুলো যেন বুড়িগঙ্গা নদীর উপশাখায় পরিণত হয়। ঢাকা শহরের পূর্বের সকল পানি নির্গমনের বা নিষ্কাশনের ‘ন্যাচারাল আউটলেট’গুলোকে পুনরায় উদ্ধার করে জরুরী ভিত্তিতে সচল ও চালু করা উচিত। গত ২৯ জুন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার অধীন সরকারী ২৬টি খালের অর্ধেকই নাকি প্রভাবশালী গণবিরোধীদের দখলে রয়েছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরী ঢাকায় সৃষ্টি হয় সীমাহীন কষ্টকর জলাবদ্ধতা। আইনগত প্রশ্ন করা যায় যে, ওই সকল তথাকথিত প্রভাবশালী সমাজবিরোধীরা কি সরকার ও ওয়াসার চেয়েও শক্তিধর? গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির উপস্থিতিতে ওই ২৬ খালকে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করে অবিলম্বে পুনর্খনন করে ঢাকা শহরের মূল পানি নিষ্কাশনের লাইনের সঙ্গে পুনর্সংযোগ স্থাপন করে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার মহাদুর্যোগ থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। অবৈধ খাল, নদী-নালা দখলকারীদের জেল-জরিমানা প্রদান করে ভবিষ্যতের জন্য সরকারী সম্পত্তি ও জায়গা দখল করে জনগণের দুর্ভোগ ও কষ্টের পথ সৃষ্টি না করার অপরাধ বা অপকর্মের পথে না যাওয়ার সংবাদ পৌঁছানো উচিত।

সমন্বয়হীন ও অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট খনন করে সকল বিভাগের দায়সারা কর্মকা- পরিচালনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে সকল রাস্তাঘাট নির্মাণ, মেরামত ও খনন কাজের পরিসমাপ্তি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ, বরখেলাপের তারতম্য ঘটলে বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান প্রকৌশলীসহ দায়িত্বরত টিম বা গ্রুপকে জবাবদিহিসহ চাকরিচ্যুত করার কঠোর বিধান থাকা ও চালু করা উচিত। ভারি বর্ষণে ঢাকার রাস্তাঘাট ডুবে জলাবদ্ধতা হওয়ার অপর একটি অন্যতম কারণ বিদ্যমান ড্রেনেজ ও স্টম স্যুয়ারেজ লাইনগুলোতে বদ্ধতার সৃষ্টি হওয়া। যেগুলোকে ঢাকা ওয়াসার তরফ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার বা পর্যবেক্ষণ করা হয় না। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার বহু আগেই ওয়াসার এই চলমান রুটিন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও আবশ্যকতাকে ঢাকা ওয়াসার অন্যতম মুখ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে কঠোরভাবে পালন করা উচিত। ঢাকা শহরে বিরামহীন ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ভয়াবহ অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পানির ত্বরিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা করে তার উপস্থিতি তদারক করার মতো ঢাকা সিটি কর্পোরেশন অথবা ঢাকা ওয়াসার জরুরী বিভাগের কোন পদস্থ কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। এ ধরনের জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য জরুরী সার্ভিসসমূহের কর্মী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাজপথে অথবা রাস্তাঘাটে কাজের তদারকিতে থাকার কথা।

ঢাকা ওয়াসার অপ্রস্তুত, ভঙ্গুর অচল ব্যবস্থাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ নগরবাসীর কল্যাণে ব্যবহার উপযোগী একটি শক্তিশালী বিভাগে পরিণত করা উচিত। এ বিষয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সমন্বিত পরিকল্পিত দায়িত্ব ও কর্মসূচী প্রস্তুত করে বৃষ্টির ভরা মৌসুমে সম্প্রতি ঘটিত জলাবদ্ধতার এ ধরনের মহাদুর্যোগের ক্রান্তিকালে তাদের যথাযথ ও স্বস্ব দায়িত্ব পালন ও দ্রুত এ্যাকশনে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

লেখক : গবেষক