১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক সমীপে

সরকারী করা হোক

বিংশ শতকের গোড়ার দিকে রাজশাহীতে পিএন গার্লস হাই স্কুল ব্যতীত নারী শিক্ষার আর কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। তখন নানা প্রতিকূলতার জন্য পিএন স্কুলে মুসলিম মেয়েরা ভর্তি হতে পারত না। তাছাড়া সেসময় মুসলিম মেয়েদের পর্দার বাইরে যাওয়াও নিন্দনীয় কার্য বলে বিবেচিত হতো। মুসলিম নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে খান বাহাদুর এমাদউদ্দিন ১৯২৫ সালে রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থল হেতেম খাঁ মহল্লার ‘মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশন’ ভবনে রাজশাহী জুনিয়র গার্লস মাদ্রাসা নামে একটি মুসলমান নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে এই মহতী কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী সদস্য বশির উদ্দিন আহমেদ, মুন্সী নসিমউদ্দিন আহমেদ, মৌলভী আবু মোহাম্মদ হাসান, মৌলভী পারভেজ আলী, মৌলভী আবেদ আলী প্রমুখ। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এই নামেই পরিচিত ছিল। ১৯৫৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এটি রাজশাহী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। রাজশাহী গার্লস মাদ্রাসা নামে থাকাকালে এই প্রতিষ্ঠানে শুধু মুসলমান মেয়েদের ভর্তির সুযোগ থাকলেও ১৯৫৭ সাল থেকে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মেয়েদের শিক্ষার জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্তমানে স্কুলটি ১ একর জমির ওপর অবস্থিত ৪টি বৃহত দ্বিতল বিল্ডিং নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫০ ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়টির চতুর্দিকে প্রায় ১০০০ বর্গফুটের সুরক্ষিত সীমানা প্রাচীর রয়েছে।

রাজশাহী শহরকে শিক্ষানগরী বলা হয়। কিন্তু এই শহরে নারী শিক্ষার জন্য মাত্র দুটি সরকারী (গার্লস) হাই স্কুল রয়েছে। জানা গেছে, বর্তমান সরকার রাজশাহী শহরে কয়েকটি বেসরকারী হাই স্কুলকে সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দুঃখের বিষয় রাজশাহী অঞ্চলে মুসলিম নারী শিক্ষার অগ্রদূত প্রায় শতবর্ষী রাজশাহী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের এই তালিকায় স্থান পায়নি। এজন্য রাজশাহীবাসী বিস্মিত ও হতবাক।

ড. মোস্তফা কামাল

বেগম রোকেয়া রোড, রাজশাহী।

সবজি বাজারে অগ্নিমূল্য

বাংলাদেশে কৃষকদের প্রচেষ্টায় কৃষিতে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র এদেশের কৃষকদের জন্যই। কৃষিক্ষেত হেসে উঠেছে কৃষক পরিবারের কল্যাণে। কিন্তু কৃষকের মুখে হাসি থাকে না বছরের অধিকাংশ সময়ে। কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে। অথচ কৃষিপণ্য নিয়ে যারা ব্যবসা করেন সেইসব মধ্যস্বত্বভোগীদের অবস্থা আঙুল ফুলে কলাগাছ। বেশি দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করে আসলে লাভবান হন তারাই। অতিরিক্ত মুনাফা পেয়ে নানা অজুহাত দিতে তাদের বাধে না কখনই। যেমন এখন দেয়া হচ্ছে বৃষ্টির দোহাই। দেশে সব রকমের সবজির দাম হঠাৎই বেড়ে গেছে। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। আর এজন্য ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন বৃষ্টিকে। তাদের দাবি গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সবজির ফলন নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্যে মিলছে ভিন্ন চিত্র। ৬৪ জেলার মধ্যে বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ জেলার সবজি ক্ষেত। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার হেক্টর সবজির জমি। আর ৩৩ জেলায় আবাদ হয়েছে ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে। সুতরাং বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বৃদ্ধি একেবারে খোঁড়া অজুহাত। সিন্ডিকেট তথা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই দাম বেড়েছে সবজির। দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। সুতরাং সবজির দাম এখন কমার কথা। কিন্তু দাম আরও বেশি আদায় করা হচ্ছে।

দেশে সবজির উৎপাদন খরচের সঙ্গে বর্তমান বাজার দরের কোন মিল নেই। এই বাজার মূল্যের বড় অংশটি যদি কৃষক পেত তাহলে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।

কিন্তু এই অতিরিক্ত দামের অর্থ যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এরাই মূলত কৃষিপণ্য বিশেষ করে সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে থাকে। এই দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হয় না ।

এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের কোন কার্যকর ব্যবস্থাও নেই। প্রতিকেজি করলা, পটল, কচু, কাঁচাকলা, বেগুন কৃষক বিক্রি করছে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে। আর ভোক্তারা এই সবজি কিনছে ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। এভাবে প্রতিটি সবজির দাম উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ে বিরাট তফাত স্পষ্টই বলে দেয় ভোক্তার পকেট কাটার মতো অবস্থা আর উৎপাদককে প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করার অনৈতিক চক্রটি এখনও সক্রিয়। উত্তরবঙ্গে যদিও বন্যা হয়েছে তবু সবজির তেমন কোন অভাব নেই। সবজির দাম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত বাড়ানো হয়েছে। দাম এত বাড়ার কোন যুক্তি নেই।

কৃষকের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য কৃষি আদালত গঠনের কথাও চিন্তা করা হচ্ছে। এখন এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তলো জরুরী যাতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কেউই নিয়ম মাফিক তাদের নিজেদের প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন।

অশোক কুমার সাহা

কুমারখালী, কৃষ্টিয়া।

অবৈধ দখলদার

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী যে কোন ধরনের জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ। দুঃখের বিষয়, বিএনপি শাসনামল থেকে রূপনগর আবাসিক এলাকা, ঢাকার মাঝখানে অবস্থিত আড়াই কিলোমিটার লম্বা জলাশয়টি অবৈধ দখলদারগণ দিন দিন ভরাট করে এর আয়তন পরিবর্তন করে ফেলছেন। অথচ এই জলাশয়টিকে লেক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার প্লট মালিকগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। লেক বলতে এখন সেখানে হাজার হাজার টিনশেড বস্তি গড়ে তোলা হয়েছে। বিএনপি আমলে। তাদের মাস্তানরা অবৈধ বস্তি থেকে ভাড়া আদায় করত। গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে ও অর্থ উপার্জন করত এরা।

রূপনগর আবাসিক এলাকার ৩৪ থেকে ৩৮নং সড়কগুলো ৬নং সেকশনের ‘ট’ ব্লক সংলগ্ন হওয়ায় রাস্তাগুলোর অর্ধেকজুড়ে দোকানপাট বসানো হয়েছে। বিএনপি আমলের ওয়ার্ড কমিশনার আহসান উল্লাহ হাসান ৩৮নং রোডের পাশের পতিত জায়গা দখল করে জনৈক কন্ট্রাক্টরকে কাঠের কারখানা হিসাবে ভাড়া দিয়েছেন। ওই কারখানায় বিগত ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুত, পানি ও গ্যাসের সংযোগ দিয়ে ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং বসবাস করছেন। এতে সরকারের বিপুল অর্থ লোকসান হচ্ছে। এমনকি কারখানার আয়তন বাড়ানোর জন্য ৩০ ফুট রাস্তার ৪ ফুট ভেতরে পানির নালা করা হয়েছে। দোকানপাট ও কারখানা মিলে রাস্তার তিন ভাগের দুই-ভাগ চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের হাতে।

আবুল বাশার

রূপনগর, ঢাকা

বরাদ্দ বাতিলের দাবি

জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের বরাদ্দ আধাপাকা টিনসেড বাড়ি শর্তভঙ্গ করে নিজে দলিল পাওয়ার আগেই বিক্রির উদ্দেশ্যে বায়না দলিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে মনোয়ারা হক নামক এক নারীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত ২০০০ সালের ২৮ জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১২/ত/২১২নং আধাপাকা টিনসেড বাড়ি শর্ত সাপেক্ষে বরাদ্দ পান মিসেস মনোয়ারা হক, স্বামী মোজাম্মেল হক। ওই বরাদ্দ পত্রে জমির টাকা পরিশোধ ও দলিল গ্রহণের বিষয়ে বেশ কয়েকটি শর্ত দেয়া হয়। ওই শর্তের ৯ এর গ-তে বলা হয়েছে কোন বরাদ্দ প্রাপক কিস্তির সাকুল্য টাকা এককালীন অথবা কিস্তিতে পরিশোধ করিয়া লিজ দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর সে যদি ওই জমি ও টিনসেড বাড়ি বিক্রি করতে চায় তাহলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বর্তমান প্রচলিত নিয়মে হস্তান্তর ফি প্রদান সাপেক্ষে বরাদ্দকৃত জমি ও টিনসেড ঘর বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু মনোয়ারা হক ওই শর্ত ভঙ্গ করে জমি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গত ২০১৪ সালের ১৮ নবেম্বর জনৈক মোঃ হানিফ মিয়ার নিকট জমির মূল্য ৭০ লাখ ও গৃহাদির মূল্য ৩ লাখ টাকা ধার্য করে মোট ৭৩ লাখ টাকার মধ্যে মোট নগদ ৪০ লাখ টাকা বায়না বাবদ গ্রহণ করে এবং একটি বায়না দলিল মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রির অফিস থেকে সম্পন্ন করে। যার দলিল নং-১২২৫৯। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, এই বায়নার দলিল সম্পাদন করার ক্ষেত্রে মনোয়ারা হক শর্ত বের হয়ে আসবে।

বিথী আক্তার

মিরপুর টিনসেড কলোনি, ঢাকা।