২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নীলফামারীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে ধর্ষণের শিকার

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ জামায়াত নেতার পুত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে ধর্ষণ করেছে। প্রভাবশালীদের হুমকি আর বাধার কারণে থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে সোমবার দুপুরে ধর্ষিতা বাদী হয়ে নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে।

জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হন কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ওই মুক্তিযোদ্ধা। এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের বিয়ে হয় একই উপজেলায়। তাদের দুই পুত্র সন্তান। অভিযোগ মতে, একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক জামায়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের অবিবাহিত পুত্র মশিউর রহমানের (২৫) ক্যু দৃষ্টি পড়ে ওই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের উপর। ঘটনার দিন ১১ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী পারিবারিক কাজে রাতে বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মশিউর রহমান ঘটনার দিন রাতে ঘরে বেড়া কেটে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে ধর্ষককে হাতেনাতে আটক করে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। খবর পেয়ে ধর্ষণকারীর বাড়ির লোকজন এসে ধর্ষককে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ধর্ষিতার স্বামী বাড়ি ফিরে পরের দিন এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের চেষ্টা চালালে প্রভাবশালীদের হুমকি আর বাধার কারণে ব্যর্থ হন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার জামাতা ও ধর্ষিতার স্বামী জানান প্রভাবশালীদের হুমকি আর বাধায় তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে রাতের আধারে জেলা শহরের পালিয়ে আসেন। এখানে এসে আইনজীবীর মাধ্যমে তার স্ত্রী বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

শাহজাদপুরে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার শাস্তি দাবি

সংবাদদাতা, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, ১৪ সেপ্টেম্বর ॥ উপজেলার গালা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কাশিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সোলায়মান হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান যে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের আহম্মদ কাজী ও তার লোকজন প্রকাশ্যে ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার বড় ভাই ফুলচাদ মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে। এ হত্যাকা-ের বিচার প্রার্থী হয়ে সোলায়মান হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে ফুলচাদ হত্যা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে নিজেদের পক্ষের ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে খুন করে ফুলচাদ হত্যা মামলার সাক্ষী আব্দুল মান্নানের বাড়ির পাশে ফেলে রাখে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। খুনের পরদিন ২৮ মার্চ ফুলচাদ হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শাহজাদপুর থানার এসআই কঙ্কন বিশ্বাস জোবেদা হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দী গ্রহণের ব্যবস্থা করেন, যে জবানবন্দীতে গ্রেফতারকৃতরা সকলেই জোবেদা হত্যাকা-ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। এরপর জোবেদা হত্যাকা-ের বাদী পক্ষ নারাজী দরখাস্ত দিলে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে শাহজাদপুর থানার এসআই আব্দুস সালামকে মামলাটি তদন্তের ভার দেন। এসআই আব্দুস সালামও জোবেদা হত্যাকা-ের সঙ্গে বাদীদের সংশ্লিষ্টতার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন আদালতে।

জোবেদা খাতুন হত্যাকা-ের ঘটনায় বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে পর পর দুই তদন্তকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আবারও আদালতে আবেদন করেন বাদীপক্ষ। বাদীপক্ষের নারাজী আবেদনের প্রেক্ষিতে তৃতীয় বারের মতো আদালত সিরাজগঞ্জের সিআইডি ইন্সপেক্টর আব্দুর রশীদের ওপরে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফুলচাদ হত্যা মামলার বাদী সোলায়মান মেম্বার অভিযোগ করেন, বৃদ্ধা জোবেদা হত্যার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন। ইন্সপেক্টর আব্দুর রশীদ তাদের হুমকি দিয়েছেন, পাঁচ লাখ টাকা না দিলে জোবেদা হত্যা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে সবাইকে হত্যা মামলায় জেলহাজতে পাঠিয়ে সর্বস্বান্ত করে দেয়া হবে।