১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ে পোর্টেবল ওয়েব্রিজ বছর ধরে অচল হয়ে আছে

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পোর্টেবল ওয়েব্রিজ নির্মাণ ও চালু করার এক মাসের (৩০ দিন) মধ্যে অচল হয়ে যায়। তারপর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও আর সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে সোনামসজিদ বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সোনামসজিদ বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণে সওজ পোর্টেবল ওয়েব্রিজটি কয়লাবাড়ী নামক স্থানে নির্মাণ করে। সোনামসজিদ বন্দরের খুবই কাছাকাছি ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ওয়েব্রিজটি উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় অবৈধ অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত। ফলে যেসব আমদানিকারক বন্দর হয়ে আসা অতিরিক্ত পণ্য বহন করতো তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ষড়যন্ত্র করে পোর্টেবল ওয়েব্রিজটি অচল করায়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ম্যানেজ করে চালু হওয়ার এক মাসের মধ্যে ওয়েব্রিজের কম্পিউটার সফটওয়ারটিকে বিকল করে ফেলা হয়। ফলে ওয়েব্রিজের পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে আমদানিকারকদের ষড়যন্ত্র সফল হয়। এবার কম্পিউটার সফটওয়ার ত্রুটি সারাতে তা খুলে ঢাকা পাঠানো হয়। কিন্তু এই ত্রুটি কৃত্রিম বলে এক বছরেও সারিয়ে আনা হয়নি। তৎকালীন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী যেহেতু ম্যানেজ হয়ে সংস্কারের নামে কম্পিউটার সফটওয়ারটি ঢাকা পাঠিয়েছিল পরবর্তীতে তা আর আনা হচ্ছে না। ফলে সড়ক জনপধ বিভাগ যে উদ্দেশে পোর্টেবল ওয়েব্রিজ স্থাপন করেছিল সেই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লোড বহনকারী ট্রাকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ৮০ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

সাধারণত ৬ চাকার ট্রাক ১৫ টন ও ১০ চাকার ট্রাক ২২ টন পণ্য বহনের জন্য উপযুক্ত কিন্তু এখন ওয়েব্রিজ না থাকায় একটি ট্রাক ৫০ থেকে ৬৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত পণ্য বহন করছে। ফলে সড়ক ফেটে যাচ্ছে নতুবা দেবে গিয়ে খাঁদের সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত পণ্য বহনের কারণে শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ (মহানন্দা সেতু) সেতুটি হুমকির মুখে রয়েছে। পুরো সেতুজুড়ে বহুস্থানে সূক্ষ্ম চিড় বা ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে পোর্টেবল ওয়েব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল তার ওজন বহনের ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪০ টন।

কিন্তু তার ওপর ৬০Ñ৬৫ টনের ট্রাক ওঠায় ওয়েব্রিজটি ভার সহ্য করতে না পারায় সফটওয়ার বিকল হয়েছে বলে সড়ক বিভাগ অভিমত দিয়েছে। কিন্তু সড়ক বিভাগের জনৈক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী ট্রাক তার ওপর উঠিয়ে ইচ্ছাকৃত নষ্ট করা হয়েছে। তাদের অভিমত নষ্ট হওয়া কম্পিউটার সফটওয়ারটি চীন ছাড়া কেউ সারাতে পারবে না। আর চীনে পাঠানোর কারণে তা মেরামত করে আনতে সময় নিচ্ছে। তবে সোনামসজিদ বন্দরে পানামা অভ্যন্তরে যে ওয়েব্রিজটি রয়েছে তার আদলে সড়ক বিভাগ ওয়েব্রিজ নির্মাণ না করলে বার বার তা নষ্ট হবে। বিধায় স্থায়ী ওয়েব্রিজ মহাসড়কে চালু করা প্রয়োজন এই মুহূর্তে। ট্রাক মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি অবিলম্বে সোনামসজিদ বন্দরগামী সড়কের কয়লাবাড়ীতে স্থায়ীভাবে পোর্টেবল ওয়েব্রিজ নির্মাণ করা না হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।