২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হুসেইন ও মুসলেমের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ ৮ অক্টোবর

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের দুই রাজাকার মোঃ হুসেইন ও মোঃ মুসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন পক্ষ। ফরমাল চার্জ দাখিলের জন্য ৮ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ দিন নির্ধারণ করেছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ ৬টি অভিযোগ আনা হচ্ছে। এ মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে রয়েছেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের দিনধার্য ছিল। আমরা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছি। আগামী ৮ অক্টোবর এ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। সৈয়দ মোঃ হুসেইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। হুসেইন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিকলি থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোঃ হুসেইন (৬৪) ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মুসলেম প্রধানের (৬৬) বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। হুসেইনের বড় ভাই হাসান আলীকে গত ৯ জুন ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদ-াদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে আসামি রাজাকার কমান্ডার মোঃ হুসেইন ওরফে হোসেন ও তার সহযোগী আসামি রাজাকার মুসলেম প্রধান স্থানীয় দালাল ও পাকিস্তানী সেনাসহ ৭০-৮০ জনের একটি দল ২টি নৌকা ও একটি লঞ্চযোগে গুরুই গ্রামের পূর্বপাড়ায় এসে আক্রমণ করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বসু বাহিনীর প্রধান ও তার লোকজনের সঙ্গে গুরুই গ্রামে পাকিস্তানী হানাদার ও রাজাকারদের গুলিবিনিময় শুরু হয়। গোলাগুলি শুরু হলে প্রথমেই মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকিস্তানী আর্মি ও রাজাকাররা ক্ষতিসাধিত হয়। বেলা ১১টার দিকে পুনরায় রাজাকার কমান্ডার মোঃ হুসেইন ওরফে হোসেন ও তার বাহিনী নিয়ে গুরুই গ্রামে আক্রমণ চালায়। সেখানে তারা ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। ঘরবাড়িতে আক্রমণ করে লুটপাট চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাজাকার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৯ অক্টোবর ভোরে নিকলী থানা সদরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেককে আটক করে। আব্দুল মালেককে ধরে নিয়ে থানা সদরে দেবেন্দ্র চন্দ্র নাথের বাড়ির সামনে রাজাকার মোঃ মুসলেম প্রধান নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করে। এই দুই রাজাকারের নেতৃত্বে দামপাড়া গ্রামের হিন্দু পরিবারের লোকজনকে ভয় দেখিয়ে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক কালেমা পড়িয়ে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত করে পুরুষদের প্রত্যেককে একটি করে টুপি দিয়েছিলেন। মহিলাদের শাখা-সিঁদুর না পরার জন্য নিষেধ করে দেয়। এ ছাড়া এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রামের ৬ হিন্দু গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ