১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিকল্পিত পথে বাড়ি ফেরা

প্রতি বছর ঈদ উৎসবে নাড়ির টানে রাজধানী থেকে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরে ফেরে তাদের যাত্রা, যাত্রাপথ নির্বিঘœ থাকে না সে কথা বলতে কোন সাক্ষ্য-প্রমাণের দ্বারস্থ হতে হয় না। শুধু রাজধানী থেকে যে মানুষ এ উৎসব-আনন্দে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হতে ঘরে ফেরেন তা-ই নয়, সারাদেশ থেকে ছোটে এ জনস্রোত। রাজধানীতেও আসে জেলা, উপজেলা শহর থেকে। প্রধানত ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার অন্তত তিন দিন আগে থেকেই যে বাস্তবতা শুরু হয় তা উল্লেখ করার মতো। বিশেষ করে পরিবহন সেক্টরে দেখা যায় এর সরাসরি প্রভাব। এই প্রভাবের ইতিবাচক দিকটি অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক। কেননা সার্বজনীন এ আনন্দে শরিক হয় এ সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও। নতুন উদ্যোগ ও উদ্যম পরিলক্ষিত হয়। আর নেতিবাচক দিকটি হয়ে পড়ে উৎপীড়নের পর্যায়ে। কয়েকগুণ ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে যাত্রী হয়রানির এমন কোন পদ্ধতি নেই যা তারা গ্রহণ করে না। ঘটতে থাকে অপ্রীতিকর ঘটনা। ভাঙ্গাচোরা লক্কড়-ঝক্কড়মার্কা মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি বা লঞ্চ নামিয়ে হয়ে ওঠে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনার কারণসমূহের অন্যতম অনুষঙ্গ। অবশ্য এ কর্মের সঙ্গে যোগসাজশ থাকে কতিপয় দায়িত্বপ্রাপ্ত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর। এদের অন্যতম বৃহৎ উৎসবের ক্ষেত্রে এমন বাস্তবতা অনভিপ্রেত।

প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানী থেকে লাখ লাখ মানুষ ঈদ-উল-আযহার উৎসব পালনে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হতে ছুটবেন লক্ষ্যস্থলে। একযোগে ছুটি হওয়ায় পরিবহন সেক্টরে পড়ে বাড়তি চাপ। নিরুপায় হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে গাদাগাদি করে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ভ্রমণে বাধ্য হন। বিড়ম্বনাসহ ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকারও হতে হয়। এমন অবস্থা সড়ক, নৌপথ বা রেলপথেও ঘটে। আনন্দযাত্রায় নিরানন্দের সঙ্গে ঘটে বিষাদের ঘটনাও।

রাজধানীতে হরেক পেশার মানুষের পাশাপাশি এক বড় অংশজুড়ে আছে গার্মেন্টকর্মী। এদের একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় সড়ক, নৌ ও রেলপথে আরও বাড়তি চাপ পড়ে। এক্ষেত্রে ছুটির ব্যাপারে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সকল কারখানায় সারাবছর কাজ বা ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ থাকে এমন নয়। যাদের কাজ কম বা ঈদের বেশ আগে মোটামুটি শেষ করা সম্ভব সেসব কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করে আগেই ছুটি দেয়া যেতে পারে। শুধু গার্মেন্টস কেন, অন্য যেসব প্রাইভেট সেক্টর আছে সেসব ক্ষেত্রেও এ পন্থা করা যেতে পারে অনুসরণ। একযোগে ছুটি না দিয়ে অন্তত একটি জাতীয় উৎসবের কথা মনে রেখে সবাই পর্যায়ক্রমে ছুটির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে একযোগে বাড়ি ফেরার বাস্তবতা কমবে। বাস, লঞ্চ-স্টিমার বা রেলের টিকেট পেতে যে কষ্ট, বিড়ম্বনা ও নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় অন্তত তা থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি পরিবহনে চাপ কমবে, যাত্রা হতে পারে নির্বিঘœ।

এ কথা সত্য যে, কোন কাজ বা পরিকল্পনা সরকারের একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে ছুটির উপায় বের করতে গার্মেন্টস মালিকসহ অন্য সেক্টরের প্রধানরা মিলে একটি সহজতর, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর উপায় বের করবেন-এমনটা এ সময়ের চাহিদা ও দাবি।