১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াতের নাশকতার ছক-ঢাকার পাশে ৫ হাজার হিযবুত জড়ো

  • রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস

শংকর কুমার দে ॥ ঈদের সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে বড় ধরনের নাশকতার চক্রান্ত নিয়ে মাঠে নেমেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর। এ জন্য রাজধানীর আশপাশের এলাকায় ৫ হাজার হিযবুত তাহরীর সদস্য গোপন আস্তানায় জড়ো হয়েছে। তাদের সহায়তা দিচ্ছে জামায়াত-শিবির। হিযবুত তাহরীরের ৭ সদস্যকে গ্রেফতারের পর ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এই ধরনের তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করার সঙ্গে জড়িত ৩ হিযবুত তাহরীর সদস্যকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ডিবি পুলিশ সূত্রে এ খবর জানা গেছে। ডিবি সূত্র জানায়, হিযবুত তাহরীর সদস্যরা গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে অনলাইন সম্মেলন করে সরকার উৎখাত করে খিলাফত রাষ্ট্র ঘোষণা দেয়ার তৎপরতা শুরু করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা চালিয়ে শনিবার অভিযান পরিচালনা করে একরামুল খায়ের ওরফে অপু, মোঃ আব্দুল কাউয়ুম, মোঃ ইব্রাহীম শেখ, মোঃ রাশেদুল ইসলাম শেখ, আরিফুল ইসলাম ও এ এস এম তারেক আমিন-৭ হিযবুত তাহরীর সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের ২ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে হিযবুত তাহরীরের তৎপরতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে।

ডিবি সূত্র জানান, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে অনলাইন সম্মেলনের মঞ্চে অংশগ্রহণকারী ৬ জনের মধ্যে ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অপর ৩ জন এখনও পলাতক আছে। হিযবুত তাহরীর সদস্যরা তাদের বক্তব্যে ‘খেলাফত আসন্ন’ বলে দাবি করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে ফের প্রচারণা চালিয়েছে হিযবুত তাহরীর। সংগঠনটি গত ৪ সেপ্টেম্বর অনলাইন সম্মেলন করার ঘোষণার পাশাপাশি তাতে অংশ নেয়ার কৌশলও জানিয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রচারণা চালায় তারা। ঘোষিত সময়ের বিকেল ঠিক সাড়ে ৩টায় লাইভ স্ট্রিম ওয়েবসাইটে শুরু হওয়া সম্মেলন, চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এতে লাইভ ভিডিওতে মঞ্চে ৫ জনকে বসে থাকতে দেখা যায় বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা। এখন তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত হিযবুত তাহরীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি সূত্র জানতে পারে, রাজধানী ঢাকার আশে পাশে তৎপরতা চালাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর ৫ হাজার সদস্য। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে পলাতক হিযবুত তাহরীর এক ডজন শীর্ষ নেতা। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করতে নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানোর চক্রান্ত করছে তারা। তাদের সহায়তা করছে জামায়াত-শিবির। ঈদের সময়ে তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েই সমবেত হয়েছিল রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন ধরনের লিফলেট, জিহাদী বই ও মোবাইল ফোনসহ নানা ধরনের আলামত। জামায়াত-শিবিরের সহায়তায় হিযবুত দেশে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান গ্রেফতারকৃত হিযবুত তাহরীর সদস্যরা।

ডিবি সূত্র জানান, খোদ রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে হিযবুত তাহরীর ৭ সদস্যকে গ্রেফতারের আগে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কয়েক দফায় প্রায় ডজনখানেক হিযবুত তাহরীর সদস্যদের। হিযবুত তাহরীর সংগঠকরা ধর্মীয় উন্মাদনায় মগজ ধোলাই করে কর্মী সংগ্রহের দুর্গ হিসাবে বেছে নিয়েছে সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রদের। এর মধ্যে শিক্ষকরা জড়িত। হিযবুত তাহরীর সংগঠনটিতে তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শী এমন দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যও রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকার আশপাশে ৫ হাজার হিযবুত কর্মী প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার সংবলিত গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর ডাক দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিষপাপ ছড়ানোর প্রচারপত্র বিলি করার সঙ্গে জড়িত।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, ঈদের সময়ে চমক দেখানোর জন্য বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর। সংগঠনটির প্রথম টার্গেট দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে শক্ত ভিত গড়ে তোলা। রাজধানীতে ইতোমধ্যেই সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। আর বিভাগীয় শহরগুলোতে অফিস নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংগঠনটি। চলছে দল গোছানোর কাজও। ঢালাও নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জঙ্গী সংগঠনটি শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। ঈদের সময়ে জঙ্গীবাদের নাশকতার ব্যতিক্রম কার্যক্রম চালিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চমক দেখানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি। রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে গ্রেফতারকৃত ৭ হিযবুত তাহরীর সদস্যকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে এমন ধরনের তথ্য পেয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার দাবি।