১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর গল্প বলা ভিন্ন বিকেল

জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর গল্প বলা ভিন্ন বিকেল
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আয়োজনটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত। গল্পচ্ছ বলে যাওয়া স্বাধীনতার মহান স্থপতির কথা। বলা হলো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের। কথকের ভূমিকায় ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তাঁর বয়ানে উঠে এলো মহানায়কের শৈশবের সাহসী ভূমিকা, কৈশোরের শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক জীবন, জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ, ঘাত-প্রতিঘাত, কারা নির্যাতন এবং বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধু হয়ে বেড়ে ওঠা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জনকের অবদান। সোমবার শরতের বিকেলে বঙ্গবন্ধুর গল্প বলা শীর্ষক দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর। জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে জাদুঘরের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতির পিতার গল্প বলেন বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন রাজনৈতিক সহচর ও বর্তমান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এম আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক আবেদ খান।

বাঙালী জাতিসত্তা বিকাশে জাতির জনকের ভূমিকা প্রসঙ্গে আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারাজীবনের সাধনা ছিল বাঙালী জাতিসত্তার উন্মেষ। তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা প্রশাসনিক সব ধরনের কর্মকা-ের মূল উৎস ছিল বাঙালী জাতীয়তাবাদ। এ কারণেই কেবল পনেরোই আগস্ট নয়, জাতিসত্তার প্রতিমুহূর্তে তিনি বিরাজমান।

কথকের গল্পে উচ্চারিত হয় বঙ্গবন্ধুর সাহসী শৈশবের কথা। এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী, শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন। একইসঙ্গে ধারণ করতেন সংগ্রামী চেতনা। তিনি স্কুলে পড়ার সময় একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কিছু দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হয়। কিন্তু তাঁরা দু’জনই বক্তব্যে ছাত্রদের দাবিগুলোকে পাশ কাটিয়ে যান। তাঁরা দু’জন যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন তাঁদের পথরোধ করলেন বঙ্গবন্ধু। দুই নেতাকে থামিয়ে জানিয়ে দিলেন ছাত্রদের দাবির কথা। এ ঘটনায় সোহ্রাওয়ার্দী বেশ বিস্মিত হলেন। দাবিগুলো টুকে রেখে তিনি বঙ্গবন্ধুকে বললেন, তুমি স্কুল পাস করে কলকাতায় এসে আমার সঙ্গে দেখা কর।

বাঙালীর জাতিসত্তার প্রতি বঙ্গবন্ধুর মমত্ববোধ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সে সময় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ধারাটি ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ধারা ছিল অবিভক্ত বাংলাপন্থী মুসলিম লীগ, যার নেতৃত্বে সোহ্রাওয়ার্দী। অপর ধারাটি ছিল পাকিস্তানপন্থী। এ ধারার নেতৃত্বে ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন। বঙ্গবন্ধু কলকাতা থেকে ফিরে সোহ্রাওয়ার্দীর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেই রাজনৈতিক পথযাত্রা শুরু করলেন। আর সুযোগ থাকলেও তিনি কখনই পাকিস্তানভিত্তিক রাজনীতির পথে না হেঁটে পূর্ব বাংলাভিত্তিক রাজনীতি করেছেন। বাংলাদেশ শব্দটি বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেছিলেন অনেক আগে। এমনকি ষাটের দশকেই আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি গানটির প্রতি নিজের অনুরাগ প্রকাশ করেছিলেন। এ সময় তাঁর রাজনৈতিক সঙ্গী-সাথীদের বলতেন, এই দেশ স্বাধীন হলে এটাই হবে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।

কথার পিঠে কথার সূত্র ধরে ওঠে বঙ্গবন্ধুর মানবতাবোধ। এ প্রসঙ্গে আমু বলেন, পায়ে হেঁটে, গরুর গাড়িতে চড়ে সারাদেশে ঘুরে ঘুরে তিনি সংগঠন গড়েছিলেন। আর তিনি যেখানেই যেতেন সেখানকার মানুষদের সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতেন। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর আর্থিক অবস্থা কেমন সেটা জেনে নিতেন। এমনকি খাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। যখন যেভাবে পারতেন নেতাকর্মীদের সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। তাঁর কাছ থেকে কেউ কখনও কিছু চেয়ে খালি হাতে ফেরেনি। দুর্ভিক্ষের সময় নিজের গোলা খুলে অভাবীদের মাঝে চাল বিতরণ করেছেন। এমনকি তাঁকে যখন হত্যা করা হয় বাসা এবং ব্যাংকের সব কিছু মিলিয়ে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর পরিবারের খরচটিও টুঙ্গিপাড়া থেকে আসত বলে আমরা জানতাম। নিজের সর্বস্বই সংগঠনের জন্য ব্যয় করতেন। এমনও হয়েছে বিরোধীপক্ষের লোকজনও তাঁর কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েছেন। মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসা ছিল অপরিসীম।

বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ এই জীবনে এত বড় দেশপ্রেমিক মানুষ আমি আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। বাংলাদেশকে কিভাবে একটি উন্নত দেশে পরিণত করবেন সেই ভাবনায় নিজেকে সর্বক্ষণ নিবেদিত রাখতেন। ১৯৭৪ সালেই তিনি সমুদ্রসীমার রূপরেখা দিয়ে গেছেন। কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র করা, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক নির্মাণ, এফডিসি স্টুডিও প্রতিষ্ঠা, পরিকল্পনা কমিশন গঠন, ওয়াপদা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাবনার প্রতিফলন পাওয়া যায়।

পনেরোই আগস্টের হত্যাকা- প্রসঙ্গে আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু আসলে কখনই বিশ^াস করেননি যে কোন বাঙালী তাঁকে হত্যা করতে পারে। এ কারণে বহির্বিশে^র বিভিন্ন নেতাদের সতর্কতা বাণীসহ অনেক ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস পেলেও সেগুলোকে পাত্তা দেননি।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নিজের শেষ আলাপচারিতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ পঁচাত্তরের তেরোই আগস্ট রাতে তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন আমি প্রতিদিনই রাত আটটার পর বত্রিশ নম্বরে যেতাম। জাতির জনকের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলতাম।

সভাপতির বক্তব্যে এম আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে এখন অনেক অজানা বিষয় রয়ে গেছে। দীর্ঘকাল ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণেই বার বার বঙ্গবন্ধুকে তুলে আনতে হয়েছে। গল্প বলা অনুষ্ঠান সেই অজানাকে জানতে সহায়তা করবে।

মঞ্চস্থ নকশী কাঁথার মাঠ ॥ সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হলো বুনন থিয়েটারের প্রযোজনা নকশী কাঁথার মাঠ। পল্লীকবি জসিমউদ্দীন রচিত আখ্যানকাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ অবলম্বনে নাটকটি রচিত হয়েছে। ঘেঁটু গানের আঙ্গিকে নির্মিত প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন আনন জামান। নাটকের কাহিনীতে উঠে এসেছে গ্রামীণ জীবন। সাজু ও রূপাইয়ের প্রেম, বিয়ে ও বিরহ ইত্যাদি নাটকটির মূল উপজীব্য। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমৃতাভ মিহির, শুভনন্দ করিম, তুষার কান্তি দে, দিদারুল দীপু, শাহ তুষার, মৌসুমী আক্তার, আশেকা আক্তার প্রমুখ।

বাংলা বানান ও উচ্চারণ কর্মশালা ॥ প্রশাসনিক কাজে শুদ্ধভাবে বাংলা বানান ও উচ্চারণ চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বাংলা বানান ও উচ্চারণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। সোমবার সকালে একাডেমির গ্রন্থ ভবনের লেকচার থিয়েটারে কর্মশালার সূচনা হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন গ্রন্থাগারিক রেজিনা আক্তার ও প্রোগ্রাম অফিসার এএসএম নাজমুল হক। প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ ও কণ্ঠশীলনের আবৃত্তিশিল্পী গোলাম সারোয়ার।