২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৃষ্টি শুরু হলেই ছুটির ঘন্টা বাজে

বৃষ্টি শুরু হলেই ছুটির ঘন্টা বাজে

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী (বরগুনা)॥ বৃষ্টি শুরু হলেই ছুটির ঘন্টা বাজে আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ভায়লাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এতে ব্যহত হচ্ছে পাঠদান। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এ অবস্থায় চললেও কেউ এর খবর রাখেনি।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ভায়লাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ে ১৫৩ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালো ভাবেই চলছিল। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে বিদ্যালয়টির ভবন বিধ্বস্থ হয়েছে। ওই সময় বিদ্যালয়ের মূল ভবনে ছাদের চালা উড়ে যায়। এক দিকে হেলে পড়ে। ভবনের প্রাচীরে ফাটল ধরে একাংশ ভেঙ্গে যায়। ভবনের এ বেহাল দশার কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেনী কক্ষে পাঠদানে ব্যহত হচ্ছে। অতি বৃষ্টিতে পাঠদান বন্ধ করে বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয়। আবার রোধে রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় পাঠদান করাতে হয়। এভাবেই চলতে থাকে দীর্ঘ পাঁচটি বছর। গত বছর স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় চাঁদা তুলে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের একটি অংশ সংস্কার করে দুটি কক্ষে পাঠদান করাচ্ছে। কিন্তু তাতে শিক্ষার্থীদের সংকুলন হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের জীর্ণ দশা জানিয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল মন্নান ইতিমধ্যে বহুবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানিয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবস্থা অনেকটা নাজুক। বৃষ্টি শুরু হলেই ছুটির ঘন্টা বেজে যায়। বৃষ্টির পানিতে শিক্ষার্থীদের বই খাতা ভিজে যায়। বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা স্কুল ছুটি দেয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মন্নান জানান সিডরে বিদ্যালয় ক্ষতি হয়। ওই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার মহাসেনে ভবন বিধ্বস্থ হয়েছে। গত ৫ বছর ধরে বিদ্যালয়ের এ অবস্থা। বিদ্যালয়ের এ অবস্থা জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্র্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন করেছি কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি।

আমতলী উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান এ বিদ্যালয় ভবনের জীর্ণ দশা জানিয়ে ঢাকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যোতিশ চন্দ্র শীল জানান বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য ঢাকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে গত বছর তালিকায় ২ নম্বর রেখে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু হয়নি। এ বছর আবার মিটিং করেছি। তালিকায় ১ নম্বরে রেখে পাঠাবো।

নির্বাচিত সংবাদ