২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ আর রহমানের খোলা চিঠি

অনলাইন ডেস্ক ॥ অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের বিরূদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে ভারতীয় সুন্নি মুসলমানদের একটি সংগঠন। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)কে নিয়ে নির্মীত ইরানি চলচ্চিত্র ‘মুহাম্মদ: দ্য মেসেঞ্জার অফ গড’-এর সংগীত পরিচালনা করায় রাজা একাডেমি নামের ওই সংগঠন ফতোয়া সংক্রান্ত বিতর্কের জবাব একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে দিলেন রহমান।

ফেইসবুকে প্রকাশিত ওই চিঠিতে রহমান লিখেছেন, “এই চিঠি তাদের জন্য, যারা আমাকে কেন্দ্র করে ঘটে চলা সম্প্রতিক ঘটনাগুলি জানেন। আমি ইসলামের আলেম নই। আমি মধ্যম পন্থার অনুসারী এবং আমি ঐতিহ্যও অনুসরণ করি আর যুক্তিও মানি। আমি পূর্ব এবং পশ্চিম দুই বিশ্বেই বাস করি এবং বাছবিচার না করেই সবাইকে ভালবাসি। ”

“ ‘মুহাম্মাদ: দ্য মেসেঞ্জার অফ গড’-এর পরিচালনা কিংবা প্রযোজনা- কোনোটাই আমি করিনি। আমি কেবল এর সংগীত দিয়েছি। এই সিনেমায় কাজ করায় যে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, তা খুবই ব্যক্তিগত এবং আমি এটা প্রচার না করাটাই পছন্দ করবো।”

চিঠিতে রহমান তার বিরূদ্ধে ওঠা অভিযোগ তুলে ধরেন এবং এর বিপরীতে নিজের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন।

“জনাব নুরি, রাজা একাডেমির একজন সদস্য, বেসাইড জার্নালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেন তিনি বিশ্বাস করেন আমার বিরূদ্ধে অভিযোগ তোলা উচিৎ।”

“জনাব নুরি বলেন, “দেখুন, মুসলমান হিসেবে আমাদের কিছু একটা করতেই হবে যেহেতু এটা আমাদের ধর্মের বিরূদ্ধে যায়। কারণ, আগামীকাল যদি আমাদেরকে আল্লাহর মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তিনি যেন আমাদেরকে না বলতে পারেন, আমি কিছু করিনি এ ব্যাপারে। সুতরাং আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে।”

“এই সিনেমায় আমার সুরারোপ করার সিদ্ধান্তও শুভ বিশ্বাস থেকে ছিল এবং কারও কোনো ক্ষতির উদ্দেশ্যে তা করা হয়নি।”

“সতি বলতে কি, জনাব নুরি যে দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কথা বলেছেন, সেই একই দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেই আমি। কেমন হবে, যদি শেষ বিচারের দিনে আমার সুযোগ ঘটে আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার এবং তিনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, 'আমি তোমাকে বিশ্বাস দিয়েছি, প্রতিভা দিয়েছি, অর্থ, যশ, স্বাস্থ- সবই দিয়েছি। তাহলে তুমি কেন আমার প্রিয় মুহাম্মদের (সঃ) উপরে নির্মীত সিনেমায় সুরারোপ করোনি? এমন একটি সিনেমা, যার উদ্দেশ্য মানবতাকে একত্রিত করা, ভুল ধারণাকে মুছে ফেলা এবং জীবনের মানে যে দয়া, দরিদ্রদের সাহায্য করা, মানবতার স্বার্থে বাঁচা এবং আমার নামে অসহায়দের নির্মমভাবে হত্য না করা - আমার এইসব বার্তাকে তুলে ধরা।”

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, “আজ সত্যিকারের দুনিয়া এবং ভার্চুয়াল দুনিয়ার মধ্যে দূরত্ব অনেক কম এবং পেছনে তাকালে আমি দেখি, বেশ কিছু বছর ধরেই অন্যায়, অগ্রহণযোগ্য এবং নির্মম সব কথা অনলাইনে ছড়ানো হচ্ছে মহানবী (সঃ)কে কেন্দ্র করে। এ ধরনের মন্তব্য নিঃসন্দেহেই বোধের অভাবেই ঘটছে। আমার সব সময়ই মনে হয়েছে, এই ধরনের প্রতিক্রিয়া আমাদের ভালবাসা এবং দয়া দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে এবং মানূষের কাছে পৌছানোর জন্য সেটা অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমেই করতে হবে।”

সবশেষে মাদ্রাজের মোৎজার্ট হিসেবে খ্যাত এই সুরকার আহ্বান জানান, “আসুন আমরা সংঘাতের বিনাশে মযর্াদা এবংসম্মানের ব্যবহার করি এবং আমাদের কথা কিংবা কাজের মাধ্যমে সহিংসতা না ছড়াই।”

নন্দিত ইরানি নির্মাতা মাজিদ মাজিদির সিনেমা ‘মুহাম্মদ : দ্য মেসেঞ্জার অফ গড’ মুক্তি পেয়েছে আগস্টে। মুক্তির আগ থেকেই বিতর্কের মুখে পড়া এই সিনেমাটি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।

নির্বাচিত সংবাদ