২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুড়িগ্রামে ৪২ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ॥ ৪১ মাস ভাতা বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজলো সমাজসেবা কর্মকর্তার অবহেলার কারণে ৪২টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ৪১ মাস ধরে ভাতার টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগে এ তথ্য ফাঁস। মন্ত্রী ও সাংসদের নির্দেশনা সত্ত্বে¡ও শুধু উৎকোচ না দেয়ায় সমাজসেবা কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪২ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার দীর্ঘদিন থেকে সম্মানী ভাতা পেয়ে আসছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ও তার উপকারভোগীদের অনেকে মৃত্যুবরণ করায় ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। আকস্মিক ভাতা বন্ধ হওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সরকারী নীতিমালায় ভাতাপ্রাপ্ত কোন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে তার প্রাপ্য ভাতা উত্তরাধিকারী হিসেবে স্ত্রী/স্বামী/স্বামীর অবর্তমানে পিতা/মাতা, স্ত্রী, স্বামী ও পিতা-মাতার অবর্তমানে পুত্র/কন্যাগণকে ভাতার টাকা প্রদানের নির্দেশ রয়েছে। তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এজেড এম এরশাদ আহসান হাবিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম জোবাইদুল ইসলামের অবহেলার কারণে মৃত মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিনের পুত্র এসএম নাহিন গত ১৪ মে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গড়িমসি, দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আবেদনগুলো তদন্ত করে মতামত প্রেরণের নির্দেশ প্রদান এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাংসদ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক মানবিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সূত্রমতে গত ১৭ মে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির সভায় ভাতা প্রাপ্ত ৪২ পরিবারের সব তথ্যাদি যাচাই/বাছাই করে সঠিক থাকায় জেলা কমিটিতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা কমিটিতে প্রেরণের পর ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন র্কমকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এসএম জোবাইদুল ইসলাম ও জেলা সমাজসেবা অফিস সহকারী মজিবর রহমান প্রাপ্ত ভাতার জন্য প্রত্যেকের কাছে ৪০-৫০ হাজার টাকা অগ্রিম উৎকোচ দাবি করে। উৎকোচ ছাড়া ভাতার টাকা উত্তোলন করা যাবে না এবং ভাতা বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানে ভুল তথ্য দিয়ে হয়রানিসহ ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় উল্লেখ করে ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবারও অভিযোগ দাখিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম জোবাইদুল ইসলাম উৎকোচ এবং অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নীতিমালার আলোকে ৪২ পরিবারের ফাইল প্রস্তুত করে জেলা কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। কাগজের কারণে ফাইল আবার ফেরত এসেছে। আশা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী করা হবে। মূলত ২০১৩ সালে নতুন প্রজ্ঞাপনের আলোকে বঞ্চিত ৪২ পরিবার আবেদন করে।