২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইলে এমএনপি সেবা দিতে উদ্যোগ ॥ নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বহু প্রতীক্ষিত মোবাইলে এমএনপি সেবা গ্রহণের বিষয়টি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এই সেবায় গ্রাহকরা ইচ্ছা করলেই নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল করতে পারবে। অপারেটর বদলানোর সুযোগ (এমএনপি) করার বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বিটিআরসির প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। দীর্ঘ চার বছর আগে থেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোন ফল হয়নি। এবার প্রতিমন্ত্রী গ্রাহকদের সুবিধার্থে প্রস্তাবটির বিষয়ে ইতিবাচক হয়েছেন। এমএনপি চালু করতে মন্ত্রণালয়ের কোন আপত্তি নেই। যত দ্রুত সম্ভব এটা চালু হলে গ্রাহক সুবিধা বাড়বে।

সোমবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, এমএনপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে আমরা এটা করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও এমএনপির ওপর জোর দিচ্ছেন। এতে গ্রাহক পর্যায়ে উপকার হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা হবে। কবে নাগাদ এমএনপি সুবিধা গ্রাহকরা পাচ্ছেন এ বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী বছরের শুরুতে এমএনপি চালু করা হবে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এটা চালু করার আগে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। যদিও বিটিআরসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অপারেটরদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। এমএনপি চালুর বিষয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফাইলটি এলেই সেই জটিলতা কেটে যাবে। তখন কাজটি দ্রুত করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানিয়েছে, এমএনপি চালু হলে গ্রাহকের সুবিধা বাড়বে। তখন কোন অপারেটরের কি সুবিধা সেই সুবিধা গ্রাহকরা সুবিধা মতো অপারেটর বদল করে নিতে পারবে। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সুবিধা চালু করতে বিটিআরসি একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেবে বলে গত মে মাসে জানিয়েছেন। এমএনপি সুবিধা চালুর বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেলেই কাজ শুরু হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। নম্বর না বদলে গ্রাহকদের অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২০১৩ সালে জুনে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। যখন অপারেটরদের ২জি লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছিল তখন গাইডলাইনে লেখা ছিল অপারেটররা মিলে এমএনপি চালু করবে। কিন্তু অপারেটররা সঠিক সময়ে এমএনপি চালু করতে পারেনি।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এমএনপি চালু করতে নতুন গাইডলাইন তৈরি করে সরকারের কাছে দেয়া হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে অনুমোদিত পেলেই এমএনপির টেন্ডার এবং লাইসেন্স দেয়া হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমএনপি অপারেট করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০১৩ সালে অপারেটরদের এমএনপি সুবিধা বাস্তবায়ন করার বিষয়ে দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়, এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০ টাকার বেশি নিতে পারবে না। সাত মাসের মধ্যেই গ্রাহকদের এই সুবিধা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত ও পাকিস্তানে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা চালু রয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে পথ চলতে হলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশেও এমএনপি সেবা চালু করতে যাচ্ছে।