১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস ॥ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক অভিযানে পিএসসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভুয়া পরীক্ষার্থী চক্রের ৭ সদস্য, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির সরঞ্জামসহ ৪ জন ও এক শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রশ্নপত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র। সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর, কল্যাণপুর, বাংলামোটর ও শেওড়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে নিয়ামুল হাসান ওরফে সৈকত, হারুন অর রশিদ, দেলোয়ার হোসেন, রমজান আলী, রুবেল আহম্মেদ, জসিম সিকদার ওরফে রানা ও আকবার হোসেন। তাদের কাছ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পরীক্ষার হুবহু প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোঃ নিয়ামুল হাসান ওরফে সৈকত, হারুন অর রশিদ ও দেলোয়ার হোসেন ভুয়া পরীক্ষার্থী। তারা গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় শেরেবাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে অন্যের পরীক্ষা দেয়ার সময় গ্রেফতার হয়। এদের দেয়া তথ্য মতে, প্রকৃত পরিক্ষার্থী মোঃ রুবেল আহম্মেদ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সহযোগী মোঃ রমজান আলীকে ওইদিনই বিকেল ৫টায় রাজধানীর কল্যাণপুরের ওয়েস্ট পয়েন্ট হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে পরীক্ষার হুবহু প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়া যায়। রমজানের দেয়া তথ্য মতে বাংলামোটর থেকে গ্রেফতার করা হয় মোঃ জসিম সিকদার ওরফে রানাকে। রানার তথ্য মতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত মূলহোতা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের এমএলএসএস পদে কর্মরত মোঃ আকবর হোসেকে পিএসসি থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রশ্নপত্র বিক্রির ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আরও কয়েক জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মূলহোতা আকবরের সহযোগী মোঃ বিল্লাল হোসেন পলাতক রয়েছে। সে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পিএসসির এমএলএসএস পদে কর্মরত। প্রতিটি পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে ৩ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছিল। তার কাছ থেকে ইতোমধ্যেই অন্তত ২৫ জন প্রশ্নপত্র কিনেছে। আকবর নিজেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে পিএসসিতে চাকরি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পলাতক বিল্লাল হোসেনকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি চক্রের ৪ জন গ্রেফতার ॥ গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকা থেকে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, মোঃ সিরাজুল ইসলাম জিন্নাত, সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মোঃ সাইদুর রহমান শিমুল, মোঃ আঃ রাজ্জাক ও পুলিশ থেকে চাকরিচ্যুত মোঃ বজলুর রহমান। তাদের কাছ থেকে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।

প্রতিটি জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স সাড়ে ৭শ’ টাকা, জাল ফিটনেস সার্টিফিকেট ৫শ’ টাকা ও নকল ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট সাড়ে ৩শ’ টাকা করে বিক্রি করত।

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, যতদিন ধরে ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া শুরু হয়েছে, তত দিন ধরেই অর্থাৎ প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রেফতারকৃতরা এসব অপরাধ করে আসছিল। এর সঙ্গে বিআরটিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার ॥ গত ১৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বাড্ডা থেকে মোঃ ইব্রাহিম খান ওরফে ভাগিনা তুষার নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি বিদেশী পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ১টি ম্যাগাজিন।

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, তুষার ঢাকা মহানগরের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী। রামপুরা বাড্ডা এলাকায় ব্যাপক তা-ব চালাত। তার বিরুদ্ধে রামপুরা, খিলগাঁও ও বাড্ডা থানায় ৫টি হত্যা, অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, মারামারি সংক্রান্তে ২০টি মামলা রয়েছে। তুষার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশের আপন ভাগিনা। এজন্য তাকে ভাগিনা তুষার হিসেবে সবাই চিনে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ, পশ্চিম ও মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, মাহবুব আলম, মাশরুকুর রহমান খালেদ, সাজ্জাদুর রহমান ও মুনতাসিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।