১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাইবান্ধার গুণী বাউল শিল্পী লাল মিয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ নগর জীবনের নানা নাগরিক সুবিধায় অনেকেই শিল্পী হয়ে ওঠেন। সফটওয়ার নির্ভরতাসহ আধুনিক যুগের তথ্য প্রবাহের অবাধ সুযোগে অনেকে জনপ্রিয়ও হোন। কিন্তু আমাদের দেশের গ্রাম বাংলার আনাচে কানচে অনেক গুণী শিল্পী ছড়িয়ে রয়েছেন তাদের খবর কেউ রাখেন না। অযতœ আর অবহেলায় মূল্যায়নের অভাবে এসব গুণী শিল্পীর কথা অনেকে জানতেই পারেন না। অথচ তাদের একটু সমাদর বা যতœ করা হলে তারাও ভূমিকা রাখতে পারেন আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি অঙ্গনে। নিজ উদ্যোগে ভূমিকা রাখেনও তারা। তবে গ্রামগঞ্জ বা মফস্বল শহরে পড়ে থাকা এসব শিল্পীদের অনেকেই নীরবে নিভৃতে সঙ্গীত সাধনা তথা শিল্প সাধনা করে যান। বিনিময়ে তাদের দুমুঠো ডাল ভাতও জোটে না। অথচ একজন শিল্পীর যত গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তার সবই এদের আছে। এমনি একজন বাউল শিল্পী লাল মিয়া। উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র গাইবান্ধার সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের আনালেরতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা গীতি কবি ও বাউল একরামুল হক লাল মিয়া। বাউল গানের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী গানকেই সাধনা ও সিদ্ধি লাভের উপায় বলে মনে করেন। যিনি নিজের লেখা গান সুর দিয়ে পরিবেশন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাউল লাল মিয়ার গুরু ফরিদপুর জেলা শহরের চান্দ বয়াতী। ঢাকার মিরপুরে শাহ আলীর বাগদাদের (রহ.) মাজারে ১৯৯৪ সালে ১৬ বছর বয়সে চান্দ বয়াতীর গানে আকৃষ্ট হয়ে তার সংস্পর্শে আসেন তিনি। চান্দ বয়াতীর শিষ্যত্ব লাভ করে তার বাউল সঙ্গীত সাধনার শুরু করেন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই থেকেই তিনি গান এবং গীতি কবিতা লিখতে শুরু করেন।তার সঙ্গী শুধু একটি মাত্র দোতরা। আর মন্দিরা হাতে তাজুল ইসলাম সঙ্গে থাকেন। এছাড়া অন্যান্য সময় বড় বড় অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সঙ্গীত পরিবেশনের সময় বাংলা ঢোল, খোল, হারমনিয়াম ও বাঁশের বাঁশি দিয়ে সহযোগিতা দেয়ার জন্যও রয়েছেন কয়েকজন শিল্পী। এদের নিয়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন লাল মিয়া বাউল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চুক্তির ভিত্তিতেই সঙ্গীত পরিবেশন করলেও সেক্ষেত্রে আর্থিক প্রাপ্তিটাই মুখ্য নয়। বরং মানুষের জন্য সঙ্গীত পরিবেশনই তার উদ্দেশ্য। উন্মুক্তভাবে সঙ্গীত পরিবেশন ছাড়াও ইতোমধ্যে লাল মিয়া বাউল ১০টি বাউল গান নিয়ে ‘নিদয়া মোর তিস্তা নদী’ নামে একটি এ্যালবামও বেরিয়েছে। মাইজভান্ডারি তরিকার আধ্যাত্মিক মুরিদ গীতিকবি লাল মিয়া এ পর্যন্ত দেড় হাজার বাউল গান, পল্লীগীতি ও ভায়াইয়া মিলে ২৫০টি গীতিকবিতা রচনা করেছেন। সঙ্গীত প্রিয় মানুষটি তাৎক্ষণিক কবিতা গান রচনা করে সুর দিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।