২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ সফরে দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

  • দলে দুই নতুন মুখ, অধিনায়ক স্মিথের প্রথম মিশনে সহকারী ভোগস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ সফরে আসার আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া নানা দিক দিয়ে। এবার এ্যাশেজ হারের হতাশায় অবসর নিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক। দলের স্থায়ী অধিনায়ক হয়ে গেছেন তরুণ স্টিভেন স্মিথ। এই প্রথম তিনি পূর্ণাঙ্গ অধিনায়ক হিসেবে দলকে দেশের বাইরে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে শুরু করবেন। তবে এবার বাংলাদেশ সফরে তিনি দলের অপরিহার্য অনেক সদস্যকেই পাননি। বৃদ্ধাঙ্গুলির ইনজুরির কারণে এমনকি নতুন সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও নেই দলে। সে কারণে স্মিথের সহকারী হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এডাম ভোগস! আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে দুই টেস্টের সিরিজে এ কারণে নতুন চেহারার একটি দল নিয়েই আসছে অস্ট্রেলিয়া। দলে একেবারেই নতুন মুখ পেসার এন্ড্রু ফিকেট ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ব্যানক্রফট। এছাড়া দলে ফিরেছেন একঝাঁক পুরনো ক্রিকেটাররা। ২৮ সেপ্টেম্বর দেশ থেকে রওনা দিয়ে পরদিন বাংলাদেশে পৌঁছনোর কথা রয়েছে অসিদের।

এবার মর্যাদার এ্যাশেজে ভরাডুবির কারণে বোঝাই যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তাছাড়া ক্লার্কের বিদায়ে নতুন নেতৃত্ব আসা এবং অভিজ্ঞ শেন ওয়াটসন, ক্রিস রজার্স, ব্র্যাড হ্যাডিন ও রায়ান হ্যারিস অবসর নিয়ে ফেলেছেন। নির্ভরযোগ্য ওপেনার ওয়ার্নারও ইনজুরিতে। আর দুই অপরিহার্য পেসার মিচেল জনসন ও জশ হ্যাজলউডকে আগেভাগেই বিশ্রাম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। আর হ্যাজলউডের ওপর চাপ কমাতে এমনকি এবার এ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টেও তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সফরের পরই অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ টেস্ট এবং নিউজিল্যান্ড সফরে আরও দুটি টেস্ট রয়েছে। আর সেজন্যই বিশ্রাম দেয়া হলো এ দুই পেসারকে। সবমিলিয়ে সম্প্রতি এ্যাশেজ খেলা দল থেকে ৮ ক্রিকেটারই নেই। সোমবার সিএ বাংলাদেশ সফরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। সেই দলে আছে প্রত্যাবর্তনের হিড়িক। টেস্ট দলে ফিরেছেন জো বার্নস, উসমান খাজা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও স্পিনার স্টিভ ও’কিফে। ও’কিফে গত বছর আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলেছিলেন। জনসন-হ্যাজলউড ব্যতীত অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের শক্তি বিন্দুমাত্র কমেনি। আছেন মিচেল স্টার্ক, পিটার সিডল ও প্যাট্রিক কামিন্স। সবাইকে বিস্মিত করে এর সঙ্গে যোগ হয়েছেন ৩০ বছর বয়সী তাসমানিয়ান পেসার ফিকেট। তিনি ১৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন। ২৬.৬৬ গড়ে নিয়েছেন ৬২ উইকেট। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা নিয়মিত এবং অনিয়মিত ক্রিকেটাররাও ঠিকমতো ফিকেটকে চেনেন না!

ওয়ার্নার না থাকায় ২৫ বছর বয়সী স্মিথের সহকারী নিযুক্ত হয়েছেন ৩৫ বছরের ভোগস। এ বিষয়ে জাতীয় নির্বাচক রডনি মার্শ বলেন, ‘তার অধিনায়কত্ব করার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন ভোগস। তিনি ঠা-া মস্তিষ্কের মানুষ এবং আমি মনে করি তিনি স্টিভেনের জন্য খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তবে আমরা অবশ্যই ওয়ার্নারকে মিস করব।’ এবার বাংলাদেশ সফরে তাই একেবারেই তরুণ একটি দল পেয়েছে অসিরা। এ বিষয়ে মার্শ বলেন, ‘পাঁচ ক্রিকেটারের অবসর এবং ইনজুরি, ফর্ম ইত্যাদি নানাবিধ কারণে আমাদের অনেক বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এবার খুবই তরুণ একটি দল হয়েছে আমাদের যাদের মধ্যে সাতজনেরই বয়স ২৬ কিংবা এর নিচে। যে ১৫ জন আছে সবারই যোগ্যতা আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার। ব্যানক্রফট ও ফিকেট খেলার সুযোগ পেলে তাদের প্রমাণের সুযোগ নিজেদের যোগ্যতা।’ অবশ্য ব্যানক্রফটের দলে ঢোকাটা বেশ প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ রজার্স ও ওয়ার্নারের অভাবটা পূরণ করার জন্য একজন ওপেনার লাগবেই। এ কারণে ২২ বছর বয়সী পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার এ ক্রিকেটার সুযোগটা পেয়েই গেলেন। ২৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা ব্যানক্রফট ৩৭.৩৮ গড়ে ১৫৭০ রান করেছেন। আগামী ৯-১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট ও ১৭-২১ অক্টোবর মিরপুরে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলে দেশে ফিরবে সফরকারীরা।

অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দল ॥ স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), এডাম ভোগস (সহ-অধিনায়ক), ক্যামেরন ব্যানক্রফট, জো বার্নস, প্যাট্রিক কামিন্স, এন্ড্রু ফিকেট, উসমান খাজা, নাথান লিয়ন, মিচেল মার্শ, শন মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, পিটার নেভিল, স্টিফেন ও’কিফে, পিটার সিডল ও মিচেল স্টার্ক।