২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এনামুল দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে

  • জঙ্গী অর্থায়ন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এনামুল হককে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালত তার দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হাটহাজারী থানায় দায়ের করা মামলায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে এনামুলের এই রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি চট্টগ্রাম জেলা পিপি এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম জানান, হাটহাজারীর মাদ্রাসাতুল আবু বকর থেকে ১২ জঙ্গীকে গ্রেফতারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে ৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত এনামুল হকের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তিনি জানান, আদালতে এনামুল হামজা ব্রিগেডের সদস্য মনিরুজ্জামান ডনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের এ্যাকাউন্টে টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিচারক পোশাক কারখানার মালিক এনামুল হকের কাছে জানতে চান তিনি মনিরুজ্জামান ডনের এ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছিলেন কিনা। জবাবে এনামুল অর্থ জমা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও সেটি তার ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ বলে দাবি করে বলেন, জঙ্গী কার্যক্রমের জন্য কোন অর্থ দিইনি। এর আগে বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এনামুলকে আরও এক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল র‌্যাব। রিমান্ড শেষে তিনি বাঁশখালী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও প্রদান করেছিলেন।

চট্টগ্রামভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে গোল্ডেন টাচ এ্যাপারেলসের পরিচালক এনামুল হককে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর টঙ্গীর তুরাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর তাকে বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তারপর আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় হাটহাজারী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় মাদ্রাসাতুল আবু বকর নামের একটি কওমি মাদ্রাসা থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে যে, তারা জঙ্গী সংগঠনের হামজা ব্রিগেডের সদস্য। মাদ্রাসাটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল সংগঠনটির তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে। সেই অভিযান ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে র‌্যাবের আরও দুটি বড় অভিযান পরিচালিত হয় বাঁশখালী এবং চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর গোল্ডেন আবাসিক এলাকায়। এ দুই অভিযানে উদ্ধার হয় আরও বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক। জঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তাদের অর্থের যোগানদাতাদের নাম। গত ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানম-ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীকে। বাকি দুজন হলেনএ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান চৌধুরী লিটন এবং এ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন। এর মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থ ও গবেষণা সম্পাদক সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক।