২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপগঞ্জে পুলিশের চাঁদাবাজি, যানজটে যাত্রী ভোগান্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ১৫ সেপ্টেম্বর ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় ও অহেতুক রেকার লাগিয়ে গাড়িপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত টাকা আদায় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। যানবাহন দাঁড় করিয়ে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, মহাসড়কে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিকল হয়ে পড়া, নিয়ম ভঙ্গ করে যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন কারণে যানজটের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ট্রাকচালক সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর বেনজির আহাম্মেদ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেব কুমার তার ট্রাকটি আটক করে কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র দেখানো হলেও তার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

এর পর বেশ কিছুক্ষণ আটকের পর ২ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পান তিনি। একই অভিযোগ পিকআপ চালক আলমগীর হোসেনের। তিনি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকেও রেকার লাগানোর নাম করে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দেয়া হলে ভারি মামলা দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। বাসচালক এমদাদ হোসেন বলেন, কোন অভিযোগ না পেয়েই বাসটি আটকে রাখেন ট্রাফিক পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। ১৫০০ টাকা দেয়ার পর ফের ছেড়ে দেয়া হয়। পরিবহন চালকদের এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই। যানজটে আটকা পড়া গরুবোঝাই ট্রাকচালক ইমান আলী, আলী আকবর, সোহেল মিয়া, কালাম ব্যাপারী জানান, গাইবান্ধা থেকে গরু নিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রবেশ করেন তারা। গরু নিয়ে যাওয়া হবে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাটে। ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার সময়ের মধ্যে যানজটের কারণে সময় লেগে গেছে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। দীর্ঘ সময় গরু দাঁড়িয়ে থাকায় বেশ কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

তার ওপর আবার পথে পথে পুলিশের তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি। চাঁদার টাকা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয়। তাই চাঁদার টাকা দিয়ে আসতে হয়। বেশ কয়েকজন বাসযাত্রী বলেন, ভাই কী আর বলব। প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে আছি। পুলিশের তেমন কোন ভূমিকা দেখছি না। ঈদের ১০ দিন আগেই যদি এ অবস্থা হয় সামনে কী অবস্থা হবে? তবে এ ধরনের চাঁদার বিষয়টি অস্বীকার করে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর বেনজির আহাম্মেদ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেব কুমার বলেন, আইন ভঙ্গকারী, কাগজপত্র সঠিক না পেলে ও বিকল হওয়া যানবাহনে রেকার লাগানো হয়ে থাকে। এছাড়া অপরাধ বিবেচনা করে মামলা দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়ক যোগে বহু চোরাই গাড়ি ও অবৈধ মালামাল আসা-যাওয়া করতে পারে।

তাই এসব রোধে যানবাহনগুলোর কাগজপত্র দেখা ও তল্লাশি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অত্যন্ত বেশি। যানজট থেকে জনসাধারণকে মুক্তি দিতে পুলিশ রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।