১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সব ছাপিয়ে ‘আহত মরগান’

সব ছাপিয়ে ‘আহত মরগান’
  • ভাগ্যিস হেলমেট ছিল- মিচেল স্টার্কের বাউন্সার সরাসরি আঘাত হানে ইংল্যান্ড অধিনায়কের হেলমেটে, হিউজেস-স্মৃতি মনে করে ঘাবড়ে যান অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মাঠে এমন কত বাউন্সার ব্যাটসম্যানকে আঘাত করে। এটা ক্রিকেট ইতিহাসেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ফিলিপ হিউজেসের অকাল মৃত্যুর পর সেই বাউন্সার এখন আতঙ্কের নাম! পরশু ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া শেষ ওয়ানডেতে আতঙ্কটা ফিরে এলো আরও একবার। প্রতিপক্ষ পেসার মিচেল স্টার্কের বাউন্সার সরাসরি আঘাত হানে ইয়ন মরগানের হেলমেটে। মাঠে ইংলিশ অধিনায়কের দিকে ছুটে আসেন স্টিভেন স্মিথরা। ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে বোলার স্টার্কের মুখ। নিজেকে সামলে নিয়ে সাজঘরে ফেরেন ‘রিটায়ার্ড-হার্ট’ মরগান। ৮ উইকেটের বড় জয়ে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজটা ৩-২এ জিতে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। দুরন্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ ও সিরিজসেরা মিচেল মার্শ। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় ‘আহত মরগান।’

ইংল্যান্ড তখন ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ঘোরতর বিপদে। ইনিংসের সপ্তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ান পেসার স্টার্কের বাউন্সার ‘ডাক’ করতে চেয়েছিলেন মরগান। কিন্তু বল সরাসরি এসে তার হেলমেটে আঘাত করে। মাটিতে পড়ে যেতে যেতেও নিজেকে সামলে নেন ইংলিশ সেনাপতি। ব্যাকুল হয়ে দৌড়ে এসে পরিস্থিতি জানতে চান অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। স্টার্কের মুখ শুকিয়ে ফ্যাকাশে! নবেম্বরে হিউজেস-বিয়োগের সেই ম্যাচেও যে মাঠে ছিলেন এই তারকা পেসার। ততক্ষণে ফিজিও এসে মরগানের শুশ্রƒষা শুরু করেছেন। কিছুক্ষণ পর হেঁটে হেঁটেই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। যদিও ব্যাট হাতে আর ক্রিজে ফিরতে পারেননি। কাকতালীয় হিউজেসের দল নিউ সাউথ ওয়েলসের তখনকার কোচ ট্রেভর বেইলিস এখন ইংল্যান্ডের দায়িত্বে। সাবেক শিষ্যর মৃত্যু খুব কাছে থেকে দেখেছেন বলে এদিন তিনিও বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।

ইংল্যান্ড ফিজিও যখন নিশ্চিত করেন আঘাত গুরুতর নয়Ñ ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে বেইলিসের। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘যেকোন আঘাত মানেই দুশ্চিন্তা। মাঠ থেকে ফিরে ও কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসেছিল। স্বাভাবিক হতে ঘণ্টা খানেক সময় লেগেছে। মাথায় ব্যথা পেলেও ও এখন ভাল আছে। চিকিৎসকরা বিশেষ নজর রাখছে।’ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারও দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অধিনায়ক স্মিথ বলেন, ‘মরগানের মাথায় এভাবে আঘাত লাগায় মাঠে আমাদের বুকে কাঁপন ধরে গিয়েছিল। বিশেষ করে স্টার্কের। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিউজেসকে হারিয়ে গত একটা বছর কঠিন সময় পার করছিলাম আমরা। স্বাভাবিকভাবেই এভাবে কেউ আঘাত পেলে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। আশা করছি আতঙ্ক কাটিয়ে ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।’ মাত্র ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচটা হেরেছে বড় ব্যাবধানে, সেই সঙ্গে সিরিজও। ফল যাই হোক, মরগানের যে কিছু হয়নি ভক্তরা এতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

ফিলিপ হিউজেস ‘ট্র্যাজেডির’ এখনও এক বছর পূর্ণ হয়নি। গত নবেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেট শেফিল্ড শিল্ডে প্রতিপক্ষ পেসার শন এ্যাবটের এক বাউন্সার মাথার পেছনে সরাসরি আঘাত করলে দু’দিন কোমায় থাকার পর অকালে মারা যান প্রতিভান ব্যাটসম্যান। ক্রিকেট বিশ্বের সৌভাগ্য মরগানকে সেই পরিণতি বরণ করতে হয়নি। মাথায় হেলমেট ছিল, আর আঘাতটা সেটির ওপরই লেগেছে। এ্যালিস্টার কুকের নেতৃত্বে ৩-২এ এ্যাশেজ ট্রফি (টেস্ট) উদ্ধার করে ইংলিশরা। মরগানদের কাছে স্বাগতিকদের প্রত্যাশ ছিল ওয়ানডেতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন তারা। সেটি হয়নি। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর হারতে হয় ৩-২ ব্যবধানে।