২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে হিংসার রাজনীতি শুরু করে বিএনপি ॥ এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশে আজ হিংসার রাজনীতি চলছে। এই হিংসার রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি। হিংসার কারণে বিএনপি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এরশাদ জীবন্ত অবস্থায় জেলে যাবে, জেল থেকে ফিরবে লাশ হয়ে। আমি (এরশাদ) সুস্থ অবস্থায় জেল থেকে ফিরেছি এবং বেঁচে আছি। কিন্তু উনি (খালেদা) কোথায়? ওনার এক ছেলে বিদেশে, এক ছেলে মারা গেছে। ওনার দলের নেতা-কর্মীরা জেলে। উনি কবে জেলে যাবেন এবং কিভাবে বের হবেন তা দেখার অপেক্ষায় আছি।

জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, দেশে এখন প্রাণহীন গণতন্ত্র চলছে। সংবিধানের পাতায় গণতন্ত্র থাকলেও দেশে নেই। দখলবাজ ও টেন্ডারবাজদের দখলে চলে গেছে দেশ। সুশাসন নেই। সবার কাছে বন্দুক পিস্তল। গরুর হাটে গোলাগুলি হয়, প্রতিবাদ করার কেউ নেই। মিডিয়ায় সত্য বলার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দেশের মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতিত হচ্ছে। বিচারকার্য বিলম্ব হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপরাধীরা শাসক দলের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, জাপাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গ্রাম অঞ্চলে আবার ছুটেছি। মানুষের মুখে আবার হাসি ফোটাতে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে তিনি আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান।

জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি দলীয়করণে বিশ্বাস করি না, আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। আমি বিচারকদের কাজে হস্তক্ষেপ করিনি। বেসিক ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, সে টাকা উদ্ধার হয়নি। এখনও হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতারা গ্রেফতার হয়নি। রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচার হলে, কেউ তার প্রতিবাদ করলে অর্থমন্ত্রী রসিকতা করেন। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতায় থেকে তারা অন্ধ হয়ে গেছেন। তারা অন্যায় দেখতে পায় না। তিনি আরেকবার ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এরশাদ বলেন, খুব শীঘ্রই ইলেকশন ক্যাম্পেন বের হব। গত তিন মাসের আন্দোলন অনেক গাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে। জ্বালাও পোড়াও নৈরাজ্যের রাজনীতি জনকল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

একই দিন তিনি জেলা শাখার সভাপতি পদে শফিকুল ইসলাম মধুকে পুনরায় মনোনীত করেন

সোমবার দুপুরে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে খুলনা জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান, তাজ রহমান, আবুল হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব শফিকুল ইসলাম মধু।

জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ক্ষুধা দরিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। এরশাদ তার সফল বাস্তবায়ন করেন। জাতীয় পার্টিকে সংগঠিত করার জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে চায়। এইচ এম এরশাদ ৬৮ হাজার গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার ৯ বছরের উন্নয়নের রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি। বিভিন্ন সময় উন্নয়নের নামে গ্রেনেড সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজি চলেছে। দেশবাসী দু’ নেত্রীর হাত থেকে মুক্তি চায়।

নির্বাচিত সংবাদ