১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর যথেষ্ট সুযোগ দেখছেন মুশফিক

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর যথেষ্ট সুযোগ দেখছেন মুশফিক
  • ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ অধিনায়কের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন হোমসিরিজ শুরু হতে এখনও চার সপ্তাহের মতো বাকি। ছোট এই সিরিজে মাত্র দুই টেস্ট খেলবে উভয়দল। ইতোমধ্যেই অসিরা ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। তরুণ স্টিভেন স্মিথ নতুন অধিনায়ক হিসেবে প্রথম মিশনে আসবেন। তবে তিনি পেয়েছেন একেবারেই তরুণদের নিয়ে গড়া একটি দল। মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়াটসন, ক্রিস রজার্স, ব্র্যাড হ্যাডিন ও রায়ান হ্যারিসরা অবসর নিয়েছেন, দুই পেসার মিচেল জনসন ও জশ হ্যাজলউড বিশ্রামে এবং ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ইনজুরিতে। তবে প্রায় নতুন চেহারার দল হলেও বিশ্বের অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি অসিরা। এ কারণে কেমন দল গঠন করেছে তারা সেটা নিয়ে চিন্তা করছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তবে স্মিথকে চ্যালেঞ্জিং একটা সিরিজ উপহার দেয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ এমন কথাই জানালেন তিনি। মুশফিক মনে করছেন তরুণ এ অস্ট্রেলিয়া দলকে হারানোর ভাল সুযোগ এবার। তবে মূল লক্ষ্য থাকবে ভাল খেলার ধারাবাহিকতা রাখা এমনটাই জানালেন তিনি। সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বলেন মুশফিক।

তরুণ স্মিথ প্রায় অনভিজ্ঞ দল পেয়েছেন। এমনকি দু’জন আছেন এর আগে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। বাংলাদেশ সফরে তাই অসিদের এবার কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে চান মুশফিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা ধারণা করেছিলাম তার মোটামুটি সবাই আসছে। দু’জন নতুন ক্রিকেটার আছে। তাদের সম্পর্কে এখনও তেমন ধারণা নেই। এখনও অনেক সময় আছে আমাদের। আশা করছি এই সময়ে সব পুষিয়ে নিতে পারব। যদিও এটা একটা তরুণ দল, কিন্তু দলটা অস্ট্রেলিয়া। এটা ভুলে গেলে চলবে না।’ তবে অস্ট্রেলিয়া দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের কথা বিশেষভাবে ভাবতে হবে এবার বাংলাদেশকে। কিন্তু তরুণ স্মিথের জন্য সিরিজটা চ্যালেঞ্জিং হবে দাবি করলেন মুশফিক, ‘স্মিথ তো অবশ্যই তাদের প্রধান খেলোয়াড়। আর ম্যাক্সওয়েল আসছেন। তার জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে। কারও তরুণ দল আসলে আমাদের সঙ্গে হারবে বিষয়টি তেমন নয়। প্রধান বিষয় হচ্ছে আমরা খুবই ভাল ক্রিকেট খেলেছিলাম এবং ধারাবাহিকভাবে পারফর্মেন্স করেছিলাম বলেই জয়গুলো এসেছিল। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে শেষ ছয়-সাত মাস যেটা করেছি সেদিকেই, ধারাবাহিকভাবে ভাল ক্রিকেট খেলা।’

এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ কিছু করার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছেন মুশফিক। কারণ দেশের মাটিতে গত কয়েকটা সিরিজে তিন ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খুব ভাল খেলেছে দল। সে কারণে আত্মবিশ্বাসটাও বেড়েছে। এ বিষয়ে মুশফিক বলেন, ‘যেটা আমি বললাম অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এরচেয়ে বড় সুযোগ আর নেই। তো আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব দুটি টেস্ট ম্যাচে আমাদের শতভাগ বা তার চেয়ে বেশি দেয়ার।’ ভারত সফরে যাওয়া ‘এ’ দল এবং জাতীয় লীগ খেলে ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়াকে মোকাবেলার প্রস্তুতিটা ভালভাবে শুরু করতে পারবে বলে মনে করেন মুশফিক। কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহের প্রশংসা করে মুশফিক বলেন, ‘সবাই এখন আশা করে যারা আমাদের দেশে আসবে তাদের আমরা হারাব। আমাদেরও সেটা মাথায় আছে। তবে এটা খুব সহজ হবে না। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব। আমি যেটা বলেছি বাংলাদেশ টেস্টে উন্নতি করছে। আমরা যদি এই দুটি টেস্টে ভাল খেলি বছরটাও বেশ ভালভাবে শেষ হবে।’

উপমহাদেশে এসে বহির্বিশ্বের অন্য দলগুলো টার্নিং উইকেটের কারণে বেশ সমস্যায় পড়ে। এবার অসিদের বিপক্ষে মুশফিক কেমন উইকেট চান? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উইকেট থেকে সাহায্য নিয়ে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা এতদিনে আরও ওপরে যেতে পারতাম। টার্নিং হলে ওদেরও বোলার আছে এটাও মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু আমরা এমন একটা উইকেট যেন বানাতে পারি যেখানে ৪০০ এর মতো রান করতে পারি আবার ২০ উইকেটও নিতে পারি।’ সর্বশেষ ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সফরে টেস্ট খেলেছে অসিরা। গত ৯ বছরে আর কোন টেস্ট খেলেনি দু’দল। সেবার দারুণ শক্তিধর ও অভিজ্ঞ দল ছিল রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে। এবার তরুণ একটি দল। তাই জয় পাওয়াটাকে অসম্ভব মনে করছেন না মুশফিক, ‘আমরা যে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছি, আমাদের শক্তি অনুয়ায়ী যদি খেলতে পারি জয় অসম্ভব তো কিছু না। বাংলাদেশ এমন সময়ে এসছে, হয়তো টেস্টটা একটু ভিন্ন ওয়ানডের তুলনায়। কিন্তু এ বছর যেভাবে খেলেছি যে কোন দলের বিপক্ষে আমরা ভাল খেলতে পারব। এ বছর অনেক পেস বোলাররা ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে এবং টেস্টে ভাল বোলিং করেছে। আশা করছি পেস এবং স্পিনের সঙ্গে ব্যাটিংটার বোঝাপড়া করে নিলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কঠিন একটা লড়াই হবে।’